ঢাকা , শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মোড়েলগঞ্জে কথিত মাদক ব্যবসায়ী লিটু শিকদারের শাস্তির দাবিতে উত্তাল রাজপথ, দুই ইউনিয়নের বিশাল মানববন্ধন প্যারাগুয়েকে উড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্রের স্বপ্নিল শুরু, প্রথমার্ধেই বালোগুনের জোড়া গোল ঘরের মাঠে ইতিহাস গড়ার স্বপ্নভঙ্গ, বসনিয়ার সঙ্গে ড্র করে প্রথম পয়েন্ট পেল কানাডা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথম কক্সবাজার সফর আজ: চকরিয়ায় জনসভা ও ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন তারেক রহমান আজ ১৩ জুন ২০২৬: জেনে নিন ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি ও সূর্যোদয়-সূর্যাস্ত বরগুনায় ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে জখম, গ্রামবাসীর গণপিটুনিতে প্রধান হামলাকারী ‘কালু’ নিহত ঢাকাসহ দেশের ১১ জেলায় ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের পূর্বাভাস, নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত আত্মঘাতী গোলে শুরুতেই ধাক্কা প্যারাগুয়ের, এগিয়ে থেকে লড়ছে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র পিরোজপুরে ফুটবল উন্মাদনা: আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের পৃথক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় শহরজুড়ে উৎসবের আমেজ মাদারীপুরে প্রীতি ফুটবল ম্যাচে মাদারীপুরকে হারিয়ে নারায়ণগঞ্জ সোনালী অতীত ক্লাব জয়ী জামালপুরে ব্র্যাকের উদ্যোগে খামারিদের মৎস্য চাষ প্রশিক্ষণ ও ৮০ হাজার মাছের পোনা বিতরণ কেন্দুয়ায় ১০ বছরের শি*শু*কে ধ*র্ষ*ণ মামলার প্রধান আসামি আ. রহিম গাজীপুরে গ্রেফতার বাজেটে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ অনৈতিক, সৎ করদাতাদের প্রতি চরম অন্যায়: সিপিডি ‘পুরস্কার পাচ্ছি অথচ দর্শক চেনে না, এটা কেমন কথা?’—বর্তমান সময়ের অ্যাওয়ার্ড নিয়ে বিস্ফোরক মনিরা মিঠু রুদ্ধ হৃদয়ের দুয়ার খোলার চাবি ‘সালাম’: সামাজিক সম্প্রীতি ও অহমিকা ভাঙার অনন্য হাতিয়ার

দেশ দেখার নেশায় ঘর ছেড়েছেন মোবাশ্বের, সঙ্গী শুধুই দুই চাকার বাহন

সাইকেলে দেশভ্রমণে রংপুরের মোবাশ্বের, সঙ্গী শুধু দুই চাকার বাহন | জনপদের খবর

জনপদের খবর অনলাইন সংস্করণ | ঢাকা

তারিখ: মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬ | সময়: সন্ধ্যা ৬:৩০ মিনিট

ঠাকুরগাঁও সংবাদদাতা: মাথার ওপর জ্বলন্ত সূর্য, প্রচণ্ড দাবদাহে পুরো শরীর ঘেমে একাকার। দীর্ঘ পথের ক্লান্তি আর অনিশ্চয়তাকে সঙ্গী করেই পিচঢালা পথ ধরে এগিয়ে চলছেন এক তরুণ। কাঁধে একটি ব্যাগ, মাথায় নিরাপত্তা হেলমেট, হাতে সাইকেলের হ্যান্ডেল আর তাতে গোঁজা বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা। বুকভরা স্বপ্ন আর অদম্য ইচ্ছাশক্তি নিয়ে দুই চাকার বাহনে ভর করে তিনি ছুটে চলছেন দেশের এক জেলা থেকে অন্য জেলায়। এই তরুণ অভিযাত্রীর নাম মোবাশ্বের আলী।

