জনপদের খবর অনলাইন সংস্করণ | ঢাকা
তারিখ: বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬ | সময়: দুপুর ১:৪৫ টা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বিভিন্ন পরাশক্তি সহ বিশ্বের শক্তিশালী ২২টি দেশ একযোগে এক যৌথ বিবৃতিতে ইরানকে কঠোর ভাষায় সতর্ক করেছে। পশ্চিমা এই দেশগুলো তেহরানকে উদ্দেশ্য করে তাদের নিজ নিজ ‘ভূখণ্ডে’ সব ধরনের গোপন হামলা, অপহরণ ও ক্ষতিকর কর্মকাণ্ড অবিলম্বে বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন ২০২৬) প্রকাশিত ওই প্রভাবশালী যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমাদের ভূখণ্ডে মানুষকে হত্যা, অপহরণ, হয়রানি, ভয়ভীতি দেখানো কিংবা অন্য যেকোনো ধরনের গুপ্ত আক্রমণের চেষ্টা মূলত জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও আন্তর্জাতিক নিয়ম-নীতিকে সরাসরি ক্ষুণ্ন করে। ইরানের এমন উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।’
যৌথ বিবৃতিতে দেশগুলো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তুলে ধরে আরও বলে, ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) গোয়েন্দা সংস্থা এবং তাদের বিদেশে অভিযান পরিচালনাকারী বিশেষ শাখা কুদস ফোর্স বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত ইরানি ভিন্নমতাবলম্বী, স্বাধীন সাংবাদিক এবং ইহুদি ও ইসরায়েলি সম্প্রদায় ও তাদের স্বার্থের বিরুদ্ধে ‘প্রাণঘাতী ষড়যন্ত্র ও ক্ষতিকর গুপ্ত হামলায়’ সরাসরি জড়িত রয়েছে।
বিবৃতিতে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়, ‘এসব বহিরাগত হুমকির বিরুদ্ধে আমাদের রাষ্ট্র ও সাধারণ জনগণকে রক্ষা করার সংকল্পে আমরা সবাই সম্পূর্ণ ঐক্যবদ্ধ। ইরানকে অবিলম্বে এই ছায়াযুদ্ধ ও ক্ষতিকর তৎপরতা বন্ধ করতে হবে।’
যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী দেশগুলো আরও দাবি করেছে, সাম্প্রতিক সময়ে ইউরোপজুড়ে ইহুদি সম্প্রদায় এবং ইরানি ও মার্কিন সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে যে ধারাবাহিক হামলা ও ভীতি প্রদর্শনের অভিযান চলেছে, তার পেছনের মূল কলকাঠি নেড়েছে তেহরান। এমনকি ইরান-সংশ্লিষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠী ‘হারাকাত আশাব আল-ইয়ামিন আল-ইসলামিয়া’ ইতিমধ্যে এসব হামলার দায়ও স্বীকার করেছে।
উল্লেখ্য, এই কূটনৈতিক বিরোধের জেরে গত বছরের আগস্টে অস্ট্রেলিয়া তাদের দেশে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কার করে। সে সময় তেহরানের বিরুদ্ধে অন্তত দুটি ইহুদিবিদ্বেষী হামলার সরাসরি নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ আনে অস্ট্রেলিয়া সরকার। পরবর্তীতে ক্যানবেরা ইরান থেকে নিজেদের রাষ্ট্রদূতকে প্রত্যাহার করে নেয় এবং তেহরানে অবস্থিত অস্ট্রেলীয় দূতাবাসের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত ঘোষণা করে। এর পর গত নভেম্বরে অস্ট্রেলিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীকে ‘সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক’ হিসেবে কালো তালিকাভুক্ত করে।
বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে তেহরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করা এই যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী ২২টি দেশ হলো—যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, আলবেনিয়া, বেলজিয়াম, বুলগেরিয়া, চেক প্রজাতন্ত্র, ডেনমার্ক, এস্তোনিয়া, ফিনল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়া, নেদারল্যান্ডস, নিউজিল্যান্ড, উত্তর মেসিডোনিয়া, নরওয়ে, পর্তুগাল ও সুইডেন।

মোঃ আল আমিন কাজী 




















