আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
দিল্লির উত্তপ্ত রাজপথ আর ছাত্র আন্দোলনের প্রবল উত্তেজনার মধ্যেই অবসান ঘটল জলবায়ু আন্দোলনকারী সোনাম ওয়াংচুকের দীর্ঘ ২৬ দিনের অনশনের। সরকারের তরফ থেকে দাবি মেনে নেওয়ার লিখিত প্রতিশ্রুতি পাওয়ার পর বৃহস্পতিবার রাতে এক গ্লাস পানীয় পানের মাধ্যমে অনশন ভঙ্গ করেন তিনি।
ভারতের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. জিতেন্দ্র সিংয়ের উপস্থিতিতে গুরুগ্রামের মেদান্তা হাসপাতালে এই অনশন ভাঙেন ওয়াংচুক। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
মোদি সরকারের দিনভর রুদ্ধদ্বার বৈঠক ও তৎপরতা
দীর্ঘ প্রায় এক মাসের এই অচলাবস্থা কাটাতে বৃহস্পতিবার দিনভর মোদি সরকারের ভেতরে চলে তীব্র কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক তৎপরতা। বিভিন্ন সূত্রের বরাতে জানা যায়, আন্দোলন তীব্র আকার ধারণ করা এবং অনশনরত ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
পরিস্থিতি পর্যালোচনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা ও প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংয়ের সঙ্গে টানা চার ঘণ্টার এক রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন। সেখানে সিদ্ধান্ত হয়, আন্দোলনকারীদের যুক্তিসংগত দাবিগুলোর প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রেখে যেকোনো মূল্যে ওয়াংচুকের জীবন রক্ষা করাকেই সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশে ড. জিতেন্দ্র সিং ফোনে কথা বলেন ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলি অংমোর সঙ্গে। তিনি সরকারের পূর্ণ প্রতিশ্রুতির কথা জানিয়ে ওয়াংচুককে অনশন ভাঙাতে রাজি করানোর অনুরোধ করেন।
হাসপাতালে গিয়ে মন্ত্রীদের লিখিত প্রতিশ্রুতি হস্তান্তর
সরকারের এই ইতিবাচক সিদ্ধান্তের পর রাতেই দুই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সরাসরি মেদান্তা হাসপাতালে পৌঁছে যান। সেখানে তারা সোনাম ওয়াংচুকের হাতে সরকারের দেওয়া লিখিত প্রতিশ্রুতির চিঠি তুলে দেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা নিজে উপস্থিত থেকে সরকারের মেনে নেওয়া দাবিগুলোর খসড়া পাঠ করে শোনান। লিখিত প্রতিশ্রুতিতে জানানো হয়:
- দিল্লিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে না।
- দেশজুড়ে চলমান প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে কঠোর আইন প্রণয়নের জন্য একটি বিশেষ বিল আগামী সপ্তাহেই পার্লামেন্টে উত্থাপন করা হবে।
- চলমান আন্দোলনকারী দলগুলোর সঙ্গে একটি নিরপেক্ষ স্থানে আলোচনায় বসতে সরকার পুরোপুরি প্রস্তুত।
ওয়াংচুকের শান্তির ডাক ও লাদাখে ফেরার আকুতি
সরকারের পক্ষ থেকে এমন সুস্পষ্ট ও লিখিত আশ্বাস পাওয়ার পর স্বস্তি প্রকাশ করেন সোনাম ওয়াংচুক। অনশন ভঙ্গের পর তিনি জানান, দ্রুতই তিনি তার নিজ এলাকা লাদাখে ফিরে যেতে চান। তবে ফিরে যাওয়ার আগে আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও সমর্থকদের সঙ্গে কথা বলে তাদের সরকারের প্রতি আস্থা রাখার আহ্বান জানাবেন।
একই সঙ্গে আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে সতর্কবার্তা দিয়ে ওয়াংচুক বলেন, এই যৌক্তিক আন্দোলন যেন কোনোভাবেই কোনো অসাধু চক্রের উসকানিতে হিংসাত্মক বা সহিংস রূপ না নেয়। সবাইকে ধৈর্য ধরে শান্তিপূর্ণ আলোচনার পথ অনুসরণ করার আকুল আবেদন জানান তিনি।

মোঃ আল আমিন কাজী 


















