স্পোর্টস ডেস্ক, জনপদের খবর:
অধিনায়ক হিসেবে অভিষেকেই সাহিবজাদা ফারহানের চোখধাঁধানো ৮৯ রানের ইনিংস এবং তরুণ মাাজ সাদাকাতের দায়িত্বশীল ফিফটিতে শ্রীলঙ্কাকে ৪ উইকেটে হারিয়ে তিন ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল স্বাগতিক পাকিস্তান। প্রথমে ব্যাট করে সফরকারী লঙ্কান ওপেনার লাহিরু উদারার অনবদ্য ৯১ রানে ভর করে ৮ উইকেটে ১৮২ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর দাঁড় করালেও স্বাগতিকদের ব্যাটিং তাণ্ডবে তা শেষ পর্যন্ত টেকেনি। সাত বল বাকি থাকতেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় পাকিস্তান।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর ২০২৬) রাওয়ালপিন্ডি ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সিরিজের উদ্বোধনী ম্যাচে বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ব্যাট চালায় স্বাগতিক শিবির। নতুন উদ্বোধনী জুটি ফখর জামান ও অধিনায়ক সাহিবজাদা ফারহান মাত্র পাঁচ ওভারেই স্কোরবোর্ডে ৫৪ রান যোগ করে উড়ন্ত সূচনা এনে দেন। পাওয়ারপ্লের শেষ ওভারে এশান মালিঙ্গার বলে আউট হওয়ার আগে ফখর ১৩ বলে ৪টি চারে করেন ২১ রান।
ফখরের বিদায়ের পর তিনে নেমে অধিনায়ক ফারহানের সঙ্গে শ্রীলঙ্কার বোলারদের ওপর রীতিমতো ছড়ি ঘোরান বাঁহাতি ব্যাটার মাাজ সাদাকাত। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে এই যুগল মাত্র ৫২ বলে যোগ করেন ম্যাচজয়ী ৯২ রান। দুজনই তুলে নেন ব্যক্তিগত অর্ধশতক। ১৪তম ওভারে স্পিনার মাহিশ থিকশানার বলে এলবিডব্লিউ হওয়ার আগে সাদাকাত ২৯ বলে ৪টি চার ও ৩টি বিশাল ছক্কায় করেন ৫০ রান।
সাদাকাতের বিদায়ের পর দ্রুত হাসান নওয়াজ (১) ও সাইম আইয়ুব (৮) সাজঘরে ফিরলে পাকিস্তান কিছুটা চাপের মুখে পড়ে। তবে এক প্রান্ত আগলে রেখে অধিনায়ক ফারহান লঙ্কান আক্রমণের ওপর পাল্টা আঘাত হানেন। শেষ পর্যন্ত জয়ের দোরগোড়ায় পৌঁছে ১৮তম ওভারে নুয়ান থুশারার বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। তার আগে ৫৩ বলে ১০টি চার ও ৪টি দৃষ্টিনন্দন ছক্কায় খেলেন ম্যাচসেরা ৮৯ রানের অসাধারণ এক ইনিংস।
১৯তম ওভারে শাদাব খান (০) শূন্য রানে ফিরলেও কোনো চাপে পড়তে দেননি উইকেটকিপার-ব্যাটার খাজা নাফে। ১৯তম ওভারের পঞ্চম বলে চোখধাঁধানো ছক্কা হাঁকিয়ে ৭ বলে অপরাজিত ১২ রান করে দলকে পৌঁছে দেন কাঙ্ক্ষিত বিজয়ে। শ্রীলঙ্কার পক্ষে বল হাতে মাহিশ থিকশানা ও এশান মালিঙ্গা ২টি করে এবং নুয়ান থুশারা ও দুশমন্থ চামিরা ১টি করে উইকেট লাভ করেন।
এর আগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই অধিনায়ক কুশল মেন্ডিসকে (১) হারিয়ে বিপদে পড়লেও একপ্রান্ত আগলে রেখে লড়েন ওপেনার লাহিরু উদারা। তৃতীয় উইকেটে কামিন্দু মেন্ডিসের সঙ্গে ৬০ রানের আক্রমণাত্মক জুটি গড়েন তিনি। একপর্যায়ে দাসুন শানাকার ১৫ বলে ১৮ রান ছাড়া অন্য কেউ সুবিধা করতে না পারলেও উদারা খেলেন ৫৫ বলে ১১ চার ও ১ ছক্কায় ৯১ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস। পাকিস্তানের পক্ষে বল হাতে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট শিকার করেন নাসিম শাহ (৪ ওভারে ৩৬ রান)। এ ছাড়া অভিষেক হওয়া মোহাম্মদ ইমরান ২টি এবং সাইম আইয়ুব, শাদাব খান ও রাজাউল্লাহ প্রত্যেকে ১টি করে উইকেট নেন।
সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচটি একই মাঠে আগামী রবিবার (১১ অক্টোবর ২০২৬) অনুষ্ঠিত হবে।





















