ঢাকা , বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সোনারগাঁয়ে আইনশৃঙ্খলা সভা: মহাসড়কে যানজট নিরসন ও অবৈধ চুনা কারখানা বন্ধে কড়া নির্দেশ বগুড়ায় যমুনা-বাঙালির পানি বৃদ্ধি: তলিয়ে গেছে শত শত একর ফসল, তীব্র ভাঙনে ভিটেমাটি হারানোর আতঙ্ক সাভারে চোর অপবাদে পিটিয়ে যুবক হত্যা: অটোরিকশাচালক ও গ্যারেজ মালিকসহ গ্রেফতার ৩ কারাগারে নৈতিক স্খলনের অভিযোগে জামায়াত থেকে এমপি গাজী নজরুল ইসলাম বহিষ্কৃত বুধবারে কেনাকাটার পরিকল্পনা? জেনে নিন রাজধানীর যেসব এলাকার মার্কেট আজ বন্ধ ঢাকাসহ ১৭ অঞ্চলে ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস, নদীবন্দরে ১ নম্বর সংকেত রোগ প্রতিরোধ ও রূপচর্চায় কাঁচা হলুদ: সুস্থতায় প্রাকৃতিক উপাদানটির বিস্ময়কর গুণাবলী প্রধানমন্ত্রীর সহকারী (রাজনৈতিক) হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নিলেন সচিব পদমর্যাদার রাশেদ খাঁন প্রশাসকদের সমন্বিত উদ্যোগে ডেঙ্গু প্রতিরোধে নতুন গতি এসেছে: প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম মালিতে অতর্কিত হামলায় অন্তত ৫০ সেনা নিহত, অন্তত ২৪ জনকে বন্দি করার দাবি দেশের ১৭ অঞ্চলে দুপুরের মধ্যে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের শঙ্কা, নদীবন্দরে ১ নম্বর সংকেত ২য় প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশ স্কোয়াশে আজিজের বাজিমাৎ: বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটিতে জমকালো সমাপনী কুরআন ও আধুনিক বিজ্ঞানের আলোকে ‘জীবন্ত মাটি’: অণুজীবের অদেখা জগৎ ও প্রকৃতির জীবনচক্র রাজধানীর বেশ কিছু এলাকায় আজ ৮ ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহ বন্ধ ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার আজকের নামাজের সময়সূচি

বগুড়ায় যমুনা-বাঙালির পানি বৃদ্ধি: তলিয়ে গেছে শত শত একর ফসল, তীব্র ভাঙনে ভিটেমাটি হারানোর আতঙ্ক

বগুড়ায় যমুনা-বাঙালির পানি বৃদ্ধি: শত শত একর ফসল ধ্বংস, নদীভাঙনে ভিটেমাটি হারানোর আতঙ্ক | জনপদের খবর

বিশেষ প্রতিনিধি, বগুড়া:

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা ভারী বর্ষণে বগুড়ার প্রধান দুই নদী যমুনা ও বাঙালির পানি আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। যদিও যমুনা নদীর পানি এখনও বিপদসীমার ৪০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, তবে এরই মধ্যে উপকূলীয় নিচু এলাকা ও চরগুলোতে সৃষ্টি হয়েছে মারাত্মক বন্যা ও নদীভাঙন পরিস্থিতি। সারিয়াকান্দি, সোনাতলা ও ধুনট উপজেলায় রোপা আমনের বীজতলাসহ শত শত একর জমির ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। একই সঙ্গে শুরু হওয়া তীব্র ভাঙনে ঘরবাড়ি ও শেষ সম্বল রক্ষায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন নদীপাড়ের মানুষ।

পানিতে ভাসছে কৃষকের স্বপ্ন

নদীতে পানি বাড়ার সাথে সাথেই তিন উপজেলার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল ও প্লাবনভূমি জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে সোনাতলা উপজেলার তেকানীচুকাইনগর, পাকুল্যা ও সোনাতলা সদর ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি চরে আবাদ করা শত শত একর ফসলি জমি এখন পানির নিচে। একই পরিস্থিতি সারিয়াকান্দি ও ধুনট উপজেলাতেও।

আকস্মিক এই ঢলে আমন ধানের রোপিত চারা ও বীজতলা পচে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে। এতে চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে স্থানীয় কৃষকদের কপালে। ক্ষতিগ্রস্ত এক কৃষক আক্ষেপ করে বলেন,

“ধারদেনা করে অনেক কষ্টে এবার জমিতে ফসল ফলাইছিলাম। হঠাৎ পাহাড়ি ঢলের পানিতে সব তলিয়ে গেল। বীজতলা নষ্ট হয়ে গেলে এ বছর কীভাবে সংসার চলবে, সেই চিন্তায় রাতে ঘুম আসছে না।”

