সাভার প্রতিনিধি:
ঢাকার সাভারে অটোরিকশা চুরির অপবাদ দিয়ে আবুল খায়ের পাটোয়ারী (৩০) নামে এক মানসিক ভারসাম্যহীন যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত অটোরিকশাচালক ও গ্যারেজ মালিকসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আজ বুধবার (২২ জুলাই) দুপুরে সাভার মডেল থানা পুলিশ গ্রেফতারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়।
এর আগে গত সোমবার (২০ জুলাই) দুপুরে সাভার পৌরসভার উলাইল এলাকার একটি অটোরিকশা গ্যারেজে অনাকাঙ্ক্ষিত গণপিটুনির শিকার হয়ে মারা যান আবুল খায়ের পাটোয়ারী। নিহত আবুল খায়ের চাঁদপুর সদর উপজেলার কল্যাণপুর দাসাদী গ্রামের লোকমান পাটোয়ারীর ছেলে।
‘দুই দিন ধরে ভাত খাইনি’ আকুতির পর নির্মম প্রহার
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার সকালে সাভারের উলাইল এলাকায় অটোরিকশাচালক সবুজ (শুভ) তাঁর ছোট ছেলেকে অটোরিকশা পাহারায় রেখে কাছেই বাসায় খাবার খেতে যান। এ সময় ভিটেমাটিহীন বা দূর থেকে হেঁটে আসা ক্ষুধার্ত আবুল খায়ের অটোরিকশার কাছে এসে শিশুটিকে উদ্দেশ্যে করে বলেন, “দুই দিন ধরে ভাত খাইনি, ভাত নিয়ে আসতে বল”।
শিশুটির মাধ্যমে খবর পেয়ে চালক সবুজ দ্রুত ঘটনাস্থলে ফিরে এসে আবুল খায়েরকে অটোরিকশার হ্যান্ডেল ধরে বসে থাকতে দেখেন। অটোরিকশা চুরির চেষ্টা করা হচ্ছে—এমন সন্দেহে চালক সেখানে হট্টগোল শুরু করলে আশপাশের লোকজন জড়ো হয়ে ওই যুবককে মারধর করে। পরবর্তীতে তাকে উলাইল এলাকার নুরুজ্জামানের অটোরিকশা গ্যারেজে নিয়ে যাওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, সেখানে গ্যারেজ মালিক ও কয়েকজন অটোরিকশাচালক তাকে পুনরায় আঘাত করেন।
গুরুতর আহত অবস্থায় আবুল খায়ের নিস্তেজ হয়ে পড়লে দুপুরের দিকে গ্যারেজ মালিক নুরুজ্জামান ও অন্য এক ব্যক্তি তাকে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করলে ভয়ে লাশ হাসপাতালে ফেলেই সঙ্গে আসা ব্যক্তিরা সটকে পড়েন।
ভিকটিম মানসিক ভারসাম্যহীন, পুলিশের আইনানুগ পদক্ষেপ
সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক কামরুন্নাহার জানান, গত সোমবার দুপুরে দুই ব্যক্তি এক যুবককে হাসপাতালে নিয়ে এসেছিলেন। পরীক্ষা করে তাঁকে মৃত পাওয়া যায় এবং নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে তাৎক্ষণিকভাবে সাভার থানা পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
নিহতের প্রতিবেশী আব্দুল মোতালেব হোসেন জানান, “আবুল খায়ের মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। গত রবিবার (১৯ জুলাই) ভোরে তিনি চাঁদপুরের গ্রামের বাড়ি থেকে কাউকে না জানিয়ে বের হয়ে যান। পরিবার অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাচ্ছিল না। পরবর্তীতে পুলিশ মারফত তাঁর মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়।”
এদিকে গ্রেফতারের পর গ্যারেজ মালিক নুরুজ্জামান দাবি করেন, চোর সন্দেহে অন্য জায়গা থেকে মারধর করে যুবকটিকে তাঁর গ্যারেজে আনা হয়েছিল। গ্যারেজেও কয়েকজন চালক তাঁকে মারধর করে, তবে তিনি নিজে সরাসরি আঘাত করেননি বলে জানান। পরবর্তীতে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তিনি হাসপাতালে নিয়ে যান এবং চিকিৎসকের ঘোষণার পর ভয়ে চলে আসেন।
ঘটনার বিষয়ে সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নূর মোহাম্মদ জানান, অটোরিকশা চুরির অপবাদে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় নিহতের পরিবারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে অটোরিকশাচালক ও গ্যারেজ মালিকসহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আজ বুধবার দুপুরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনার সঙ্গে অন্য কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মোঃ আল আমিন কাজী 


















