
ঠাকুরগাঁও: ঠাকুরগাঁওবাসীর দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত স্বপ্ন ও বহুল প্রত্যাশিত মেডিকেল কলেজ স্থাপনের জন্য অবশেষে স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। সদর উপজেলার গড়েয়া সোটাপীর এলাকার পাশে অবস্থিত ‘সালন্দর ইক্ষু খামারে’ এই মেডিকেল কলেজটি স্থাপন করা হবে।
সোমবার (১৮ মে) গড়েয়া ফাজিল মাদ্রাসার বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোঃ আব্দুল হামিদ।
অবসান হচ্ছে দীর্ঘ প্রতীক্ষার
গড়েয়া ফাজিল মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোঃ আব্দুল হামিদ বলেন, “একটি মানসম্মত মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা করা ঠাকুরগাঁওয়ের সর্বস্তরের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি ছিল। অবশেষে সেই স্বপ্ন পূরণের পথে বড় অগ্রগতি হয়েছে। গড়েয়া সোটাপীরের পাশে সালন্দর ইক্ষু খামারে এই মেডিকেল কলেজ স্থাপনের চূড়ান্ত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”
তিনি আরও আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এই মেগা প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে অবহেলিত এই জেলার স্বাস্থ্যসেবা খাতে এক অভূতপূর্ব ও বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। একই সঙ্গে স্থানীয় ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের মেধাবী শিক্ষার্থীরা নিজেদের জেলাতেই উচ্চতর চিকিৎসা শিক্ষার এক অনন্য সুযোগ পাবে।
আঞ্চলিক উন্নয়ন ও উন্নত চিকিৎসাসেবা
সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, এই মেডিকেল কলেজটি শুধু ঠাকুরগাঁওয়ের জন্যই নয়, বরং আশপাশের জেলাগুলোর সাধারণ মানুষের জন্যও আশীর্বাদ হয়ে উঠবে। এর ফলে এই অঞ্চলের মানুষকে উন্নত ও জটিল চিকিৎসার জন্য দূর-দূরান্তে ছুটে যেতে হবে না। হাসপাতালটি চালু হলে এ অঞ্চলের সামগ্রিক শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আর্থ-সামাজিক অবস্থার দ্রুত উন্নয়ন ঘটবে।
মুখরিত ছিল মাদ্রাসা প্রাঙ্গণ
দিনব্যাপী উৎসবমুখর পরিবেশে গড়েয়া ফাজিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় মেতে ওঠে। প্রতিযোগিতা শেষে বিকেলে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিজয়ী ছাত্র-ছাত্রীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা।
মাদ্রাসার অধ্যক্ষের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষিকাবৃন্দ, বিপুল সংখ্যক অভিভাবক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
এদিকে মেডিকেল কলেজ স্থাপনের জন্য স্থান নির্ধারণের এই ঘোষণাকে সাদরে গ্রহণ করেছেন ঠাকুরগাঁওয়ের সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ। স্থানীয় বাসিন্দারা স্বস্তি প্রকাশ করে জানান, সালন্দর ইক্ষু খামারে মেডিকেল কলেজটি দ্রুত বাস্তবায়িত হলে জেলার স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতের দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কেটে যাবে।