সংস্কৃতি প্রতিবেদক, জনপদের খবর:
পুরুষের পাশাপাশি জীবিকার কঠিন সংগ্রামে প্রতিদিন লড়াই করে চলেছেন অসংখ্য নারী। তবে কর্মক্ষেত্রে অব্যাহত শোষণ, মজুরি বৈষম্য এবং পরিবারে দায়িত্বহীন মানসিকতার চাপে প্রতিনিয়ত পিষ্ট হতে হয় শ্রমজীবী নারীদের। সেই বঞ্চনা ও জীবনসংগ্রামের প্রতিচ্ছবি নিয়ে নাট্যদল বটতলা মঞ্চে নিয়ে এলো তাদের দর্শকপ্রিয় নাটক ‘রাইজ অ্যান্ড শাইন’।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সন্ধ্যায় রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার পরীক্ষণ থিয়েটার হলে নাটকটির বিশেষ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়।
বিখ্যাত ইতালীয় নাট্যকার দারিও ফো ও ফ্র্যাঙ্কা রাম রচিত মূল নাটক থেকে এটি বাংলায় রূপান্তর করেছেন অধ্যাপক আবদুস সেলিম। নাটকটির নির্দেশনায় ছিলেন ম. সাঈদ।
‘রাইজ অ্যান্ড শাইন’ মূলত জীবনযুদ্ধ এবং সংসারের অবিরাম টানাপোড়েনে বন্দি থাকা এক সংগ্রামী নারীর আখ্যান। মঞ্চে একজন নারী চরিত্রের দৈনন্দিন জীবনযাপনের মধ্য দিয়ে প্রান্তিক, শ্রমজীবী ও ভাগ্যবিড়ম্বিত মানুষের কঠিন বাস্তবতা নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। একই সঙ্গে সমাজের ক্ষমতার নানা সমীকরণের যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে সাধারণ মেহনতি মানুষ কীভাবে টিকে থাকে, নাটকের পরতে পরতে সেই প্রশ্নও ছুড়ে দেওয়া হয়।
নাটকের কাহিনিতে দেখা যায়, তীব্র যানজট ও কোলাহলপূর্ণ নগরজীবনের আর দশজন নারীর মতোই ভোরবেলায় ঘর ছাড়েন এক নারী। সংসারের যাবতীয় খুঁটিনাটি টানাপোড়েন নীরবে একা সামলে নিয়ে তাঁকে ছুটতে হয় কর্মস্থলে। বহুজাতিক ব্র্যান্ডের জন্য পোশাক তৈরির কারখানায় দিনরাত হাড়ভাঙা খাটুনি আর অতিরিক্ত সময় (ওভারটাইম) কাজ করাই তাঁর নিয়তি। কর্মক্ষেত্রের এই মানসিক ও শারীরিক ক্লান্তির সঙ্গে যুক্ত হয় ঘরে থাকা এক বদমেজাজি ও দায়িত্বহীন স্বামী। সংসার, কারখানা এবং সামাজিক বৈষম্যের ত্রিমুখী চাপ একপর্যায়ে তাঁর জীবনকে অসহনীয় করে তোলে।
তবে নাটকটি কেবল বঞ্চনাতেই শেষ হয়ে যায় না। শোষণের কাছে মাথা নত না করে একসময় সেই নারী নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কার করেন এবং শেকল ভেঙে জেগে ওঠার স্বপ্ন দেখেন। ফলে একক এক নারীর ব্যক্তিগত লড়াই ছাপিয়ে নাটকটি হয়ে ওঠে প্রতিটি কর্মজীবী নারী ও মায়ের অবদমিত আকাঙ্ক্ষার সম্মিলিত স্বর। মঞ্চে একক অভিনেত্রীর অনবদ্য অভিনয়ে উপস্থিত দর্শকরা তাঁদের চেনা চারপাশের বহু নারীর বাস্তব জীবনের প্রতিচ্ছবি খুঁজে পান।
নাটকটিতে কেন্দ্রীয় চরিত্রে এবং অন্যান্য সহযোগী রূপায়ণে অভিনয় করেছেন নাট্যদল বটতলার নিয়মিত অভিনয়শিল্পীরা। শিল্পকলার মিলনায়তনে উপস্থিত বিপুল সংখ্যক নাট্যপ্রেমী দর্শক গভীর মনোযোগের সঙ্গে নাটকটি উপভোগ করেন এবং ভূয়সী প্রশংসা করেন।





















