অর্থনীতি ও বাণিজ্য প্রতিবেদক, জনপদের খবর:
বাংলাদেশের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস আরও কমিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। একই সঙ্গে সংস্থাটি জানিয়েছে, চলতি অর্থবছরে দেশে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বেড়ে প্রায় ১১ শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর ২০২৬) থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বার্ষিক সভা উপলক্ষে প্রকাশিত ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক’ (ডব্লিউইও) প্রতিবেদনে বাংলাদেশের অর্থনীতির এ চিত্র তুলে ধরা হয়।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রকৃত জিডিপি প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৩ দশমিক ২ শতাংশ। এর আগে গত জুলাই মাসে দেওয়া পূর্বাভাসে সংস্থাটি প্রবৃদ্ধির হার ৩ দশমিক ৫ শতাংশ হতে পারে বলে উল্লেখ করেছিল। নতুন মূল্যায়নে তা শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ পয়েন্ট কমানো হলো।
একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগের পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি। আইএমএফ জানিয়েছে, চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশে গড় মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়াতে পারে ১০ দশমিক ৯ শতাংশে। অথচ গত এপ্রিল মাসের প্রতিবেদনে এ হার ধরা হয়েছিল মাত্র ৬ শতাংশ। সর্বশেষ সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে দেশে সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার ছিল যথাক্রমে ৮ দশমিক ৩২, ৮ দশমিক ২৬ এবং ৮ দশমিক ৩৪ শতাংশ।
আইএমএফের এ পূর্বাভাসের মাত্র কয়েক দিন আগে বিশ্বব্যাংক এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকও (এডিবি) বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়েছে।
গত ৬ অক্টোবর প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৪ শতাংশ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়। জ্বালানি ও ব্যাংক খাতের দীর্ঘস্থায়ী দুর্বলতা, বেসরকারি বিনিয়োগে স্থবিরতা এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড শ্লথ হওয়ার মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করে সংস্থাটি। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে চলতি অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৬ শতাংশের উচ্চ পর্যায়ে থাকতে পারে।
অন্যদিকে, গত সেপ্টেম্বরে ম্যানিলাভিত্তিক ঋণদাতা সংস্থা এডিবিও তাদের ‘এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক’ (এডিও)-এ বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ৪ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে নামিয়ে ৪ শতাংশ নির্ধারণ করে। এডিবি জানায়, জ্বালানি খাতের কাঠামোগত ঘাটতি ও ব্যাংক খাতের সংকটের কারণে সার্বিক অর্থনৈতিক সম্প্রসারণ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সংস্থাটির মতে, এ অর্থবছরে গড় মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশ ছুঁতে পারে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, আন্তর্জাতিক তিন প্রধান বহুপাক্ষিক সংস্থার পূর্বাভাসই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে সামষ্টিক অর্থনীতি বর্তমানে বহুমুখী চাপের মধ্যে রয়েছে। ব্যাংক খাতের সংস্কার, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর মুদ্রানীতি ও রাজস্বনীতির সমন্বয় ছাড়া অর্থনীতির গতি স্বাভাবিক করা কঠিন হবে।





















