খেলাধুলা ডেস্ক, জনপদের খবর:
আন্তর্জাতিক ফুটবলে দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে আকাশী-সাদা জার্সিতে রূপকথার জন্ম দেওয়া লিওনেল মেসির গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়ের পর্দা নামতে চলেছে। বাংলাদেশ সময় আগামী বুধবার (৭ অক্টোবর) ভোরে বুয়েনস আইরেসের ঐতিহ্যবাহী এস্তাদিও মনুমেন্তালে বেনিনের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচেই শেষবারের মতো জাতীয় দলের জার্সি গায়ে মাঠে নামবেন বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টাইন মহানায়ক।
কিংবদন্তি এই অধিনায়কের শেষ ম্যাচটিকে চিরস্মরণীয় করে রাখতে এক নজিরবিহীন রাষ্ট্রীয় সম্মাননার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিদায়ী ম্যাচে মাঠে মেসির হাতে শোভা পাওয়া আইকনিক অধিনায়ক আর্মব্যান্ডটি ম্যাচ শেষে চিরতরে আর্জেন্টিনা সরকারের উদ্যোগে একটি জাতীয় জাদুঘরে সংরক্ষিত করা হবে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ম্যাচের বাঁশি বাজার পরপরই আর্মব্যান্ডটি বিশেষ নিরাপত্তা প্রটোকলের অধীনে সুরক্ষার ব্যবস্থা করা হবে। এই স্মারকটি ভবিষ্যতে আর কোনো খেলোয়াড়ের হাতে কখনো উঠবে না; বরং খেলার মাঠের সাধারণ এক ক্রীড়া সামগ্রী রূপান্তরিত হতে যাচ্ছে লাতিন আমেরিকার দেশটির অমূল্য জাতীয় ঐতিহাসিক প্রতীকে।
ফুটবল ইতিহাসের পাতায় চোখ রাখলে দেখা যায়, এর আগে কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনার অবসরের পর তাঁর ব্যবহৃত সামগ্রী বা আর্মব্যান্ড একটি বেসরকারি সংস্থার উদ্যোগে সংরক্ষণ করা হয়েছিল। এ ছাড়া দলটির সাবেক অধিনায়ক দানিয়েল প্যাসারেলা, আন্তোনিও রাত্তিন কিংবা হাভিয়ার মাসচেরানোর মতো দিকপালদের ব্যবহৃত জার্সি ও আর্মব্যান্ড তাঁদের ব্যক্তিগত সংগ্রহশালা কিংবা সাময়িক কোনো প্রদর্শনীতেই স্থান পেয়েছিল। কিন্তু আর্জেন্টিনা সরকারের উদ্যোগে কোনো অধিনায়কের ব্যবহৃত আর্মব্যান্ডকে সরাসরি একটি জাতীয় জাদুঘরে স্থায়ী ও ‘অস্পর্শনীয় জাতীয় স্মারক’ হিসেবে সংরক্ষণের এমন ঐতিহাসিক ঘটনা দেশটির ইতিহাসে এই প্রথম।
মেসির এই আর্মব্যান্ড সংরক্ষণ কেবল তাঁর মাঠে করা অগণিত গোল, চোখধাঁধানো অ্যাসিস্ট কিংবা একের পর এক আন্তর্জাতিক শিরোপা জয়ের পরিসংখ্যানিক স্বীকৃতি নয়। বরং এটি এমন এক কিংবদন্তির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধার্ঘ্য, যিনি ফুটবল মাঠের সীমানা ছাড়িয়ে বৈশ্বিক মানবতা, নেতৃত্ব ও দেশপ্রেমের অনন্য প্রতীকে পরিণত হয়েছেন। সমর্থক থেকে শুরু করে ক্রীড়া বিশ্লেষকদের কাছে এটি আর্জেন্টিনার ফুটবলের এক স্বর্ণযুগের জীবন্ত প্রতিচ্ছবি হিসেবে গণ্য হচ্ছে।
বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে খুব কম ক্রীড়াবিদের ভাগ্যেই এমন সম্মান জোটে, যেখানে জীবদ্দশায় তাঁদের ব্যবহৃত কোনো সরঞ্জাম একটি দেশের জাতীয় ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে অমরত্ব লাভ করে। বুধবার বেনিনের বিপক্ষে শেষ বাঁশি বাজার মধ্য দিয়ে শেষ হবে আন্তর্জাতিক ফুটবলের ‘মেসি যুগ’, আর তাঁর সেই আর্মব্যান্ডটি যুগ যুগ ধরে স্মরণ করিয়ে দেবে আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসের অবিস্মরণীয় সেই মহাকাব্য।





















