আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের পবিত্র আল-আকসা মসজিদে জোরপূর্বক ঢুকে পড়েছে চার হাজার দুইশ’রও বেশি ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী ও কট্টর ডানপন্থি গোষ্ঠীর সদস্য। ইহুদিদের ধর্মীয় উৎসব ‘তিশা বাব’কে কেন্দ্র করে এটিই চলতি বছরের মধ্যে আল-আকসায় ইসরায়েলিদের অন্যতম বড় অনুপ্রবেশের ঘটনা।
কঠোর পুলিশ পাহারায় এই অনুপ্রবেশ ঘটে। ইসরায়েলের বিতর্কিত কট্টর ডানপন্থি জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতমার বেন-গভীরও এই দলে অংশ নেন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
ফিলিস্তিনিদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা ও তল্লাশি
জেরুজালেম গভর্নরেটের ফিলিস্তিনি প্রশাসন জানিয়েছে, দিনভর আল-আকসা প্রাঙ্গণে ঢোকা ইসরায়েলির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে অন্তত ৪ হাজার ২৮৮ জনে। এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে, যা বিগত বছরগুলোর তুলনায় বহুগুণ বেশি।
এদিকে, চরম নিরাপত্তার অজুহাতে জেরুজালেমের পুরোনো শহর ও আল-আকসার প্রবেশদ্বারগুলোতে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। বয়স্ক ফিলিস্তিনিরা ছাড়া সাধারণ নাগরিক ও শিক্ষার্থীদের ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। স্থানটিতে সাধারণ ফিলিস্তিনিদের ওপর শারীরিক লাঞ্ছনা ও বলপ্রয়োগের অভিযোগও উঠেছে। পূর্ব জেরুজালেম ও কালান্দিয়াসহ একাধিক তল্লাশিচৌকিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
ঐতিহাসিক স্ট্যাটাস কু বা স্থিতাবস্থা লঙ্ঘন
মসজিদ প্রাঙ্গণে ঢুকেই কট্টরপন্থি বসতি স্থাপনকারীরা সেখানে তালমুদিক আচার-অনুষ্ঠান পালন, গান বাজানো এবং মাটিতে লুটিয়ে পড়ে প্রার্থনা শুরু করে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির পুলিশ আইন লঙ্ঘন করে এক হাজারের বেশি ইসরায়েলিকে মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রার্থনার সুযোগ করে দিয়েছে।
এটি ১৯৬৭ সালের ঐতিহাসিক ‘স্ট্যাটাস কু’ (স্থিতাবস্থা) চুক্তির সরাসরি লঙ্ঘন। আন্তর্জাতিক ওই চুক্তি অনুযায়ী, আল-আকসা মসজিদে অমুসলিম দর্শনার্থীদের প্রবেশের অনুমতি থাকলেও ইহুদি বা অন্য কোনো ধর্মের অনুসারীদের আনুষ্ঠানিক প্রার্থনা করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।
উসকানিমূলক বক্তব্য ও বিশ্বজুড়ে সমালোচনা
পবিত্র আল-আকসায় ঢুকে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতমার বেন-গভীর। তিনি দাবি করেন, এই স্থানে ইহুদিদের সার্বভৌমত্ব ও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা একটি বড় সাফল্য।
বেন-গভীরের এই পদক্ষেপ ও বক্তব্যকে ‘উসকানিমূলক ও অত্যন্ত বিপজ্জনক’ বলে আখ্যা দিয়েছে জেরুজালেম গভর্নরেট। ফিলিস্তিনের মুক্তিকামী সংগঠন হামাস এক বিবৃতিতে হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, পবিত্র স্থানের ওপর এ ধরনের বর্বরোচিত আগ্রাসনের তীব্র পরিণতি ইসরায়েলকে ভোগ করতে হবে।
জর্ডানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, এটি একটি চরম উসকানিমূলক কাজ এবং আন্তর্জাতিক পবিত্রতার স্পষ্ট লঙ্ঘন। অবিলম্বে ইসরায়েলি আগ্রাসন বন্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে জর্ডান।
উল্লেখ্য, ১৯৬৭ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের পর পূর্ব জেরুজালেম দখল করে নেয় ইসরায়েল এবং ১৯৮০ সালে তা নিজেদের ভূখণ্ডের সাথে যুক্ত করে। তবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কখনোই ইসরায়েলের এই অবৈধ দখলদারিত্বকে স্বীকৃতি দেয়নি।

মোঃ আল আমিন কাজী 


















