
জনপদের খবর অনলাইন সংস্করণ | ঢাকা
তারিখ: মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬ | সময়: বিকেল ৫:৪৫ মিনিট
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটি শেষে রাজধানী ঢাকায় বাণিজ্যিক ও দাপ্তরিক কর্মকাণ্ড পুরোপুরি শুরু হলেও ব্যাংকিং সেবায় চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে সাধারণ গ্রাহকদের। বিশেষ করে দেশের অন্যতম শীর্ষ বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠান ডাচ-বাংলা ব্যাংক পিএলসি-এর অটোমেটেড টেলার মেশিন (এটিএম) বুথগুলোতে তীব্র নগদ অর্থের সংকট দেখা দিয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার বুথগুলোতে টাকা না পেয়ে কার্ডধারী সাধারণ গ্রাহক এবং মোবাইল ব্যাংকিং সেবা ‘রকেট’-এর ব্যবহারকারীরা চরম বিপাকে পড়েছেন।
আজ মঙ্গলবার (৯ জুন ২০২৬) সকালে রাজধানীর অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক এলাকা মতিঝিলের দিলকুশা রোডে ডাচ-বাংলা ব্যাংকের লোকাল অফিস সংলগ্ন এটিএম বুথে গিয়ে দেখা যায়, বুথটির অর্ধেক শাটার নামানো রয়েছে। ভেতরে কোনো টাকা নেই। বুথের দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তারক্ষী জানান, “বুথে গত কয়েকদিন ধরেই টাকা নেই। ওপরের অফিস থেকেও টাকা সরবরাহ করতে কেউ আসছেন না। তাই টাকা তুলতে আসা গ্রাহকদের বাধ্য হয়ে আমরা অন্য বুথে যাওয়ার অনুরোধ করছি।”
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই চিত্র কেবল মতিঝিলেই সীমাবদ্ধ নয়। রাজধানীর মুগদা, মানিকনগর, বাসাবোসহ বিভিন্ন এলাকার ডাচ-বাংলার বুথগুলোতেও একই ধরনের অচল অবস্থা বিরাজ করছে। গতকাল সোমবার বিকেল থেকে শুরু করে আজ সারাদিন এসব এলাকার বুথ থেকে অনেক গ্রাহককে খালি হাতে ফিরে যেতে দেখা গেছে।
মুগদার একটি বুথে টাকা তুলতে আসা ভুক্তভোগী গ্রাহক মুন্না জানান, “জরুরি প্রয়োজনে নগদ টাকার জন্য গুলশানের দুটি বুথে গিয়েছিলাম, কিন্তু কোথাও টাকা পাইনি। ভেবেছিলাম নিজের এলাকায় এসে টাকা তুলতে পারব, কিন্তু এখানে এসেও দেখি বুথ খালি। ডাচ-বাংলার মতো বড় ব্যাংকের যদি এই অবস্থা হয়, তবে আমরা কোথায় যাব?”
আরেক ভুক্তভোগী নারী গ্রাহক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “গত দুদিন ধরে মুগদা ও এর আশপাশের বুথগুলোতে হন্যে হয়ে ঘুরছি। আমার কাছে ব্যাংকের চেক বই নেই, এটিএম কার্ডই একমাত্র ভরসা। বুথে টাকা না থাকায় বাধ্য হয়ে আজ আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে ধার করে জরুরি কাজ চালাতে হচ্ছে।”
এ বিষয়ে মুগদা বুথের নিরাপত্তারক্ষী জানান, প্রতিদিন শত শত মানুষ কার্ড হাতে নিয়ে বুথে আসছেন এবং টাকা না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে চলে যাচ্ছেন। ব্যাংক থেকে টাকা ভর্তি (ক্যাশ লোড) না করা পর্যন্ত তাদেরও কিছু করার নেই।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উৎসবের ছুটির পর ব্যাংকগুলো খোলার সাথে সাথেই এটিএম বুথগুলোতে দ্রুত ক্যাশ রিফিল করার নিয়ম থাকলেও ডাচ-বাংলা ব্যাংকের এই ধীরগতির কারণে সাধারণ গ্রাহকদের দৈনন্দিন লেনদেন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। জরুরি ভিত্তিতে বুথগুলোতে পর্যাপ্ত টাকা সরবরাহ করে স্বাভাবিক সেবা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী সাধারণ নগরবাসী।

মোঃ আল আমিন কাজী 






