ধুনট ও সারিয়াকান্দিজুড়ে ভাঙনের তাণ্ডব

ফসলের ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি নদী তীরবর্তী এলাকাগুলোতে শুরু হয়েছে আশঙ্কাজনক নদীভাঙন। সারিয়াকান্দি উপজেলার বহাইল ইউনিয়নের চর মাঝিরা গ্রামে নতুন করে যমুনার ভাঙন শুরু হওয়ায় আতঙ্কিত ভিটেমাটি হারানো মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে নিজ হাতেই নিজেদের ঘরবাড়ি সরিয়ে নিচ্ছেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সারিয়াকান্দির হাটশেরপুর ইউনিয়নের চকরথীনাথ, ধনারপাড়া, করনজাপাড়া, শেরপুর, শিমুলবাড়ী, নয়াপাড়া, কর্ণিবাড়ী, দুব্বাগাড়ী, চালুয়াবাড়ী ইউনিয়নের সুজালিরপাড়া এবং বহাইল ইউনিয়নের চর মাঝিরা এলাকায় ২০১৫ সাল থেকেই যমুনার ভাঙন চলে আসছে। এ বছর পানি বাড়ার কারণে চর মাঝিরা গ্রামের বসতভিটা ও ফসলি জমি আবারও মারাত্মক হুমকিতে পড়েছে।

অন্যদিকে, ধুনট উপজেলায় যমুনা নদীর ভাঙন আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। ভাঙনের তোড়ে ইতোমধ্যেই শহড়বাড়ী স্পারের সামনের অংশ নদীর পেটে চলে গেছে। ভাণ্ডারবাড়ী ইউনিয়নে বর্ষার এক মাস যেতে না যেতেই যমুনার ডান তীরের প্রবল তোড়ে কৃষক পরিবারের বসতভিটা ও প্রায় ৫০০ বিঘা আবাদি জমি বিলীন হয়েছে। গত বছর একই ইউনিয়নের শহড়বাড়ী গ্রামে হঠাৎ ভাঙনে ৯টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নদীতে তলিয়ে গিয়েছিল। এবার ভাঙনের মুখ সরাসরি বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের দিকে ধেয়ে আসায় পুরো এলাকাবাসীর মাঝে তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে।

স্থায়ী সমাধানের দাবি ও পাউবোর তৎপরতা

প্রতি বছর বর্ষা মৌসুম এলেই এই নদীবেষ্টিত অঞ্চলে ভাঙনের তাণ্ডব শুরু হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, যুগ যুগ ধরে সাময়িক কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হলেও যমুনা ও বাঙালি নদীর ভাঙন রোধে স্থায়ী কোনো বাঁধ নির্মাণ করা হয়নি।

তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করার কথা জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড। বগুড়া পাউবোর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী হুমায়ুন কবির জানান:

  • যমুনা নদীতে উজানের ঢল ও বর্ষণের দরুন পানি দ্রুত বাড়ছে।
  • ভাঙন দেখা দেওয়া মাত্রই পাউবোর পক্ষ থেকে জরুরি পদক্ষেপ হিসেবে ক্ষতিগ্রস্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বালুভর্তি জিওব্যাগজিওটিউব ফেলা হচ্ছে।
  • তাৎক্ষণিক এই প্রতিরক্ষা কাজ ভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সাময়িক এই জিওব্যাগ ডাম্পিংয়ে নদীপাড়ের মানুষ কিছুটা স্বস্তি পেলেও, তাদের একটাই দাবি—ত্রাণ বা সাময়িক ব্যবস্থা নয়, ভিটেমাটি রক্ষায় অতি দ্রুত একটি টেকসই ও স্থায়ী নদী রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হোক।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

সোনারগাঁয়ে আইনশৃঙ্খলা সভা: মহাসড়কে যানজট নিরসন ও অবৈধ চুনা কারখানা বন্ধে কড়া নির্দেশ

বগুড়ায় যমুনা-বাঙালির পানি বৃদ্ধি: তলিয়ে গেছে শত শত একর ফসল, তীব্র ভাঙনে ভিটেমাটি হারানোর আতঙ্ক

আপডেট সময় : ৪ ঘন্টা আগে

বিশেষ প্রতিনিধি, বগুড়া:

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা ভারী বর্ষণে বগুড়ার প্রধান দুই নদী যমুনা ও বাঙালির পানি আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। যদিও যমুনা নদীর পানি এখনও বিপদসীমার ৪০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, তবে এরই মধ্যে উপকূলীয় নিচু এলাকা ও চরগুলোতে সৃষ্টি হয়েছে মারাত্মক বন্যা ও নদীভাঙন পরিস্থিতি। সারিয়াকান্দি, সোনাতলা ও ধুনট উপজেলায় রোপা আমনের বীজতলাসহ শত শত একর জমির ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। একই সঙ্গে শুরু হওয়া তীব্র ভাঙনে ঘরবাড়ি ও শেষ সম্বল রক্ষায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন নদীপাড়ের মানুষ।