দেশকে জানার, মানুষের গল্প শোনার এবং বাংলার রূপ-প্রকৃতিকে খুব কাছ থেকে দেখার অদম্য ইচ্ছা থেকেই মোবাশ্বের শুরু করেছেন এই ব্যতিক্রমী যাত্রা। চলতি বছরের ৩০ এপ্রিল নিজের জন্মভিটা রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার রামনাথপুর ইউনিয়নের বড় রাজারামপুর গ্রাম থেকে সাইকেল নিয়ে বেরিয়ে পড়েন তিনি। লক্ষ্য—ধীরে ধীরে পুরো বাংলাদেশ ঘুরে দেখা।

যাত্রার শুরুতে তিনি পঞ্চগড় জেলার পাঁচটি উপজেলার বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান পরিদর্শন করেন। এরপর পা রাখেন ঠাকুরগাঁওয়ে। বর্তমানে তার এই ভ্রমণের ৩৯তম দিন চলছে। এরই মধ্যে তিনি দুই জেলার ৮টি উপজেলা ঘুরে ফেলেছেন। প্রতিদিন গড়ে ১০০ থেকে ১৫০ কিলোমিটার পথ সাইকেল চালিয়ে নতুন নতুন গন্তব্যে পৌঁছাচ্ছেন এই তরুণ।

মোবাশ্বের আলী রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার কৃষক রুহুল আমিন ও মর্জিনা বেগম দম্পতির ছোট ছেলে। তিন ভাই-বোনের মধ্যে তিনি সবার ছোট। তিনি রংপুর কারমাইকেল কলেজের ইংরেজি বিভাগের প্রাক্তন ছাত্র। সাধারণ কৃষক পরিবারের সন্তান হলেও তার স্বপ্নটা আকাশছোঁয়া। ছোটবেলা থেকেই ভ্রমণের প্রতি প্রবল আগ্রহ ছিল তার। তবে তার চূড়ান্ত লক্ষ্য আরও বড়—একদিন সাইকেলে কিংবা অন্য কোনো মাধ্যমে বিশ্বভ্রমণে বের হওয়া।

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বাসিন্দা আব্দুল করিম, রাজ্জাক ও আরিফ বলেন, “ছেলেটার সঙ্গে কথা বলে খুব ভালো লেগেছে। এখনকার সময়ে অনেক তরুণ যখন মোবাইল আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিয়ে বুঁদ হয়ে থাকে, তখন মোবাশ্বের দেশের বিভিন্ন প্রান্ত ঘুরে মানুষ ও প্রকৃতিকে জানার চেষ্টা করছে। সে শুধু নিজের শখ পূরণের জন্য ঘুরছে না, পাশাপাশি মানুষকে পরিবেশ রক্ষার বিষয়ে সচেতন করছে। গাছ লাগানো ও প্রকৃতি সংরক্ষণের যে বার্তা সে দিচ্ছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।”

নিজের এই যাত্রা নিয়ে মোবাশ্বের আলী বলেন, “ছোটবেলা থেকেই আমার স্বপ্ন ছিল বাংলাদেশকে খুব ধীরে ও কাছ থেকে দেখার। বাংলাদেশের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে ছুটে চলা মূলত এই দেশের বৈচিত্র্যকে উপলব্ধি করার জন্য। শুধু যে সাইকেল যাত্রা করছি তা নয়; দেশের শিক্ষার্থী ও জনসাধারণের কাছে আমার একটা বিশেষ বার্তা আছে—’প্রকৃতি বাঁচলে আমরা বাঁচবো’। আমি সবার মধ্যে একটা সচেতনতা সৃষ্টির চেষ্টা করছি, যাতে সবাই অন্তত একটি করে গাছ লাগায় এবং পরিবেশ বাঁচায়।”

