হেলাল শেখ,
ঢাকার আশুলিয়ার ভাদাইল এলাকায় পাঁচ বছর বয়সী শিশু আব্দুর রহমান তাসিনকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় মূল অভিযুক্ত মো. সাইফুল ইসলাম (২৭)-কে গ্রেপ্তার করেছে আশুলিয়া থানা পুলিশ।
বুধবার (২৬ আগস্ট ২০২৬) দুপুরে গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আশুলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তরিকুল ইসলাম (পিপিএম-সেবা)। গ্রেপ্তারকৃত সাইফুল ইসলাম নোয়াখালী জেলার সেনবাগ থানার ছাতাই পাইয়া এলাকার মৃত সিরাজুল হকের ছেলে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৯ আগস্ট সন্ধ্যায় জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’-এর মাধ্যমে সংবাদ পেয়ে আশুলিয়ার ভাদাইল পশ্চিমপাড়ার হারুন অর রশিদের তিনতলা ভবনের ছাদ থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় শিশু তাসিনের নিথর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ মর্মান্তিক ঘটনার পর ২০ আগস্ট নিহত শিশুর বাবা মো. শহিদ মিয়া বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা (মামলা নং-১১৫) দায়ের করেন।
মামলা রুজুর পরপরই তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নিবিড় তদন্তে নামে পুলিশ। তদন্তের একপর্যায়ে সন্দেহভাজন হিসেবে সাইফুলের ঘরে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশিকালে তার দেখানো ও শনাক্ত মতে একটি লাল রঙের শপিং ব্যাগ, দুই টুকরা ইলাস্টিক এবং ঘরের মেঝে ও খাটের নিচে ছড়িয়ে থাকা চাল উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত এসব আলামতের সঙ্গে মরদেহের সুরতহাল ও ঘটনাস্থল থেকে সংগৃহীত আলামতের হুবহু মিল পাওয়ায় সাইফুলকে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশি হেফাজতে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সাইফুল শিশু তাসিনকে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য ও নেপথ্যের কারণ উদঘাটনে বিজ্ঞ আদালতের অনুমতিক্রমে দুই দফায় তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করা হলে আসামি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে।
আশুলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তরিকুল ইসলাম (পিপিএম-সেবা) জানান, তথ্যপ্রমাণ ও আলামত বিশ্লেষণের মাধ্যমে দ্রুততম সময়ে চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের মূল হোতাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। আইনগত সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

মোঃ আল আমিন কাজী 









