ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
তিস্তার ভয়াল থাবায় বিলীন বসতভিটা ও স্বেচ্ছাশ্রমে গড়া বাঁধ: গঙ্গাচড়ায় নিঃস্ব শত শত পরিবার সোনারগাঁয়ে আইনশৃঙ্খলা সভা: মহাসড়কে যানজট নিরসন ও অবৈধ চুনা কারখানা বন্ধে কড়া নির্দেশ বগুড়ায় যমুনা-বাঙালির পানি বৃদ্ধি: তলিয়ে গেছে শত শত একর ফসল, তীব্র ভাঙনে ভিটেমাটি হারানোর আতঙ্ক সাভারে চোর অপবাদে পিটিয়ে যুবক হত্যা: অটোরিকশাচালক ও গ্যারেজ মালিকসহ গ্রেফতার ৩ কারাগারে নৈতিক স্খলনের অভিযোগে জামায়াত থেকে এমপি গাজী নজরুল ইসলাম বহিষ্কৃত বুধবারে কেনাকাটার পরিকল্পনা? জেনে নিন রাজধানীর যেসব এলাকার মার্কেট আজ বন্ধ ঢাকাসহ ১৭ অঞ্চলে ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস, নদীবন্দরে ১ নম্বর সংকেত রোগ প্রতিরোধ ও রূপচর্চায় কাঁচা হলুদ: সুস্থতায় প্রাকৃতিক উপাদানটির বিস্ময়কর গুণাবলী প্রধানমন্ত্রীর সহকারী (রাজনৈতিক) হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নিলেন সচিব পদমর্যাদার রাশেদ খাঁন প্রশাসকদের সমন্বিত উদ্যোগে ডেঙ্গু প্রতিরোধে নতুন গতি এসেছে: প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম মালিতে অতর্কিত হামলায় অন্তত ৫০ সেনা নিহত, অন্তত ২৪ জনকে বন্দি করার দাবি দেশের ১৭ অঞ্চলে দুপুরের মধ্যে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের শঙ্কা, নদীবন্দরে ১ নম্বর সংকেত ২য় প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশ স্কোয়াশে আজিজের বাজিমাৎ: বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটিতে জমকালো সমাপনী কুরআন ও আধুনিক বিজ্ঞানের আলোকে ‘জীবন্ত মাটি’: অণুজীবের অদেখা জগৎ ও প্রকৃতির জীবনচক্র রাজধানীর বেশ কিছু এলাকায় আজ ৮ ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহ বন্ধ

তিস্তার ভয়াল থাবায় বিলীন বসতভিটা ও স্বেচ্ছাশ্রমে গড়া বাঁধ: গঙ্গাচড়ায় নিঃস্ব শত শত পরিবার

রংপুরের গঙ্গাচড়ায় তিস্তার তীব্র ভাঙন: বিলীন বসতভিটা, পানিবন্দি সহস্রাধিক পরিবার | জনপদের খবর

নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর:

উজানের পাহাড়ি ঢলে রংপুরের গঙ্গাচড়ায় তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মিত বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়ায় সহস্রাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। গত দু’দিনের তীব্র ভাঙনে পাঁচটি বসতভিটা, আবাদি জমি ও পুকুর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। মাথা গোঁজার শেষ সম্বলটুকু হারিয়ে তিস্তাপাড়ের মানুষের মাঝে এখন শুধুই হাহাকার।

সর্বস্বান্ত শাহজাহান মিয়ার কান্না

গঙ্গাচড়া উপজেলার নোহালী ইউনিয়নের কাচারীপাড়ার বাসিন্দা শাহজাহান মিয়া। গত কয়েক দিনের ভাঙনে তিনি তার ১১ একর জমি, ৮০ শতকের বসতভিটা এবং দেড় একরের একটি বিশাল পুকুর তিস্তার বুকে হারিয়েছেন।

বুধবার বিকেলে কান্নাজড়িত কণ্ঠে সর্বস্বান্ত এই মানুষটি বলেন,

“মোর আর কিছু থাকিল না। সউগ নদী কাড়ি নিল। প্রশাসন, এমপিক কত কনু নদী কোনা বান্দি দেন। কাউয়ো মোর কতা শুনিল না। এই যে নদী সউগ নিয়া গেইল, মোর এই ক্ষতি কায় পুষে দিবে।”

শুধু শাহজাহান মিয়াই নন, গত দু’দিনে তিস্তার নির্মম শিকারে পরিণত হয়েছেন নোহালী গ্রামের আব্দুল করিম এবং কাচারীপাড়ার সুরুজ মিয়া, সাহাজুল মিয়া ও সুলতানা বেগম। চোখের সামনেই তাদের সাজানো বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

হুমকিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও উপাসনালয়

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নোহালী চর বাগডোহরা, চিলাখাল এবং কাচারীপাড়ার বিস্তীর্ণ এলাকা এখন ভাঙনের মুখে। প্রাথমিক বিদ্যালয়, মসজিদ-মাদ্রাসা, মন্দিরসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও রাস্তাঘাট যে কোনো সময় নদীতে বিলীন হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

