জনপদের খবর অনলাইন সংস্করণ | ঢাকা
তারিখ: শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬ | সময়: সকাল ১০:৫০ মিনিট
জাতীয় ডেস্ক: আজ ১২ জুন (শুক্রবার), বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও সরকারি ও বেসরকারি নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হচ্ছে। কোমলমতি শিশুদের শ্রমের বাজার থেকে সরিয়ে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করা এবং তাদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই প্রতিবছর এই দিনটি স্মরণ করা হয়।
এ বছর দিবসটির বৈশ্বিক প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে— “শিশুশ্রমকে লাল কার্ড: শিশুদের জন্য ন্যায্যতা, প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য মর্যাদাপূর্ণ কাজ।” অন্যদিকে, এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় জাতীয়ভাবে সময়োপযোগী একটি প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করেছে, যা হলো— “শিশুশ্রমকে না বলি, শোভন কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করি।”
দিবসটি উপলক্ষে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) প্রকাশিত সর্বশেষ এক পরিসংখ্যান প্রতিবেদনে চোখ কপালে ওঠার মতো তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে বর্তমানে প্রায় ১৩ কোটি ৮০ লাখ শিশু প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বিভিন্ন ধরনের শ্রমে জড়িত। এর চেয়েও উদ্বেগের বিষয় হলো, এর মধ্যে প্রায় ৫ কোটি ৪০ লাখ ব্যবস্থার চেয়েও বেশি শিশু অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত রয়েছে; যা প্রতিনিয়ত তাদের শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক বিকাশের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করছে।
সমাজবিজ্ঞানী ও শিশু অধিকার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উন্নয়নশীল দেশগুলোতে এই সমস্যা দিন দিন আরও প্রকট আকার ধারণ করছে। মূলত চরম দারিদ্র্য, শিক্ষার অভাব, সামাজিক বৈষম্য এবং অপ্রাতিষ্ঠানিক শ্রমবাজারের লাগামহীন বিস্তারই শিশুদের শ্রমের দিকে ঠেলে দেওয়ার প্রধান কারণ। অনেক পরিবারই কেবল জীবন ও জীবিকার তাগিদে তাদের সন্তানদের অল্প বয়সেই হাড়ভাঙা খাটুনির কাজে যুক্ত করতে বাধ্য হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, শিশুশ্রম শুধু একটি বড় ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘনই নয়, এটি একটি পুরো ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সম্ভাবনাকে অঙ্কুরেই বিনষ্ট করে দেয়। তাই এই বৈশ্বিক সমস্যা মোকাবিলায় শুধু চটকদার স্লোগান বা দিবসভিত্তিক কর্মসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে—সরকার, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও নাগরিক সমাজকে সমন্বিত এবং কার্যকর উদ্যোগ নিয়ে মাঠপর্যায়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন মহল।

মোঃ আল আমিন কাজী 

















