বাণিজ্য প্রতিবেদক, জনপদের খবর:
রাজধানীর কাঁচাবাজারে সপ্তাহের ব্যবধানে ফের বাড়তে শুরু করেছে প্রায় সব ধরনের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দর। বিশেষ করে শীতকালীন আগাম সবজি বাজারে আসতে শুরু করলেও কেজিপ্রতি ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত দাম বাড়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ও নির্দিষ্ট আয়ের ক্রেতারা। সবজির পাশাপাশি মাছ ও মুরগির বাজারেও বাড়তি দামের কারণে স্বস্তি মিলছে না। তবে স্বস্তির দিক হচ্ছে, বাজারে গরুর ও খাসির মাংসের দর এখনো মোটামুটি স্থিতিশীল রয়েছে।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর ২০২৬) রাজধানীর শেওড়াপাড়া, আগারগাঁও তালতলা, বাড্ডা এবং ভাটারা নতুনবাজার ঘুরে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে বাজারদরের এমন বাস্তব চিত্র উঠে এসেছে।
বাজার পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, পাইকারি পর্যায়ে সবজির সরবরাহ তুলনামূলক ভালো থাকলেও খুচরা বাজারে গ্রীষ্মকালীন সবজির দাম বেড়েছে। বর্তমানে পটল, ঢ্যাঁড়শ ও চিচিঙ্গা বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৬০ থেকে ৮০ টাকায়। গত সপ্তাহের তুলনায় বেগুনের দাম কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে মানভেদে বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১২০ টাকায়। কাঁচা মরিচের ঝাঁঝও নতুন করে বেড়েছে; কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৪০ টাকায়। এ ছাড়া প্রতি কেজি টমেটো ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, জলপাই ৬০ থেকে ৮০ টাকা এবং গাজর ১০০ থেকে ১২০ টাকায় ঠেকেছে। তুলনামূলক কম দামের মধ্যে পেঁপে বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ২০ থেকে ২৫ টাকা, গোল আলু ৩০ টাকা এবং দেশি পেঁয়াজ ৫০ থেকে ৫৫ টাকা দরে।
এদিকে বাজারে আগাম শীতকালীন সবজির আগমন ঘটলেও তা সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে। বাজারে প্রতি কেজি নতুন শিম বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকায় এবং নতুন আলু বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা দরে। মুলার কেজি ৬০ টাকা, মাঝারি আকারের প্রতি পিস ফুলকপি ৫০ থেকে ৮০ টাকা এবং ছোট বাঁধাকপি ৪০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া কচুর লতি ৮০ টাকা, কচুরমুখী ৫০ থেকে ৬০ টাকা, শসা ৭০ থেকে ৮০ টাকা, বরবটি ৮০ থেকে ১০০ টাকা ও মিষ্টিকুমড়া ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে মিলছে। ধনেপাতার ক্ষেত্রে দেশি জাত ২৫০-২৮০ টাকা এবং হাইব্রিড জাত ২০০-২৩০ টাকা কেজিতে বিক্রি হতে দেখা গেছে। তবে শাকের বাজার কিছুটা নাগালের মধ্যে রয়েছে; প্রতি আঁটি লালশাক ১৫-২০ টাকা, লাউশাক ৪০-৫০ টাকা এবং পুঁইশাক ৪০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।
সবজির পর অস্বস্তি কাটছে না মাছ ও ব্রয়লার মুরগির বাজারেও। বাজারে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১৮০ টাকায়, সোনালি কক ৩২০ টাকা, সোনালি হাইব্রিড ২৯০ টাকা, লাল লেয়ার ৩৬০ টাকা এবং দেশি মুরগি বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৬৭০ টাকায়। ফার্মের লাল ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকায়, হাঁসের ডিমের ডজন ২০০ টাকা এবং দেশি মুরগির ডিমের হালি বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়।
মাছের বাজারে মাঝারি ও বড় আকারের মাছ সাধারণ ক্রেতাদের জন্য বেশ ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে। প্রতি কেজি চাষের শিং ৩৫০ থেকে ৬০০ টাকা এবং দেশি শিং ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রুই ও মৃগেল মাছের দাম ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা এবং চাষের পাঙ্গাশ ১৮০ থেকে ২৪০ টাকা কেজি। এছাড়া বড় চিংড়ি ৭০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা, বোয়াল ৬৫০ থেকে ৮০০ টাকা, কাতল ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকা, পাবদা ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা এবং তেলাপিয়া ২২০ থেকে ২৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ছোট মাছের মধ্যে মলা ও কাচকি ৫০০ টাকা এবং বাতাসি টেংরা বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৪০০ টাকা কেজি দরে।
তবে মাংসের বাজারে নতুন করে দাম বাড়েনি। বাজারে প্রতি কেজি গরুর মাংস ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ৩০০ টাকায় অপরিবর্তিত রয়েছে।
ভাটারা নতুনবাজারে বাজার করতে আসা সাদিয়া আক্তার বৃষ্টি নামের এক গৃহিণী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “নিত্যপণ্যের দাম লাগাতার বাড়ায় পারিবারিক বাজেট ঠিক রাখা সম্ভব হচ্ছে না। বিশেষ করে কাঁচা সবজি ও আমিষের মতো মৌলিক পণ্যের দাম বাড়লে সংসার চালানো দায় হয়ে পড়ে। বাজারে পণ্য আসার পরও কেন দাম বাড়ছে, তা প্রশাসনের নিয়মিত তদারকি করা উচিত।”
অন্যদিকে বাড্ডার ভ্যান সবজি বিক্রেতা রফিক জানান, “আমাদের আড়ত থেকেই বেশি দামে পণ্য কিনতে হচ্ছে। পরিবহন ও নষ্ট হওয়া সবজির ক্ষতি হিসাব করে সামান্য লাভে বিক্রি করতে হয়। দাম বাড়তি থাকায় ক্রেতারা এখন আগের মতো বেশি করে কিনছেন না, ফলে আমাদের বিক্রি ও দৈনিক আয় দুটিই কমে গেছে।”




















