মোঃ আল আমিন কাজী, বিশেষ প্রতিবেদক, ঢাকা:
জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে রাজধানীর উত্তরায় মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধসহ ১১ জনকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আজ আসামিপক্ষের আইনজীবীরা অব্যাহতির (ডিসচার্জ) আবেদনের ওপর শুনানি করবেন।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে আলোচিত এই মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
প্রসিকিউশনের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ও পূর্ববর্তী শুনানি
এর আগে, গত ২১ জুলাই এ মামলায় প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি শেষ হয়। ওই দিন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম আসামিদের বিরুদ্ধে আনা দুটি মূল অভিযোগ আদালতের সামনে তুলে ধরেন এবং আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) গঠনের জোর আবেদন জানান। তিনি ট্রাইব্যুনালে ঘটনার বিবরণ, নির্মম হত্যাকাণ্ড এবং প্রতিটি আসামির নির্দিষ্ট ভূমিকা সবিস্তারে উপস্থাপন করেন।
প্রসিকিউশনের শুনানি শেষে আসামিপক্ষের শুনানি শুরু হয়। সেদিন স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী আমির হোসেন তার চার মক্কেলের অব্যাহতি চেয়ে দাবি করেন যে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়েই তাদেরকে এই মামলায় আসামি করা হয়েছে। একইভাবে আরেক স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী এম হাসান ইমামও তার মক্কেলদের অব্যাহতির আবেদন জানান।
আজকের শুনানিতে যা হতে পারে
গত ধার্য তারিখে আসামিপক্ষের বাকি আইনজীবীদের শুনানি অসমাপ্ত থাকায় ট্রাইব্যুনাল আজকের (বৃহস্পতিবার) দিনটি শুনানির জন্য নির্ধারণ করেছিলেন। আজ আসামিপক্ষের শুনানি শেষ হলে আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করবেন কি না এবং বিচার শুরুর আদেশের জন্য পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গ্রেপ্তার ও পলাতক আসামিদের চিত্র
ট্রাইব্যুনাল সূত্রে জানা যায়, চাঞ্চল্যকর এই মামলায় মোট ২৬ জন আসামির মধ্যে বর্তমানে আটজন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) উত্তরা বিভাগের সাবেক অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মির্জা সালাহউদ্দিন, উত্তরা পূর্ব থানার সাবেক ওসি মো. মজিবুর রহমান এবং আজমপুর পুলিশ ফাঁড়ির সাবেক কনস্টেবল মো. হোসেন আলী।
রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে রয়েছেন—উত্তরা পশ্চিম থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মনোয়ার ইসলাম চৌধুরী রবিন, যুবলীগ সভাপতি মো. দেলোয়ার হোসেন রুবেল, আওয়ামী লীগ নেতা মো. সোহেল রানা, ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি মো. শাহ আলম এবং তুরাগ থানা এলাকার আওয়ামী লীগ কর্মী মো. ইরফানুল হক গাজী। মামলার বাকি ১৮ আসামি এখনও পলাতক রয়েছেন।
পরিকল্পিত হত্যাযজ্ঞ ও মানবতাবিরোধী অপরাধ
মামলার বিবরণী অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই উত্তরা এলাকায় ছাত্র-জনতার যৌক্তিক আন্দোলন দমনে পুলিশ ও দলীয় ক্যাডাররা নির্বিচারে গুলি চালায়। এতে মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধসহ সাতজন নিহত হন এবং অন্তত পাঁচজনকে হত্যাচেষ্টার উদ্দেশ্যে গুরুতর আহত করা হয়। পরদিন ১৯ জুলাই একই এলাকায় চালানো হামলায় আরও চারজন প্রাণ হারান। প্রসিকিউশনের মতে, পরপর দুই দিনের এই ঘটনাগুলো ছিল একটি পরিকল্পিত, ব্যাপক ও পদ্ধতিগত হামলা, যা আন্তর্জাতিক আইনে সুস্পষ্ট মানবতাবিরোধী অপরাধের শামিল।

মোঃ আল আমিন কাজী 


