তিনি জানান, এই দীর্ঘ ভ্রমণের খরচ তিনি মেটাচ্ছেন মূলত নিজের টিউশনি করে জমানো টাকা দিয়ে। পাশাপাশি পরিবারও তাকে কিছুটা সহযোগিতা করছে। তবে পথে বের হওয়ার পর দেশের মানুষের আন্তরিকতা ও ভালোবাসা তাকে মুগ্ধ করেছে। অনেকেই তাকে খাবারের দাওয়াত দেন, কেউ বিশ্রামের ব্যবস্থা করে দেন। মানুষের এই ভালোবাসাই তাকে প্যাডেল চাপার বাড়তি শক্তি জোগায়।

ঠাকুরগাঁওয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মোহাম্মদ খোদাদাদ হোসেন বলেন, “মোবাশ্বের আলীর এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। একজন তরুণ শিক্ষার্থী হিসেবে তিনি দেশ ভ্রমণের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রকৃতি ও সংস্কৃতিকে জানার চেষ্টা করছেন। একই সঙ্গে পরিবেশ সংরক্ষণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বার্তাও দিচ্ছেন। তবে দীর্ঘ পথ ভ্রমণের ক্ষেত্রে নিরাপত্তার বিষয়টিও জরুরি। আমরা তাকে সড়ক আইন মেনে ও সতর্কতার সঙ্গে যাত্রাপথ বজায় রাখার পরামর্শ দিয়েছি। তার এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ সফল হোক, এটাই প্রত্যাশা।”

জনপ্রিয় সংবাদ

মোড়েলগঞ্জে কথিত মাদক ব্যবসায়ী লিটু শিকদারের শাস্তির দাবিতে উত্তাল রাজপথ, দুই ইউনিয়নের বিশাল মানববন্ধন

দেশ দেখার নেশায় ঘর ছেড়েছেন মোবাশ্বের, সঙ্গী শুধুই দুই চাকার বাহন

আপডেট সময় : ১২:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬

জনপদের খবর অনলাইন সংস্করণ | ঢাকা

তারিখ: মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬ | সময়: সন্ধ্যা ৬:৩০ মিনিট

ঠাকুরগাঁও সংবাদদাতা: মাথার ওপর জ্বলন্ত সূর্য, প্রচণ্ড দাবদাহে পুরো শরীর ঘেমে একাকার। দীর্ঘ পথের ক্লান্তি আর অনিশ্চয়তাকে সঙ্গী করেই পিচঢালা পথ ধরে এগিয়ে চলছেন এক তরুণ। কাঁধে একটি ব্যাগ, মাথায় নিরাপত্তা হেলমেট, হাতে সাইকেলের হ্যান্ডেল আর তাতে গোঁজা বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা। বুকভরা স্বপ্ন আর অদম্য ইচ্ছাশক্তি নিয়ে দুই চাকার বাহনে ভর করে তিনি ছুটে চলছেন দেশের এক জেলা থেকে অন্য জেলায়। এই তরুণ অভিযাত্রীর নাম মোবাশ্বের আলী।

দেশকে জানার, মানুষের গল্প শোনার এবং বাংলার রূপ-প্রকৃতিকে খুব কাছ থেকে দেখার অদম্য ইচ্ছা থেকেই মোবাশ্বের শুরু করেছেন এই ব্যতিক্রমী যাত্রা। চলতি বছরের ৩০ এপ্রিল নিজের জন্মভিটা রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার রামনাথপুর ইউনিয়নের বড় রাজারামপুর গ্রাম থেকে সাইকেল নিয়ে বেরিয়ে পড়েন তিনি। লক্ষ্য—ধীরে ধীরে পুরো বাংলাদেশ ঘুরে দেখা।

যাত্রার শুরুতে তিনি পঞ্চগড় জেলার পাঁচটি উপজেলার বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান পরিদর্শন করেন। এরপর পা রাখেন ঠাকুরগাঁওয়ে। বর্তমানে তার এই ভ্রমণের ৩৯তম দিন চলছে। এরই মধ্যে তিনি দুই জেলার ৮টি উপজেলা ঘুরে ফেলেছেন। প্রতিদিন গড়ে ১০০ থেকে ১৫০ কিলোমিটার পথ সাইকেল চালিয়ে নতুন নতুন গন্তব্যে পৌঁছাচ্ছেন এই তরুণ।

