বিশেষ প্রতিবেদক, জনপদের খবর:
শারদীয় দুর্গোৎসবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানাতে আগামী ২০ অক্টোবর একদিনেই দেশের তিন বিভাগ—রংপুর, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ সফরে তিনি তিনটি বিভাগের প্রধান প্রধান পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করবেন এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন। পাশাপাশি রাজশাহী নগরীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় তাঁর ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর এই তাৎপর্যপূর্ণ সফরকে কেন্দ্র করে তিন বিভাগেই শুরু হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি ও কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে প্রকাশিত আনুষ্ঠানিক সফরসূচি অনুযায়ী, আগামী ২০ অক্টোবর সকালে তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর বিশেষ বিমানে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে অবতরণ করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখান থেকে সড়কপথে তিনি রংপুর ধর্মসভা (রাধা গোবিন্দ মন্দির) পরিদর্শন করবেন এবং ভক্তদের সঙ্গে দুর্গোৎসবের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন।
রংপুরের কর্মসূচি শেষে তিনি সৈয়দপুর বিমানবন্দর থেকে বিমানে রাজশাহীর হযরত শাহ মখদুম (রহ.) বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন। দুপুর দেড়টায় তিনি রাজশাহী ধর্মসভা মন্দির পরিদর্শন করবেন। এরপর তিনি রাজশাহী সার্কিট হাউসে সংক্ষিপ্ত সময় অবস্থান করবেন। বেলা ৩টায় নগরীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে দলীয় নেতাকর্মী ও সর্বসাধারণের উপস্থিতিতে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন প্রধানমন্ত্রী।
রাজশাহীর কর্মসূচি সমাপ্ত করে বিকেলেই হযরত শাহ মখদুম (রহ.) বিমানবন্দর থেকে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হবেন তিনি। সন্ধ্যায় বন্দরনগরী চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী রহমতগঞ্জের জে এম সেন হল পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করবেন প্রধানমন্ত্রী। পরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে স্থানীয় প্রশাসন ও সুধীজনদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত বৈঠক শেষে রাতে বিমানযোগে রাজধানী ঢাকায় ফিরে আসবেন।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর রাজশাহী সফর এবং দুর্গোৎসবের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জোর তৎপরতা শুরু করেছে প্রশাসন। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টায় রাজশাহী মহানগর পুলিশ (আরএমপি) সদর দপ্তরে এক উচ্চপর্যায়ের সমন্বয় ও প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু।
সভায় প্রধানমন্ত্রীর সফর নির্বিঘ্ন রাখা, নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা এবং শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনের কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। প্রশাসনের প্রতিটি বিভাগ ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মধ্যে আন্তঃযোগাযোগ বৃদ্ধি এবং যার যার দায়িত্ব কঠোরভাবে পালনের নির্দেশ দেন মন্ত্রী।
উক্ত প্রস্তুতিমূলক সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন, বিভাগীয় কমিশনার ইউসুফ আলী, আরএমপি কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির, জেলা পরিষদের প্রশাসক এরশাদ আলী ঈশা, রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সুইট এবং রাজশাহী জেলা পুলিশ সুপার মো. মামুন অর রশিদসহ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা।




















