
জনপদের খবর
বুধবার, ৩ জুন ২০২৬ | সময়: ০৬:৫০ এএম
নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার:
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য রক্ষা এবং অবৈধ দখলদারিত্ব ঠেকাতে কঠোর অবস্থানে নেমেছে জেলা প্রশাসন। সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে অস্থায়ীভাবে ব্যবসা পরিচালনার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেওয়া সব ধরনের কার্ড বাতিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে, নতুন করে কোনো কার্ড ইস্যু বা নবায়ন করা হবে না বলেও সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। মূলত, চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করে সমুদ্র সৈকতের বালিয়াড়িতে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করার কারণেই এমন কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন।
জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের পর্যটন সেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী কমিশনার মো. মাহমুদুর রহমান সায়েম স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে সম্প্রতি এই কড়া নির্দেশনা জারি করা হয়।
জানা যায়, সৈকতের বালিয়াড়ি দখল করে দীর্ঘদিন ধরে সহস্রাধিক দোকানপাট গড়ে উঠেছিল। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর গত ৯ মার্চ জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এক সপ্তাহের মধ্যে সৈকতের সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের নির্দেশ দেন। এরই ধারাবাহিকতায় ১২ মার্চ জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে যৌথ বাহিনী সুগন্ধা পয়েন্টের বালিয়াড়িতে অভিযান চালিয়ে ৯৩০টি অবৈধ দোকান ও স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেয়।
উচ্ছেদ অভিযানের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজে সুগন্ধা পয়েন্ট পরিদর্শনে গিয়ে সতর্ক করে বলেছিলেন, উচ্ছেদ করা বালিয়াড়িতে আর যেন কোনো দোকান বসতে না পারে বা নতুন করে দখল না হয়, সেদিকে জেলা প্রশাসন ও ট্যুরিস্ট পুলিশকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।
কিন্তু সেই কড়া নির্দেশনা অমান্য করেই পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটির সুযোগ কাজে লাগিয়ে কতিপয় ব্যক্তি সৈকতের বালিয়াড়ি ফের দখল করে নেয়। এ সময় সেখানে চার শতাধিক দোকানপাট ও স্থাপনা নির্মাণ করা হয়। তবে দখলদারদের দাবি, তারা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে রাজস্ব জমা দিয়ে অনুমতির মাধ্যমেই বৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন।
বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, “স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী আমরা কয়েক দফা অভিযান চালিয়ে সুগন্ধা, কলাতলী ও লাবণী পয়েন্ট থেকে ৯ শতাধিক স্থাপনা উচ্ছেদ করেছিলাম। এ ক্ষেত্রে উচ্চ আদালতের সুস্পষ্ট নির্দেশনাও ছিল। সম্প্রতি উচ্ছেদে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা উচ্চ আদালতে রিট করেছেন। আদালত এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছেন। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই রিটের জবাব আদালতে দাখিল করা হবে।”
সার্বিক বিষয়ে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, “অনুমতিপত্রের শর্ত ও চুক্তি লঙ্ঘন করে সমুদ্র সৈকতের বালিয়াড়িতে স্থাপনা নির্মাণ করায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে অস্থায়ীভাবে ব্যবসা পরিচালনার জন্য জেলা প্রশাসন থেকে দেওয়া সমস্ত কার্ড বাতিলের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সাথে নতুন করে কোনো কার্ড ইস্যু বা নবায়নও করা হবে না।”

মোঃ আল আমিন কাজী 



















