আমতলী প্রতিনিধি, জনপদের খবর:
কক্সবাজারের ইনানীতে একটি পর্যটন রিসোর্টে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে বরগুনার আমতলী উপজেলার একই পরিবারের তিনজনসহ মোট সাতজন নিকটাত্মীয়ের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা উপজেলার কুকুয়া ইউনিয়নের কালিপুরা গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. কবির তালুকদারের ছেলে, মেয়ে ও নাতনি। এ ছাড়া তাঁর ভায়রার পরিবারের আরও চার সদস্য একই ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। আনন্দভ্রমণ মুহূর্তেই পরিণত হয়েছে চরম ট্র্যাজেডিতে; একসঙ্গে পরিবারের এতগুলো সদস্যকে হারিয়ে পুরো কালিপুরা গ্রামজুড়ে এখন শুধুই শোকের মাতম।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা মো. কবির তালুকদারের পরিবারের সদস্যরা ভায়রা মামুনুর রশিদের পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে আনন্দভ্রমণে কক্সবাজার যান। সেখানে তাঁরা মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন ‘টুপটুপ রিসোর্টে’ অবস্থান করছিলেন। কবির তালুকদারের জামাতা নুরে আলম জরুরি কাজে শুক্রবার ঢাকায় ফিরে আসেন।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে আকস্মিকভাবে ওই কাঠের রিসোর্টটিতে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের শিখা ও তীব্র ধোঁয়ার মধ্যে কয়েকজন জানালা ভেঙে কোনোমতে বাইরে বের হতে সক্ষম হলেও বাকিরা ভেতরে আটকা পড়েন। এতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান কবির তালুকদারের মেয়ে ফারিহা কবির, ছেলে কৌশিক জেরিফ ও শিশু নাতনি ফাইজান আহম্মেদ।
একই ঘটনায় নিহত অপর চার স্বজন হলেন—মামুনুর রশিদের পরিবারের সদস্য ইসরাত জাহান মালিহা, মিলিতা মেহজাবিন আলভি, লায়লা জাহান নাভিলা ও নাফিসতা মীম। তাঁদের বাড়ি ঢাকার ফতুল্লা এলাকায় বলে স্বজনেরা নিশ্চিত করেছেন। নিহতদের মধ্যে কৌশিক জেরিফ সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করে সরকারি চাকরির প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
সন্তান ও নাতিকে হারিয়ে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন বৃদ্ধ কবির তালুকদার। অশ্রুসজল কণ্ঠে তিনি আহাজারি করে বলেন, “আমার আর কিছুই রইল না। আমার ছেলে, মেয়ে ও নিষ্পাপ নাতি চলে গেল। একই সঙ্গে ভায়রার পরিবারের চারজনও শেষ হয়ে গেল। এই শূন্যতা আমি কেমন করে সইব!” নিহতদের মরদেহ শনাক্ত ও গ্রহণের জন্য শনিবার বিকেলে স্বজনদের একটি দল কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হয়েছে।
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াকুব হোসাইন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবরটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ও বেদনাদায়ক। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিবারের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।
আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাসান মো. হাফিজুর রহমান বলেন, “কক্সবাজারের রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে আমতলীর একই পরিবারের তিনজনসহ একাধিক স্বজনের প্রাণহানির খবর পেয়েছি। শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের প্রয়োজনীয় যে কোনো সহায়তা ও পুনর্বাসনে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।”




