মোবাশ্বের আলী রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার কৃষক রুহুল আমিন ও মর্জিনা বেগম দম্পতির ছোট ছেলে। তিন ভাই-বোনের মধ্যে তিনি সবার ছোট। তিনি রংপুর কারমাইকেল কলেজের ইংরেজি বিভাগের প্রাক্তন ছাত্র। সাধারণ কৃষক পরিবারের সন্তান হলেও তার স্বপ্নটা আকাশছোঁয়া। ছোটবেলা থেকেই ভ্রমণের প্রতি প্রবল আগ্রহ ছিল তার। তবে তার চূড়ান্ত লক্ষ্য আরও বড়—একদিন সাইকেলে কিংবা অন্য কোনো মাধ্যমে বিশ্বভ্রমণে বের হওয়া।

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বাসিন্দা আব্দুল করিম, রাজ্জাক ও আরিফ বলেন, “ছেলেটার সঙ্গে কথা বলে খুব ভালো লেগেছে। এখনকার সময়ে অনেক তরুণ যখন মোবাইল আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিয়ে বুঁদ হয়ে থাকে, তখন মোবাশ্বের দেশের বিভিন্ন প্রান্ত ঘুরে মানুষ ও প্রকৃতিকে জানার চেষ্টা করছে। সে শুধু নিজের শখ পূরণের জন্য ঘুরছে না, পাশাপাশি মানুষকে পরিবেশ রক্ষার বিষয়ে সচেতন করছে। গাছ লাগানো ও প্রকৃতি সংরক্ষণের যে বার্তা সে দিচ্ছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।”

নিজের এই যাত্রা নিয়ে মোবাশ্বের আলী বলেন, “ছোটবেলা থেকেই আমার স্বপ্ন ছিল বাংলাদেশকে খুব ধীরে ও কাছ থেকে দেখার। বাংলাদেশের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে ছুটে চলা মূলত এই দেশের বৈচিত্র্যকে উপলব্ধি করার জন্য। শুধু যে সাইকেল যাত্রা করছি তা নয়; দেশের শিক্ষার্থী ও জনসাধারণের কাছে আমার একটা বিশেষ বার্তা আছে—’প্রকৃতি বাঁচলে আমরা বাঁচবো’। আমি সবার মধ্যে একটা সচেতনতা সৃষ্টির চেষ্টা করছি, যাতে সবাই অন্তত একটি করে গাছ লাগায় এবং পরিবেশ বাঁচায়।”

তিনি জানান, এই দীর্ঘ ভ্রমণের খরচ তিনি মেটাচ্ছেন মূলত নিজের টিউশনি করে জমানো টাকা দিয়ে। পাশাপাশি পরিবারও তাকে কিছুটা সহযোগিতা করছে। তবে পথে বের হওয়ার পর দেশের মানুষের আন্তরিকতা ও ভালোবাসা তাকে মুগ্ধ করেছে। অনেকেই তাকে খাবারের দাওয়াত দেন, কেউ বিশ্রামের ব্যবস্থা করে দেন। মানুষের এই ভালোবাসাই তাকে প্যাডেল চাপার বাড়তি শক্তি জোগায়।

ঠাকুরগাঁওয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মোহাম্মদ খোদাদাদ হোসেন বলেন, “মোবাশ্বের আলীর এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। একজন তরুণ শিক্ষার্থী হিসেবে তিনি দেশ ভ্রমণের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রকৃতি ও সংস্কৃতিকে জানার চেষ্টা করছেন। একই সঙ্গে পরিবেশ সংরক্ষণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বার্তাও দিচ্ছেন। তবে দীর্ঘ পথ ভ্রমণের ক্ষেত্রে নিরাপত্তার বিষয়টিও জরুরি। আমরা তাকে সড়ক আইন মেনে ও সতর্কতার সঙ্গে যাত্রাপথ বজায় রাখার পরামর্শ দিয়েছি। তার এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ সফল হোক, এটাই প্রত্যাশা।”