নিরাপত্তা প্রতিবেদক, জনপদের খবর:
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্ন পরিবেশে সম্পন্ন করতে দেশের উপকূলীয় ও নদীতীরবর্তী অঞ্চলে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড। দায়িত্বপূর্ণ এলাকাগুলোর মোট ৬১৫টি মন্দির ও পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় বাহিনীটির ৩ হাজার ৪০০ জন চৌকস সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি ও নাশকতা রোধের পাশাপাশি প্রতিমা বিসর্জনের সময় সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে প্রস্তুত রাখা হয়েছে বিশেষ ডুবুরি দল।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর ২০২৬) সকালে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড সদর দপ্তরের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, উপকূলীয় জলসীমা ও নদী তীরবর্তী এলাকার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি চোরাচালান ও মানব পাচার রোধে কোস্টগার্ড নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছে। এরই ধারাবাহিকতায় প্রতিবারের মতো এবারও দুর্গাপূজা উপলক্ষে উপাসনালয়গুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বাহিনীর সদস্যদের নিয়মিত টহল জোরদারের পাশাপাশি স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। স্থানীয় বেসামরিক প্রশাসন, পুলিশ ও পূজা উদযাপন কমিটির সঙ্গে সার্বক্ষণিক সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করছে কোস্টগার্ড।
কোস্টগার্ড সূত্র জানিয়েছে, দায়িত্বপ্রাপ্ত চারটি জোনের অধীনে থাকা ৬১৫টি পূজামণ্ডপে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা জোনে ৩৭টি, পূর্ব জোনে (চট্টগ্রাম) ৬৩টি, পশ্চিম জোনে (মোংলা) ১৪৪টি এবং দক্ষিণ জোনে (ভোলা) সর্বোচ্চ ৩৭১টি মন্দির ও পূজামণ্ডপ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। যেকোনো ধরনের সাম্প্রদায়িক উসকানি, অপপ্রচার, গুজব কিংবা বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে বাহিনীর বিশেষ দল সার্বক্ষণিক সতর্কাবস্থায় রয়েছে।
এদিকে প্রতিমা বিসর্জনের দিন নদী ও জলপথে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নৌযানগুলোতে অতিরিক্ত যাত্রী ওঠা রোধ, অবস্থানরত সবার জন্য লাইফ জ্যাকেট ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা এবং সাঁতার না জানা ব্যক্তিদের নৌযানে না ওঠার বিষয়ে জনসচেতনতামূলক প্রচারণা চালাচ্ছে কোস্টগার্ড। বিসর্জনের সময় নৌকাডুবির মতো যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনায় দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে বাহিনীর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বিশেষ ডুবুরি দল।
কোস্টগার্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আজ ১৬ অক্টোবর থেকে শুরু করে প্রতিমা বিসর্জন সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত উপকূলীয় সব অঞ্চলে এ বিশেষ নিরাপত্তা ও নজরদারি কার্যক্রম পুরোদমে অব্যাহত থাকবে।




















