জনপদের খবর অনলাইন সংস্করণ | ঢাকা
তারিখ: শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬ | সময়: রাত ৭:২৯ মিনিট
চট্টগ্রাম ব্যুরো: বিএনপি সরকারের নতুন প্রস্তাবিত বাজেটে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রাকে মূলত ‘বাস্তবতাবিবর্জিত’ বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, বর্তমান যে কর বা রাজস্ব আদায়ের কাঠামো রয়েছে, তা দিয়ে এই বিশাল লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।
আজ শুক্রবার (১২ জুন ২০২৬) বিকেলে চট্টগ্রামের সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, “প্রস্তাবিত বাজেটে ৬ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের বিশাল লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে, যা মূলত বাস্তবতাবিবর্জিত। কারণ, বাংলাদেশের দীর্ঘ ইতিহাসে কখনোই এক অর্থ বছরে এত পরিমাণ রাজস্ব আদায় করা সম্ভব হয়নি। ফলে এই রূপরেখা কতটা মাঠপর্যায়ে সফল হবে, তা নিয়ে বড় সংশয় রয়েছে।”
সরকারের এই নতুন বাজেটকে ‘উচ্চাভিলাষী’ আখ্যা দিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক বলেন, “আমরা আশা করেছিলাম দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে এই বাজেটের মাধ্যমে অর্থনীতিতে বড় ধরনের কোনো সংস্কার আসবে। কিন্তু বর্তমান বাজেটের যে সামগ্রিক রূপরেখা ও কাঠামো আমরা দেখলাম, তাতে কোনো টেকসই অর্থনৈতিক সংস্কার সম্ভব হবে না।”
বাজেটের কিছু ইতিবাচক দিক ও সৃজনশীলতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “অবশ্যই বাজেটের কিছু ভালো দিকও রয়েছে। তারা কিছু সৃজনশীল জায়গা দেখিয়েছে। বেশ কিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের কর কমানো হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়েছে। এগুলো নিঃসন্দেহে ইতিবাচক উদ্যোগ; তবে শেষ পর্যন্ত তা কতটা স্বচ্ছতার সাথে বাস্তবায়নযোগ্য হবে—তা নিয়েই মূলত বড় প্রশ্ন থেকে যায়।”
দুর্নীতি ও জবাবদিহিতার প্রসঙ্গ টেনে নাহিদ ইসলাম তীব্র সমালোচনা করে বলেন, “এই বিশাল বাজেট কীভাবে দুর্নীতি বন্ধ করবে—তার কোনো সুনির্দিষ্ট কিংবা কার্যকর দিকনির্দেশনা এখানে নেই। বড় বাজেট মানেই তা নিয়ে একশ্রেণির মানুষের বড় ধরনের দুর্নীতি করারও সুযোগ তৈরি হওয়া। এই যেমন বিভিন্ন কার্ড বিতরণ কিংবা খাল খনন কর্মসূচির কথা বলা হচ্ছে; সেখানে ক্ষমতাসীন দলের এমপিরা ঢালাও বরাদ্দ পাচ্ছেন, কিন্তু বিরোধীদলীয় এমপিরা পাচ্ছেন না—তারা সেটি কীভাবে করছেন? অর্থাৎ কোথাও কোনো প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা নেই। বাজেটে চরম দুর্নীতি ও বড় বড় ঋণখেলাপিদের রুখতে কোনো কার্যকর পদক্ষেপের কথা বলা হয়নি।”

মোঃ আল আমিন কাজী 

















