ক্রাইম ও আদালত প্রতিবেদক, জনপদের খবর:
জনগণের ঐকান্তিক সহায়তা ও আস্থার ফলেই প্রতিকূল পরিস্থিতি কাটিয়ে বাংলাদেশ পুলিশ ফের ঘুরে দাঁড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির।
শনিবার (১৭ অক্টোবর ২০২৬) সন্ধ্যায় রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপন পরিদর্শন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।
পুলিশপ্রধান বলেন, “২০২৪ সালের ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে মাঠপর্যায়ে পুলিশের নিয়মিত কার্যক্রম একপ্রকার স্থবির হয়ে পড়েছিল। সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম নিরাপত্তা শঙ্কা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। সেই সুযোগে তখন ছিনতাই, রাহাজানি, ডাকাতিসহ নানা ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত অপরাধমূলক ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু সেই চরম বিপর্যয়কর পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে এসে বাংলাদেশ পুলিশ আজ আবারও সম্পূর্ণভাবে দায়িত্বশীল অবস্থানে ফিরে এসেছে এবং এ ক্ষেত্রে দেশের সাধারণ জনগণের সর্বাত্মক সহযোগিতাই ছিল আমাদের মূল শক্তি।”
সারাদেশের দুর্গাপূজার সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি তুলে ধরে আইজিপি জানান, পূজা উদযাপন পরিষদ, স্থানীয় জনগণ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যৌথ ও সমন্বিত প্রচেষ্টায় দেশের ৩৩ হাজারের বেশি পূজামণ্ডপে অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পূজা-অর্চনা চলছে। উৎসবের এই আবহ বজায় রাখতে পূজা উদযাপন কমিটিসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিটি নাগরিকের ইতিবাচক ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির গুরুত্ব তুলে ধরে আলী হোসেন ফকির বলেন, “ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে আমরা সবাই এই দেশেরই নাগরিক, আমরা একে অপরের ভাই। ধর্ম যার যার হলেও উৎসবের আনন্দ সবার। সমাজে পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব ও শান্তি বজায় রাখা আমাদের সবার নাগরিক দায়িত্ব। প্রতিটি মণ্ডপে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে পুলিশ সদস্যরা সার্বক্ষণিক সতর্ক অবস্থানে থেকে কাজ করছেন। পুলিশ বাহিনীকে নিজেদের সেবক মনে করে যেকোনো তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানাই।”
তিনি আরও যোগ করেন, মা দুর্গার অসুরবধের মূল তাৎপর্য হলো অন্যায়, অবিচার, শোষণ, বৈষম্য এবং অরাজকতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে ন্যায় ও শান্তি প্রতিষ্ঠা করা। এই শুভ চেতনাকে ব্যক্তিজীবন ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে ধারণ করার তাগিদ দেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো গুজবের বিষয়ে সবাইকে সতর্ক করে আইজিপি বলেন, বর্তমান ডিজিটাল যুগে যেকোনো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যা তথ্য বা বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা হতে পারে। তাই কোনো তথ্য বা সংবাদ পেলে তা যাচাই-বাছাই না করে হুজুগে বিশ্বাস করা কিংবা বিভ্রান্তি ছড়ানো থেকে বিরত থাকতে হবে। যেকোনো সন্দেহজনক তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করতে নিকটস্থ পুলিশ বা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
পরিদর্শনকালে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ ও মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এবং পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




















