জনপদের খবর অনলাইন সংস্করণ | ঢাকা
তারিখ: বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬ | সময়: বিকেল ৫:৩৩ মিনিট
পাঁচবিবি (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি: লেখাপড়া শেষ করে আর দশটা যুবকের মতো চাকরির পেছনে না ছুটে কিংবা জীবিকার তাগিদে বিদেশ যাওয়ার মোহ ত্যাগ করে আঙুর চাষে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন জয়পুরহাটের পাঁচবিবির তরুণ উদ্যোক্তা আবু হুরায়রা। বাবার মাত্র ২৫ শতক জমিতে বিদেশি জাতের আঙুর বাগান গড়ে তুলে তিনি এখন লাখ টাকা লাভের স্বপ্ন দেখছেন। বর্তমানে তাঁর বাগানের প্রতিটি গাছের ডগায় ডগায় থোকায় থোকায় ঝুলছে অতি মিষ্টি আঙুর ফল, যা দেখে অভিভূত স্থানীয়রা।
আবু হুরায়রা উপজেলার সীমান্তবর্তী আয়মারসুলপুর ইউনিয়নের উত্তর জয়দেবপুর গ্রামের বাসিন্দা। পড়ালেখা শেষ করার পর তিনি কাজের সন্ধানে ইতালি যাওয়ার সব প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তবে শেষ মুহূর্তে বিদেশ না গিয়ে এক প্রবাসীর সময়োপযোগী পরামর্শে নিজ গ্রামেই আঙুর বাগান করার সিদ্ধান্ত নেন।
যেমন ভাবনা তেমন কাজ; হুরায়রা তাঁর বাগানে ‘বাইকোনুর’, ‘রিলায়েন্স’ ও ‘ডিক্সন’ সহ মোট ৫টি উচ্চ ফলনশীল বিদেশি জাতের ৬০টি আঙুরের চারা রোপণ করেন। তাঁর অক্লান্ত পরিশ্রমে মাত্র ৭ মাসের মাথায় প্রতিটি গাছেই বাম্পার ফলন আসে। লাল ও সবুজ রঙের থোকা থোকা আঙুরে এখন পুরো বাগান ভরপুর। ইতিমধ্যেই বাগান থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে আঙুর বিক্রিও শুরু করেছেন এই সফল উদ্যোক্তা।
আবু হুরায়রা জানান, এই বাগান গড়ে তুলতে স্থানীয় কৃষি বিভাগ থেকে তেমন কোনো সাড়া বা সহযোগিতা না পেলেও ‘জাকস ফাউন্ডেশন’ নামের একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও) তাঁকে আর্থিক ও কারিগরিভাবে পূর্ণ সহযোগিতা করেছে। সংস্থাটির কৃষি কর্মকর্তা মো. শাহাদাত হোসেন শাহিনের নিয়মিত ও সঠিক পরামর্শে তিনি বাগান ব্যবস্থাপনায় দারুণ দক্ষতা অর্জন করেন। শুধু আঙুর চাষই নয়, হুরায়রা এখন নিজের বাগানেই অত্যন্ত সফলভাবে বিদেশি জাতের আঙুরের চারা উৎপাদন করছেন, যা স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে বাড়তি আয়ের পথ তৈরি হয়েছে। কোনো বাড়তি শ্রমিক না নিয়ে বাবা ও ভাইয়ের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় পুরো বাগানটি নিজেই দেখাশোনা করছেন তিনি।
এদিকে, সীমান্তবর্তী প্রত্যন্ত গ্রামে মিষ্টি আঙুরের এমন বাম্পার ফলনের খবর ছড়িয়ে পড়ায় প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে অসংখ্য দর্শনার্থী ও উৎসুক মানুষ আবু হুরায়রার বাগান দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন। হুরায়রা আগত দর্শনার্থীদের কাছে আনন্দের সাথে নিজের সফল উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার গল্প এবং আঙুর চাষের নানা কলাকৌশল তুলে ধরছেন।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, পড়ালেখা শেষ করে শুধু সরকারি-বেসরকারি চাকরির পেছনে না ছুটে কিংবা বিদেশে গিয়ে হাড়ভাঙা খাটুনি না খেটে তরুণদের হুরায়রার মতো অপ্রচলিত ও লাভজনক কৃষিতে আত্মনিয়োগ করা উচিত। তরুণদের হাত ধরে এ ধরনের বিদেশি ফলের চাষ দেশজুড়ে ছড়িয়ে দিতে পারলে একদিকে যেমন বেকারত্ব দূর হবে, অন্যদিকে ফল উৎপাদনে স্বনির্ভর হবে প্রিয় বাংলাদেশ।

মোঃ আল আমিন কাজী 






















