জনপদের খবর অনলাইন সংস্করণ | ঢাকা
তারিখ: বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬ | সময়: রাত ৯:০০ টা
মো: মিঠু মিয়া, গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি: গাইবান্ধা জেলার সার্বিক সামাজিক সম্প্রীতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এক বিশেষ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন ২০২৬) বেলা ১১টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এই সভায় জেলার সাম্প্রতিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে পলাশবাড়ী উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নে একটি রামমন্দির নির্মাণকে কেন্দ্র করে স্থানীয়ভাবে সৃষ্ট উত্তেজনা নিরসনের বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ সভায় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য রাখেন ও দিকনির্দেশনা দেন সুন্দরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাজেদুর রহমান, গাইবান্ধা সদর-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল করিম সরকার, সাদুল্লাপুর-পলাশবাড়ী-৩ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কাওছার মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, গোবিন্দগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম কায়সার লিংকন এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক ডা. ময়নুল হাসান সাদিক।
উক্ত সভায় সম্মেলন কক্ষে সরাসরি উপস্থিত ছিলেন গাইবান্ধার পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) একেএম হেদায়েতুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুন নবী টিটুলসহ জেলাপর্যায়ের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এবং হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের ধর্মীয় নেতারা।
ঘণ্টাব্যাপী চলা এই আলোচনা সভায় পলাশবাড়ী উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নে রামমন্দির নির্মাণকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মাঝে যে একধরনের উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তা যেন কোনোভাবেই বড় কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত বা অপ্রীতিকর ঘটনায় রূপ নিতে না পারে, সে বিষয়ে দ্রুত ও কার্যকর প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর জোর দেওয়া হয়।
সভায় অংশগ্রহণকারী হিন্দু ও মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের ধর্মীয় নেতারা অত্যন্ত দায়িত্বশীল বক্তব্য রাখেন। তাঁরা জেলার দীর্ঘদিনের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানান এবং পরিস্থিতি শান্ত রাখতে সকল পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের অনুরোধ করেন। একই সাথে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট বিতর্কিত সম্পদের মূল উৎস এবং অর্থায়নের বিষয়টি সরকারি পর্যায়ে সুষ্ঠু তদন্ত করার দাবি জানানো হয়।
সভায় বক্তারা বলেন, গাইবান্ধা জেলা যুগে যুগে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য ও উজ্জ্বল উদাহরণ। এই জেলার শান্তি-শৃঙ্খলা, ঐতিহ্য এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্য বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, জেলা প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং স্থানীয় ধর্মীয় নেতাদের সমন্বিতভাবে একযোগে মাঠপর্যায়ে কাজ করতে হবে। কোনো ধরনের উসকানিতে কান দেওয়া যাবে না।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা সবাইকে আশ্বস্ত করে বলেন, “জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসন সর্বদা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। কোনো পক্ষ বা কোনো ব্যক্তি যেন কোনো অবস্থাতেই আইন নিজের হাতে তুলে নিতে না পারে এবং আমাদের বহু বছরের সামাজিক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে না পারে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে অত্যন্ত দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।”

মোঃ আল আমিন কাজী 

















