
জনপদের খবর
চট্টগ্রাম ব্যুরো
তারিখ: মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬
চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ লাইন্স মাঠে অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে জেলা পুলিশের সদস্যদের অংশগ্রহণে ‘মাস্টার প্যারেড’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে এই প্যারেডের আয়োজন করা হয়, যেখানে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের বিভিন্ন পদমর্যাদার অফিসার ও ফোর্স স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।
প্যারেডে অংশগ্রহণকারী পুলিশ সদস্যদের কদম চালনা, চৌকস অভিবাদন, নিখুঁত শারীরিক কসরত এবং সুউচ্চ পেশাদারিত্বের এক উজ্জ্বল প্রতিফলন পুরো মাঠজুড়ে পরিলক্ষিত হয়। মাঠে উপস্থিত সকলে সদস্যদের এই কঠোর শৃঙ্খলার ভূয়সী প্রশংসা করেন।
কৃতি সদস্যদের পুরস্কৃত করলেন পুলিশ সুপার
অনুষ্ঠিত এই মাস্টার প্যারেডে অভিবাদন গ্রহণ ও সালাম পরিদর্শন করেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো: মাসুদ আলম বিপিএম। প্যারেড পরিদর্শন শেষে চমৎকার কুচকাওয়াজ ও দুর্দান্ত সালাম প্রদর্শনের মাধ্যমে দক্ষতার পরিচয় দেওয়ায় কৃতি পুলিশ সদস্যদের অভিনন্দন জানান এবং তাদের বিশেষ পুরস্কারে ভূষিত করেন তিনি।
প্যারেড মাঠে উপস্থিত পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যে পুলিশ সুপার মো: মাসুদ আলম বলেন, “শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্বই হচ্ছে পুলিশ বাহিনীর মূল চালিকাশক্তি। আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা ও স্বস্তি নিশ্চিত করতে আমাদের আরও বেশি সর্তক ও দায়িত্বশীল হতে হবে।” তিনি জেলা পুলিশের সকল পর্যায়ের সদস্যদের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা বজায় রেখে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশের কল্যাণে দায়িত্ব পালনের উদাত্ত আহ্বান জানান।
শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা বৃদ্ধির তাগিদ
পুলিশ সুপার তাঁর বক্তব্যে পুলিশ সদস্যদের মাঠ পর্যায়ের শারীরিক সক্ষমতা, মানসিক দৃঢ়তা এবং তাৎক্ষণিক পেশাগত প্রস্তুতি বৃদ্ধির ওপর বিশেষ জোর দেন। তিনি বলেন, অপরাধ দমন ও আইনি সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে হলে প্রতিটি পুলিশ সদস্যকে শারীরিকভাবে ফিট এবং মানসিকভাবে চাঙ্গা থাকতে হবে। আর এজন্য নিয়মিত পিটি ও প্যারেড অনুশীলনের কোনো বিকল্প নেই। নিয়মিত এই ধরনের কুচকাওয়াজ বাহিনীর অভ্যন্তরীণ মেলবন্ধন ও মনোবল বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
উল্লেখ্য, চট্টগ্রামে জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, মাদক ও অপরাধ নির্মূল এবং সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সর্বদা পেশাদারিত্ব, কড়া শৃঙ্খলা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করে যাচ্ছে। আজকের এই মাস্টার প্যারেড সদস্যদের মনোবল আরও দৃঢ় করবে এবং আসন্ন উৎসবের মৌসুমে জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও বেশি অনুপ্রেরণা জোগাবে বলে মনে করছেন জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।