ধর্ম ও জীবন ডেস্ক, জনপদের খবর:
পার্থিব জীবনে একটি নেক কাজ যেমন ক্রমান্বয়ে বহু সৎকাজের পথ খুলে দেয়, ঠিক তেমনি একটি পাপ বা অন্যায় মানুষকে একের পর এক বহু পাপের অন্ধগলিতে টেনে নিয়ে যায়। ইসলামি চিন্তাবিদ ও গবেষকদের মতে, মানবজীবনের প্রতিটি কর্ম একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করে; তাই প্রতিটি পদক্ষেপে নেক আমলের ধারাবাহিকতা রক্ষা করা এবং অন্যায়ের পথ থেকে দূরে থাকা অত্যন্ত জরুরি।
আলোচকরা দৃষ্টান্ত দিয়ে বলেন, কোনো মানুষ যখন দ্বীনি মজলিশ বা সৎকাজে অংশ নেওয়ার নিয়ত করে, তখন পথচলা, মজলিশে বসা, ধৈর্য সহকারে সত্যবাণী শ্রবণ করা এবং পরবর্তীতে তা জীবনে বাস্তবায়নের সংকল্প—প্রতিটি পদক্ষেপে নেক আমলের পরিধি প্রসারিত হতে থাকে। জান্নাতের একাধিক প্রবেশদ্বার থাকবে এবং মানুষ দুনিয়াতে যে ধরনের সৎকাজে বেশি আত্মনিয়োগ করবে, পরকালে সে অনুযায়ী তাকে বিশেষ দরজা দিয়ে জান্নাতে আহ্বান জানানো হবে।
বিপরীতে, একটি মাত্র অন্যায় মানুষকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিতে পারে। অন্যায় পথে চলতে গিয়ে মিথ্যা, প্রতারণা ও ষড়যন্ত্রের মতো বহু অপরাধে মানুষ জড়িয়ে পড়ে। পবিত্র কুরআনে স্পষ্টভাবে সতর্ক করা হয়েছে যে, শেষ বিচারের দিনে কোনো পাপী অপর কাউকে রক্ষা করতে পারবে না। সেদিন মিথ্যা আশা, অন্ধ আনুগত্য কিংবা ভণ্ড পথপ্রদর্শকের অনুসরণ কোনো উপকারে আসবে না; বরং একে অপরকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগে পারস্পরিক কলহে লিপ্ত হবে।
হাদিস শরিফে হাশরের ময়দানের ভয়াবহতার কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, সেই কঠিন দিনে সমগ্র মানবজাতি চরম ভয় ও উদ্বেগের মধ্যে থাকবে। সেই ভীতিকর পরিস্থিতিতে মানুষ এতটাই নিজের পরিণতি নিয়ে চিন্তিত থাকবে যে কেউ কারও দিকে তাকানোর মতো অবকাশও পাবে না। কোনো পার্থিব সম্পর্ক, আত্মীয়তা বা জাগতিক পরিচয় সেদিন মুক্তির উপায় হবে না।
ইসলামি স্কলাররা জোর দিয়ে বলেন, কোনো ব্যক্তি বা ভণ্ড মতবাদের অন্ধ অনুসারী হয়ে পরকালে পার পাওয়ার ভ্রান্ত ধারণায় ডুবে থাকা যাবে না। খাঁটি ঈমান, নিয়মিত ফরজ ইবাদত এবং কুরআন-সুন্নাহর বিধান অনুযায়ী ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবন পরিচালনা করাই পরকালীন মুক্তির একমাত্র পথ।

মোঃ আল আমিন কাজী 