পানিতে ভাসছে কৃষকের স্বপ্ন

নদীতে পানি বাড়ার সাথে সাথেই তিন উপজেলার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল ও প্লাবনভূমি জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে সোনাতলা উপজেলার তেকানীচুকাইনগর, পাকুল্যা ও সোনাতলা সদর ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি চরে আবাদ করা শত শত একর ফসলি জমি এখন পানির নিচে। একই পরিস্থিতি সারিয়াকান্দি ও ধুনট উপজেলাতেও।

আকস্মিক এই ঢলে আমন ধানের রোপিত চারা ও বীজতলা পচে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে। এতে চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে স্থানীয় কৃষকদের কপালে। ক্ষতিগ্রস্ত এক কৃষক আক্ষেপ করে বলেন,

“ধারদেনা করে অনেক কষ্টে এবার জমিতে ফসল ফলাইছিলাম। হঠাৎ পাহাড়ি ঢলের পানিতে সব তলিয়ে গেল। বীজতলা নষ্ট হয়ে গেলে এ বছর কীভাবে সংসার চলবে, সেই চিন্তায় রাতে ঘুম আসছে না।”

ধুনট ও সারিয়াকান্দিজুড়ে ভাঙনের তাণ্ডব

ফসলের ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি নদী তীরবর্তী এলাকাগুলোতে শুরু হয়েছে আশঙ্কাজনক নদীভাঙন। সারিয়াকান্দি উপজেলার বহাইল ইউনিয়নের চর মাঝিরা গ্রামে নতুন করে যমুনার ভাঙন শুরু হওয়ায় আতঙ্কিত ভিটেমাটি হারানো মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে নিজ হাতেই নিজেদের ঘরবাড়ি সরিয়ে নিচ্ছেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সারিয়াকান্দির হাটশেরপুর ইউনিয়নের চকরথীনাথ, ধনারপাড়া, করনজাপাড়া, শেরপুর, শিমুলবাড়ী, নয়াপাড়া, কর্ণিবাড়ী, দুব্বাগাড়ী, চালুয়াবাড়ী ইউনিয়নের সুজালিরপাড়া এবং বহাইল ইউনিয়নের চর মাঝিরা এলাকায় ২০১৫ সাল থেকেই যমুনার ভাঙন চলে আসছে। এ বছর পানি বাড়ার কারণে চর মাঝিরা গ্রামের বসতভিটা ও ফসলি জমি আবারও মারাত্মক হুমকিতে পড়েছে।

অন্যদিকে, ধুনট উপজেলায় যমুনা নদীর ভাঙন আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। ভাঙনের তোড়ে ইতোমধ্যেই শহড়বাড়ী স্পারের সামনের অংশ নদীর পেটে চলে গেছে। ভাণ্ডারবাড়ী ইউনিয়নে বর্ষার এক মাস যেতে না যেতেই যমুনার ডান তীরের প্রবল তোড়ে কৃষক পরিবারের বসতভিটা ও প্রায় ৫০০ বিঘা আবাদি জমি বিলীন হয়েছে। গত বছর একই ইউনিয়নের শহড়বাড়ী গ্রামে হঠাৎ ভাঙনে ৯টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নদীতে তলিয়ে গিয়েছিল। এবার ভাঙনের মুখ সরাসরি বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের দিকে ধেয়ে আসায় পুরো এলাকাবাসীর মাঝে তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে।

স্থায়ী সমাধানের দাবি ও পাউবোর তৎপরতা

প্রতি বছর বর্ষা মৌসুম এলেই এই নদীবেষ্টিত অঞ্চলে ভাঙনের তাণ্ডব শুরু হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, যুগ যুগ ধরে সাময়িক কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হলেও যমুনা ও বাঙালি নদীর ভাঙন রোধে স্থায়ী কোনো বাঁধ নির্মাণ করা হয়নি।

তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করার কথা জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড। বগুড়া পাউবোর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী হুমায়ুন কবির জানান:

  • যমুনা নদীতে উজানের ঢল ও বর্ষণের দরুন পানি দ্রুত বাড়ছে।
  • ভাঙন দেখা দেওয়া মাত্রই পাউবোর পক্ষ থেকে জরুরি পদক্ষেপ হিসেবে ক্ষতিগ্রস্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বালুভর্তি জিওব্যাগজিওটিউব ফেলা হচ্ছে।
  • তাৎক্ষণিক এই প্রতিরক্ষা কাজ ভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সাময়িক এই জিওব্যাগ ডাম্পিংয়ে নদীপাড়ের মানুষ কিছুটা স্বস্তি পেলেও, তাদের একটাই দাবি—ত্রাণ বা সাময়িক ব্যবস্থা নয়, ভিটেমাটি রক্ষায় অতি দ্রুত একটি টেকসই ও স্থায়ী নদী রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হোক।