
জনপদের খবর
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬ | সময়: ০৭:২৮ এএম
বিনোদন ডেস্ক:
বলিউড অভিনেতা রণবীর সিং এবং ফেডারেশন অব ওয়েস্টার্ন ইন্ডিয়া সিনেমা এমপ্লয়িজ (এফডব্লিউআইসিই)-এর মধ্যকার তুমুল বিতর্ক এবার আদালতের চৌকাঠে গিয়ে ঠেকেছে। সিনেমার কলাকুশলী ও শ্রমিকদের এই শীর্ষ সংগঠনের পক্ষ থেকে রণবীরের বিরুদ্ধে ‘অসহযোগিতা’র নির্দেশ জারির পর, এবার পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে সংগঠনটিকে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন এই অভিনেতা।
বলিপাড়ার ঘনিষ্ঠ সূত্রের খবর, গত ২ জুন রণবীর সিং তার আইনজীবীর মাধ্যমে এই নোটিশ পাঠান। যদিও নোটিশে ঠিক কী কী দাবি বা শর্ত রাখা হয়েছে, তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে স্পষ্ট করা হয়নি। তবে এই আইনি লড়াইকে কেন্দ্র করে বলিপাড়ার অভ্যন্তরীণ সমীকরণ এখন বেশ সরগরম হয়ে উঠেছে।
এই গোটা দ্বন্দ্বের সূত্রপাত নির্মাতা ফারহান আখতার ও এক্সেল এন্টারটেইনমেন্টের বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমা ‘ডন ৩’ থেকে রণবীর সিংয়ের আকস্মিক সরে দাঁড়ানোকে কেন্দ্র করে। গত সপ্তাহে এফডব্লিউআইসিই-র পক্ষ থেকে জানানো হয়, সিনেমাটির প্রযোজক রিতেশ সিধওয়ানি এবং পরিচালক ফারহান আখতার তাদের দ্বারস্থ হয়েছেন। প্রযোজকদের দাবি, সিনেমাটির প্রি-প্রোডাকশনের কাজ অনেকটাই এগিয়ে যাওয়ার পর এবং প্রায় ৪৫ কোটি রুপি খরচ হয়ে যাওয়ার পর রণবীর হঠাৎ প্রজেক্টটি থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেন।
সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়, শুটিংয়ের এত কাছে এসে একজন প্রধান অভিনেতার এমন প্রস্থান প্রযোজকদের বিশাল আর্থিক ক্ষতির মুখে দাঁড় করিয়েছে। এর জের ধরেই রণবীর সিংয়ের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার ডাক দেয় এফডব্লিউআইসিই। যেখানে তাদের আওতাধীন সমস্ত বিভাগের টেকনিশিয়ান ও কর্মীদের রণবীরের যেকোনো প্রজেক্টে কাজ না করার অনুরোধ জানানো হয়।
সংগঠনের উপদেষ্টা অশোক পন্ডিত এক সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন, বিষয়টি নিয়ে তারা বারবার রণবীরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও অভিনেতার পক্ষ থেকে কোনো সাড়া মেলেনি। সমস্ত কলাকুশলীদের তার কাজে অংশ না নেওয়ার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি তিনি অন্য প্রযোজকদেরও এই আচরণের বিরুদ্ধে একজোট হওয়ার অনুরোধ করেন। অবশ্য ইন্ডাস্ট্রির ভেতরে সমালোচনা শুরু হলে অশোক পন্ডিত পরে কিছুটা সুর নরম করে জানান, একে যেন কোনোভাবেই ‘নিষেধাজ্ঞা’ বা ‘ব্যান’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া না হয়।
অন্যদিকে, রণবীরের মুখপাত্র একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে অত্যন্ত সংযত অবস্থান নিয়ে জানিয়েছেন যে, রণবীর চলচ্চিত্র জগৎ এবং ‘ডন’ ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে যুক্ত সকলের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা পোষণ করেন। পেশাদার আলোচনা ও ব্যক্তিগত সম্পর্ক সব সময় মর্যাদা ও পারস্পরিক সম্মানের সঙ্গে বজায় রাখতেই তিনি এই বিষয়ে নীরবতা বজায় রেখেছেন।
রণবীরের এই আইনি পদক্ষেপের পাশাপাশি এফডব্লিউআইসিই-র এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার নিয়েও নানা মহলে প্রশ্ন উঠেছে। ২০১৭ সালে প্রযোজক বিপুল অম্রুতলাল শাহের এক মামলার প্রেক্ষিতে কম্পিটিশন কমিশন অব ইন্ডিয়া (সিসিআই) স্পষ্ট জানিয়েছিল যে, এফডব্লিউআইসিই কোনো প্রযোজক বা অভিনেতার ওপর জোরপূর্বক কোনো বিধিনিষেধ বা শর্ত চাপাতে পারে না, যা ২০০২ সালের প্রতিযোগিতা আইনের পরিপন্থী। এমনকি প্রবীণ প্রযোজক এবং ইম্পা-র সাবেক সভাপতি টিপি আগরওয়াল ইতোমধ্যেই এফডব্লিউআইসিই-র এই পদক্ষেপকে চ্যালেঞ্জ করে বোম্বে সিভিল কোর্টে একটি পিটিশন দাখিল করেছেন।

মোঃ আল আমিন কাজী 






















