জনপদের খবর অনলাইন সংস্করণ | ঢাকা
তারিখ: শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬ | সময়: রাত ৭:২৫ মিনিট
বাগেরহাট প্রতিনিধি: সুন্দরবনে তিন দিন সশস্ত্র দস্যুদের হাতে জিম্মি থাকার পর অবশেষে অক্ষত অবস্থায় মুক্তি পেয়েছেন বন বিভাগের দুবলা ফরেস্ট টহল ফাঁড়ির বেতার চালক মো. ফরিদুল ইসলামসহ তিন জন। গত মঙ্গলবার (৯ জুন) বিকেলে সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের কালামিয়া এলাকা থেকে কুখ্যাত বনদস্যু ‘জাহাঙ্গীর বাহিনী’র সদস্যরা অস্ত্রের মুখে তাঁদের ট্রলারসহ অপহরণ করেছিল।
টানা তিন দিন কোস্টগার্ড ও বন বিভাগের যৌথ সাঁড়াশি অভিযানের পর, অবশেষে আজ শুক্রবার (১২ জুন ২০২৬) ভোররাতে সুন্দরবনের আমবাড়ীয়া এলাকায় অপহৃতদের চোখ বেঁধে ছেড়ে দিয়ে পালিয়ে যায় দস্যুরা। মুক্ত হওয়া অপর দুই জন হলেন—ট্রলারের মাঝি তোফাজ্জেল সরদার ও তাঁর সহকারী মো. আলকাস।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী আজ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ‘জনপদের খবর’-কে বিস্তারিত জানান।
মাঝস্রোতে অস্ত্রের মুখে অপহরণ
ডিএফও মো. রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের দুবলা ফরেস্ট টহল ফাঁড়ির বেতার চালক মো. ফরিদুল ইসলাম নিজ বাড়ি থেকে ছুটি কাটিয়ে গত মঙ্গলবার দুপুরে পাথরঘাটা উপজেলার পদ্মা স্লুইস ঘাট থেকে সুন্দরবনের দুবলা ফরেস্ট অফিসে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হন। তিনি পাথরঘাটার তোফাজ্জেল সরদারের একটি ট্রলারে চড়েছিলেন। ট্রলারে মাঝির সাথে তাঁর সহকারী মো. আলকাসও ছিলেন।
ট্রলারটি ওই দিন বিকেলে সুন্দরবনের কটকা বন অফিসে একটি সংক্ষিপ্ত যাত্রা বিরতি শেষ করে পুনরায় দুবলার উদ্দেশে রওনা দেয়। বিকেল ৫টার দিকে ট্রলারটি শরণখোলা রেঞ্জের কালামিয়া এলাকা অতিক্রম করার সময় হঠাৎ করে একটি বড় ট্রলারে করে এসে হামলা চালায় বনদস্যু ‘জাহাঙ্গীর বাহিনী’র সশস্ত্র সদস্যরা। তারা অস্ত্রের মুখে ট্রলারের গতি রোধ করে বেতার চালক ফরিদুল, মাঝি তোফাজ্জেল ও সহকারী আলকাসকে জিম্মি করে সুন্দরবনের গহীন অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে আটকে রাখে।
নিখোঁজের পর বন বিভাগে তোলপাড় ও যৌথ অভিযান
এদিকে, বেতার চালক ফরিদুল ইসলাম কটকা অফিস থেকে দুবলা বন অফিসের উদ্দেশে রওনা দেওয়ার পরও সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত হলেও দুবলা অফিসে না পৌঁছানো এবং তাঁর ব্যবহৃত যোগাযোগ মাধ্যম বন্ধ থাকায় পুরো বন বিভাগে তোলপাড় শুরু হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সুন্দরবনের শরণখোলা ফরেস্ট স্টেশন কর্মকর্তা ও ফরেস্ট রেঞ্জার মো. খলিলুর রহমান বাদী হয়ে বাগেরহাটের শরণখোলা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
পাশাপাশি নিখোঁজ সরকারি কর্মকর্তা ও সাধারণ মাঝিদের সন্ধানে সুন্দরবনের শরণখোলা ও দুবলা রেঞ্জে একযোগে বন বিভাগ, কোস্টগার্ডসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ব্যাপক উদ্ধার অভিযান শুরু করে।
পরিচয় নিশ্চিত হতেই মুক্তিপণ ছাড়া মুক্ত
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপর্যুপরি অভিযানের মুখে কোণঠাসা হয়ে এবং অপহৃত ফরিদুল ইসলাম যে খোদ বন বিভাগেরই একজন সরকারি বেতার চালক—এই পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর বড় ধরনের আইনি ঝামেলা এড়াতে পিছু হটে বনদস্যুরা।
আজ শুক্রবার ভোররাতে দস্যুরা সুন্দরবনের আমবাড়ীয়া এলাকার গহীন জঙ্গলে অপহৃত তিন জনের চোখ বেঁধে রেখে চলে যায়। পরবর্তীতে ভোরের আলো ফুটতেই বনের ওই এলাকায় তল্লাশি চালানো বনরক্ষী ও কোস্টগার্ডের একটি দল তিন জনকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।
ডিএফও জানান, সরকারি চাকুরিজীবী ও বেতার চালকের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর বনদস্যু জাহাঙ্গীর বাহিনী তাঁদের কাছে কোনো ধরনের অর্থ বা মুক্তিপণ দাবি করেনি। প্রাথমিক চিকিৎসা ও জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মুক্ত হওয়া তিন জনকে নিজ নিজ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। তবে সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত রাখতে এই অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

মোঃ আল আমিন কাজী 




















