সচিবালয় প্রতিবেদক, জনপদের খবর:
টেকসই পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, নদীর তীর সংরক্ষণ এবং ভাঙন প্রতিরোধে পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে যৌথভাবে কাজ করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে বাংলাদেশ ও নেদারল্যান্ডস।
রবিবার (৪ অক্টোবর ২০২৬) সচিবালয়ে পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানির সঙ্গে তাঁর অফিসকক্ষে বাংলাদেশে নিযুক্ত নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত জোরিস ভ্যান বোমেল সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে এ অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়। এ সময় পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি দুই বন্ধুপ্রতিম দেশের মধ্যে পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনাসংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বাস্তব অভিজ্ঞতা বিনিময়, বিশেষায়িত প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা, সর্বাধুনিক প্রযুক্তির হস্তান্তর, প্রকৌশলী ও কর্মকর্তাদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে উচ্চতর প্রশিক্ষণ এবং ফলপ্রসূ যৌথ বৈজ্ঞানিক গবেষণার ওপর জোর দিয়ে ডাচ সরকারের কার্যকর সহযোগিতা কামনা করেন।
মন্ত্রী বলেন, “নেদারল্যান্ডস বাংলাদেশের অত্যন্ত বিশ্বস্ত, পরীক্ষিত ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন সহযোগী। স্বাধীনতার পর থেকেই পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা ও অবকাঠামো উন্নয়নে নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে বাংলাদেশের একটি অত্যন্ত সুদৃঢ় ও সৌহার্দ্যপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বজায় রয়েছে।”
বৈঠকে দুই দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্কের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, “১৯৭৭ সালে দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সহায়তার ক্ষেত্র সম্প্রসারণের লক্ষ্যে সর্বপ্রথম নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে যুগান্তকারী সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছিলেন। সেই ঐতিহাসিক সম্পর্কের ধারাবাহিকতায় আজও দুই দেশ অত্যন্ত সফলভাবে একযোগে কাজ করে যাচ্ছে।”
নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত জোরিস ভ্যান বোমেল বাংলাদেশের সঙ্গে ডাচ সরকারের গভীর অংশীদারত্বের কথা পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, ভৌগোলিক অবস্থান ও নদীমাতৃক বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে বাংলাদেশ ও নেদারল্যান্ডস উভয়ই বৈশ্বিক ডেল্টা বা ব-দ্বীপ অঞ্চল। প্রাকৃতিক ও ভূতাত্ত্বিকভাবে উভয় দেশের নদী ও জলবায়ুগত বৈশিষ্ট্যের মধ্যে অভূতপূর্ব মিল রয়েছে। ফলে পানিসম্পদের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও ডেল্টা পরিকল্পনায় ডাচ অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর সুযোগ অনেক বেশি।
রাষ্ট্রদূত জানান, বাংলাদেশে টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদি সমন্বিত পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে, নদীর গতিপথ নিয়ন্ত্রণ, টেকসই তীর সংরক্ষণ এবং নদীভাঙন রোধে কার্যকরী প্রকৌশল সহায়তায় ডাচ সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করতে আগ্রহী। পাশাপাশি বাংলাদেশের সার্বিক আর্থসামাজিক অগ্রযাত্রায় বিগত বছরগুলোতে নেদারল্যান্ডস যেভাবে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে, আগামী দিনেও সেই উন্নয়ন অংশীদারত্ব অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
সৌজন্য বৈঠকে অন্যান্যদের মধ্যে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. এ কে এম শাহাবুদ্দিন এবং অতিরিক্ত সচিব মহা. এনামূল হকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।





