উজানের ঢলে গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে। তিস্তার পানির প্রবল তোড়ে সম্প্রতি নোহালী গ্রামে স্থানীয়দের স্বেচ্ছাশ্রমে গড়া বাঁধটির প্রায় দেড়শ মিটার অংশ ভেঙে যায়। এতে হু হু করে নদীর পানি গ্রামে ঢুকে পড়ে এবং সহস্রাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড ও প্রশাসনের পদক্ষেপ

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, বুধবার সন্ধ্যা ৬টায় তিস্তা নদীর ডালিয়া পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ১৭ সেন্টিমিটার এবং কাউনিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ৩৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।

ভাঙন পরিস্থিতি নিয়ে গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেসমিন আক্তার বলেন, “ইতোমধ্যেই ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। ভাঙন রোধে জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

এদিকে, ভাঙন ঠেকাতে কাজ শুরু করেছে পাউবো। এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম জানান, “নোহালীতে ভাঙন রোধে সাড়ে ৪ হাজার জিও ব্যাগ বরাদ্দ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে বরাদ্দকৃত জিও ব্যাগ নদীতে ফেলার কাজ শুরু হয়েছে। আশা করছি, এর মাধ্যমে ভাঙন প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।”

জনপ্রিয় সংবাদ

তিস্তার ভয়াল থাবায় বিলীন বসতভিটা ও স্বেচ্ছাশ্রমে গড়া বাঁধ: গঙ্গাচড়ায় নিঃস্ব শত শত পরিবার

তিস্তার ভয়াল থাবায় বিলীন বসতভিটা ও স্বেচ্ছাশ্রমে গড়া বাঁধ: গঙ্গাচড়ায় নিঃস্ব শত শত পরিবার

আপডেট সময় : ৩ ঘন্টা আগে

নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর:

উজানের পাহাড়ি ঢলে রংপুরের গঙ্গাচড়ায় তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মিত বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়ায় সহস্রাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। গত দু’দিনের তীব্র ভাঙনে পাঁচটি বসতভিটা, আবাদি জমি ও পুকুর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। মাথা গোঁজার শেষ সম্বলটুকু হারিয়ে তিস্তাপাড়ের মানুষের মাঝে এখন শুধুই হাহাকার।

সর্বস্বান্ত শাহজাহান মিয়ার কান্না

গঙ্গাচড়া উপজেলার নোহালী ইউনিয়নের কাচারীপাড়ার বাসিন্দা শাহজাহান মিয়া। গত কয়েক দিনের ভাঙনে তিনি তার ১১ একর জমি, ৮০ শতকের বসতভিটা এবং দেড় একরের একটি বিশাল পুকুর তিস্তার বুকে হারিয়েছেন।

বুধবার বিকেলে কান্নাজড়িত কণ্ঠে সর্বস্বান্ত এই মানুষটি বলেন,

“মোর আর কিছু থাকিল না। সউগ নদী কাড়ি নিল। প্রশাসন, এমপিক কত কনু নদী কোনা বান্দি দেন। কাউয়ো মোর কতা শুনিল না। এই যে নদী সউগ নিয়া গেইল, মোর এই ক্ষতি কায় পুষে দিবে।”

শুধু শাহজাহান মিয়াই নন, গত দু’দিনে তিস্তার নির্মম শিকারে পরিণত হয়েছেন নোহালী গ্রামের আব্দুল করিম এবং কাচারীপাড়ার সুরুজ মিয়া, সাহাজুল মিয়া ও সুলতানা বেগম। চোখের সামনেই তাদের সাজানো বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

হুমকিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও উপাসনালয়

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নোহালী চর বাগডোহরা, চিলাখাল এবং কাচারীপাড়ার বিস্তীর্ণ এলাকা এখন ভাঙনের মুখে। প্রাথমিক বিদ্যালয়, মসজিদ-মাদ্রাসা, মন্দিরসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও রাস্তাঘাট যে কোনো সময় নদীতে বিলীন হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

উজানের ঢলে গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে। তিস্তার পানির প্রবল তোড়ে সম্প্রতি নোহালী গ্রামে স্থানীয়দের স্বেচ্ছাশ্রমে গড়া বাঁধটির প্রায় দেড়শ মিটার অংশ ভেঙে যায়। এতে হু হু করে নদীর পানি গ্রামে ঢুকে পড়ে এবং সহস্রাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড ও প্রশাসনের পদক্ষেপ

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, বুধবার সন্ধ্যা ৬টায় তিস্তা নদীর ডালিয়া পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ১৭ সেন্টিমিটার এবং কাউনিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ৩৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।

ভাঙন পরিস্থিতি নিয়ে গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেসমিন আক্তার বলেন, “ইতোমধ্যেই ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। ভাঙন রোধে জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

এদিকে, ভাঙন ঠেকাতে কাজ শুরু করেছে পাউবো। এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম জানান, “নোহালীতে ভাঙন রোধে সাড়ে ৪ হাজার জিও ব্যাগ বরাদ্দ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে বরাদ্দকৃত জিও ব্যাগ নদীতে ফেলার কাজ শুরু হয়েছে। আশা করছি, এর মাধ্যমে ভাঙন প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।”