জনপদের খবর অনলাইন সংস্করণ | ঢাকা
তারিখ: বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬ | সময়: দুপুর ২:৩০ মিনিট
হিলি (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় সপ্তাহের ব্যবধানে দিনাজপুরের হাকিমপুরের হিলি বাজারে পেঁয়াজের দাম কেজিতে ৫ টাকা করে কমেছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পণ্যের দাম কমায় হিলির খেটে খাওয়া ও নিম্ন আয়ের মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ যদি এমন স্বাভাবিক থাকে তবে আগামীতে দাম আরও কমতে পারে।
আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন ২০২৬) সরেজমিনে হিলি বাজার ঘুরে দেখা যায়, বাজারের আড়ত ও খুচরা দোকানগুলোতে দেশি পেঁয়াজের পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। সরবরাহ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দামও আগের তুলনায় বেশ কমতির দিকে। মাত্র দুদিন আগেও যে পেঁয়াজ হিলি বাজারে খুচরা ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছিল, বর্তমানে তা ৫ টাকা কমে ৩৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
হিলি বাজারে পেঁয়াজ কিনতে আসা সাধারণ ক্রেতা আরিফুল ইসলাম বলেন, “আমাদের মতো সীমিত আয়ের মানুষের রোজগার কম। তার ওপর কিছুদিন ধরে পেঁয়াজের দাম বাড়তি থাকায় বেশ হিমশিম খেতে হচ্ছিল। আগে ৪০ টাকা কেজি হওয়ায় বাধ্য হয়ে পরিবারে যতটুকু প্রয়োজন, তার চেয়ে কম পরিমাণে কিনতে হচ্ছিল। আজ বাজারে এসে দেখি কেজিতে ৫ টাকা কমে ৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দামটা একটু কমায় আমাদের মতো সাধারণ ক্রেতাদের সুবিধা হয়েছে, এখন চাহিদা অনুযায়ী কিনতে পারছি। সরকারের কাছে দাবি, পেঁয়াজের দাম যেন আর না বাড়ে।”
হিলি বাজারের খুচরা পেঁয়াজ বিক্রেতা সাকিল আহমেদ বলেন, “বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ বেশ ভালো থাকায় দাম দীর্ঘদিন ধরেই স্বাভাবিক ছিল। তবে গত দুদিন ধরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৈরী আবহাওয়ার কারণে মোকামগুলোতে পেঁয়াজ ওঠানো ও পরিবহনে কিছুটা সমস্যা হয়। ফলে মোকামে পেঁয়াজের সরবরাহ সাময়িক কমে যাওয়ায় দাম কিছুটা বেড়ে গিয়েছিল। আমাদের নিজেদেরই মোকাম থেকে খরচসহ ৩৭ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ কিনতে হয়েছিল, যা আমরা ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছিলাম।”
সাকিল আহমেদ আরও জানান, “আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় মোকামে আবারও পেঁয়াজের আমদানি বা সরবরাহ বেড়েছে। এখন আমরা মোকাম থেকে ৩৩ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ কিনছি এবং পরিবহন খরচ মিলিয়ে সাধারণ ক্রেতাদের কাছে ৩৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছি। সরবরাহ এমন থাকলে দাম আরও কমতে পারে।”
এদিকে বাজারে পেঁয়াজের এই মূল্য হ্রাস ও সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তৎপর রয়েছে প্রশাসন। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর দিনাজপুরের সহকারী পরিচালক বোরহান উদ্দিন জানান, “বাজারে কেউ যেন কৃত্রিম সংকট তৈরি করে পেঁয়াজের দাম বাড়াতে না পারে, সে লক্ষ্যে আমরা কঠোরভাবে কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের দায়িত্বপূর্ণ এলাকার বাজারগুলোতে নিয়মিত তদারকি ও অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা কত দামে পেঁয়াজ কিনছেন এবং কত দামে বিক্রি করছেন, তা নিয়মিত যাচাই করা হচ্ছে। যদি কোনো অসাধু ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে অতিরিক্ত দাম নেওয়ার বা কারসাজির প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে আর্থিক জরিমানাসহ কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

মোঃ আল আমিন কাজী 






















