জনপদের খবর অনলাইন সংস্করণ | ঢাকা
তারিখ: বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬ | সময়: দুপুর ২:৩৮ মিনিট
শেখ মাহতাব হোসেন, ডুমুরিয়া (খুলনা): খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার সর্বত্র নিষিদ্ধ পলিথিনের অবাধ ও লাগামহীন ব্যবহারে স্থানীয় পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। সরকারি আইন অনুযায়ী দেশের ১৭টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ক্ষেত্রে চটের বা পাটজাত মোড়কের ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হলেও প্রশাসনের দৃশ্যমান ও নিয়মিত তদারকির অভাবে বাজারগুলোতে পলিথিন ব্যাগের ব্যবহার জ্যামিতিক হারে বাড়ছে। এতে উপজেলার পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে কৃষিজমির উর্বরা শক্তি হ্রাস পাচ্ছে।
বাজারে সয়লাব নিষিদ্ধ পলিথিন
সরেজমিনে ডুমুরিয়া সদর বাজার, শাহপুর বাজার, চুকনগর বাজার ও থুকড়া বাজারসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, চাল, ডাল, সবজি, চিনি, মাছ থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রায় সব জিনিসই দেদারসে নিষিদ্ধ পলিথিন ব্যাগে ভরে বিক্রি করা হচ্ছে। অথচ পরিবেশ সুরক্ষায় সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত পণ্য মোড়কীকরণে বাধ্যতামূলকভাবে পাটের ব্যাগ ব্যবহার করার কথা।
বর্তমানে কাঁচাবাজারের খুচরা ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের মাঝে পাটজাত ব্যাগের ব্যবহারে চরম উদাসীনতা লক্ষ্য করা গেছে। ডুমুরিয়া বাজারের বেশ কয়েকজন খুচরা ব্যবসায়ীর সাথে কথা বললে তারা দাবি করেন, পাটের ব্যাগের চেয়ে পলিথিন অনেক সস্তা ও সহজলভ্য হওয়ায় সাধারণ ক্রেতারাও এটি বেশি পছন্দ করছেন। ফলে আইন জানা থাকলেও তারা পলিথিন রাখছেন।
পরিবেশ ও কৃষিতে মারাত্মক বিপর্যয়
স্থানীয় পরিবেশকর্মীদের মতে, পলিথিন একটি সম্পূর্ণ অপচনশীল উপাদান হওয়ায় তা দীর্ঘ সময় মাটিতে আটকে থাকে। ডুমুরিয়ার বিভিন্ন নালা, ড্রেন ও উন্মুক্ত জলাশয় এখন পলিথিনের দখলে চলে গেছে। সম্প্রতি ডুমুরিয়া বাজারে জলাবদ্ধতা নিরসনে নতুন আধুনিক ড্রেন নির্মাণ করা হলেও সচেতনতার অভাবে পলিথিন ব্যাগ সরাসরি ওই ড্রেনের মধ্যেই ফেলে দেওয়া হচ্ছে। ফলে ড্রেনগুলো ইতিমধ্যেই পলিথিন ও বর্জ্য জমে ভরাট হয়ে গিয়েছে এবং সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো বাজার এলাকায় কৃত্রিম জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে।
এছাড়া কৃষিজমিতে পলিথিন আটকে থাকায় মাটির স্বাভাবিক পুষ্টি উপাদান ও বাতাস চলাচলে মারাত্মক বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। এটি উপজেলার প্রধান অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি কৃষিখাতের (বিশেষ করে ফসলি জমি ও সবজি চাষে) জন্য দীর্ঘমেয়াদী এক অশনিসংকেত হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
প্রশাসনের বক্তব্য ও কঠোর অভিযানের বার্তা
এ বিষয়ে ডুমুরিয়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) অমিত কুমার বিশ্বাস বলেন, “নিষিদ্ধ পলিথিন ব্যবহার ও বিক্রির বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর। পরিবেশ ধ্বংসকারী এই উপাদানের বিরুদ্ধে উপজেলার প্রধান প্রধান বাজারগুলোতে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আমরা খুব দ্রুতই বিশেষ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করব। আইন অমান্য করে যারা নিষিদ্ধ পলিথিন মজুত ও বিক্রি করছে, তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।”
ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মিজ সবিতা সরকার ‘জনপদের খবর’-কে বলেন, “পরিবেশ রক্ষায় পলিথিনের ব্যবহার শূন্যে নামিয়ে আনা এবং পাটজাত মোড়কের সঠিক বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা আমাদের প্রশাসনের অন্যতম অগ্রাধিকার। শুধু আইন প্রয়োগ করে এটি শতভাগ বন্ধ করা সম্ভব নয়, এর জন্য সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদেরও সচেতন হতে হবে। আমরা শীঘ্রই প্রতিটি বাজার কমিটির সাথে জরুরি বৈঠকে বসব এবং আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত উচ্ছেদ ও জরিমানা অভিযান জোরদার করা হবে।”

মোঃ আল আমিন কাজী 






















