আন্তর্জাতিক ডেস্ক, জনপদের খবর:
কানাডার সঙ্গে বিদ্যমান বাণিজ্যিক টানাপোড়েনের মধ্যেই আন্তর্জাতিক জলসীমার নাম পরিবর্তনকে ঘিরে এক নতুন কূটনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার যৌথ সীমান্তে অবস্থিত বিখ্যাত পঞ্চহ্রদের (গ্রেট লেকস) অন্যতম ‘লেক ওন্টারিও’র নাম পরিবর্তন করে ‘লেক আমেরিকা’ রাখার এক নির্বাহী আদেশে তিনি স্বাক্ষর করেছেন।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
হোয়াইট হাউসের নির্বাহী আদেশে মার্কিন স্বরাষ্ট্র দপ্তরকে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সব দাপ্তরিক ও ভূতাত্ত্বিক নথিপত্রে নতুন এই নাম কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন একতরফা পদক্ষেপে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছে কানাডা সরকার। দেশটির প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এক বিবৃতিতে জানান, প্রায় চারশত বছরের পুরোনো ও ঐতিহাসিকভাবে স্বীকৃত এই নামের সুস্পষ্ট ভৌগোলিক ভিত্তি রয়েছে। কানাডা সবসময় এই জলসীমাকে ‘লেক ওন্টারিও’ নামেই সম্বোধন করবে। কানাডার বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ও মন্ত্রীরা ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে অযৌক্তিক ও অবাস্তব হিসেবে আখ্যা দিয়ে স্পষ্ট জানিয়েছেন, কোনো একটি দেশের একক ইচ্ছায় আন্তর্জাতিক যৌথ জলসীমার ঐতিহ্যবাহী নাম পরিবর্তন হতে পারে না।
ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা শুরু হয়েছে খোদ যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও। বিরোধী ডেমোক্রেটিক পার্টির আইনপ্রণেতারা এ পদক্ষেপকে অপ্রয়োজনীয় ও খামখেয়ালিপনা বলে তীব্র সমালোচনা করছেন। মিশিগান অঙ্গরাজ্যের এক ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা প্রেসিডেন্টের এই নির্বাহী আদেশ বাতিল করতে কংগ্রেসে বিল উত্থাপনের ঘোষণা দিয়েছেন। এমনকি লেক সংলগ্ন নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের গভর্নরও জানিয়েছেন, রাজ্য সরকার এই নতুন নামকে কোনোভাবেই গ্রহণ করবে না।

মোঃ আল আমিন কাজী 









