পীরগাছা (রংপুর) প্রতিনিধি, জনপদের খবর:
রংপুরের পীরগাছায় একটি বসতবাড়িতে গড়ে তোলা অবৈধ কারখানায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ নকল সয়াবিন তেল, বিভিন্ন নামীদামি ব্যান্ডের নকল লেবেল, খালি বোতল ও তেল তৈরির সরঞ্জাম জব্দ করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম ক্ষতিকর এই ভেজাল তেল তৈরির দায়ে মশিউর রহমান (৪০) নামের এক ব্যবসায়ীকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দুপুরে উপজেলার গুয়াবাড়ি বালাপাড়া এলাকায় মশিউর রহমানের দোতলা বাসভবনে এ ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করে উপজেলা প্রশাসন। দণ্ডপ্রাপ্ত মশিউর ওই এলাকার আজিজুর রহমানের ছেলে। তিনি স্থানীয় পীরগাছা বাজারের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মুদি ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, নিজস্ব বসতবাড়ির আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে নকল ও ভেজাল সয়াবিন তেল তৈরি করে বাজারে সরবরাহ করা হচ্ছিল—এমন গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ওই বাড়িতে যৌথ অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় বাড়িটির নিচতলার তিনটি কক্ষ থেকে আনুমানিক ৫০ থেকে ৬০ কার্টন প্রক্রিয়াজাত করা নকল সয়াবিন তেল, বিপুল খালি বোতল, প্রতিষ্ঠিত বিভিন্ন ব্যান্ডের নকল স্টিকার ও লেবেল, ক্ষতিকর রাসায়নিক উপকরণ এবং তেল বোতলজাতকরণের নানা সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।
পরে ঘটনাস্থলেই ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে ভোক্তা অধিকার ও সংশ্লিষ্ট আইনে ব্যবসায়ী মশিউর রহমানকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয় এবং অনাদায়ে অর্থদণ্ডসহ মোট ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ ছাড়া জব্দ করা অবৈধ মালামাল ও ক্ষতিকর সামগ্রীর একাংশ প্রকাশ্যেই পুড়িয়ে ধ্বংস করে প্রশাসন।
এদিকে অভিযান চলাকালে ঘটনাস্থল থেকে ১০ থেকে ১২ ব্যারেল তেল সরিয়ে নেওয়ার একটি অভিযোগকে কেন্দ্র করে সেখানে উপস্থিত স্থানীয় লোকজনের মধ্যে কিছুটা উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
অভিযানের নেতৃত্ব দেওয়া পীরগাছা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তারেক হাসান তাহসিন সাংবাদিকদের জানান, “সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে বিপুল পরিমাণ নকল তেল ও তৈরির কারখানা জব্দ করা হয়েছে। অভিযুক্তকে কারাদণ্ড ও জরিমানা করার পাশাপাশি নকল মালামাল ধ্বংস করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসুরক্ষা ও ভোক্তা অধিকার সুরক্ষায় এ ধরনের ভেজালবিরোধী অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।”
ঘটনাস্থল থেকে ব্যারেল সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, অভিযানের সময় সেখানে প্রচুর উৎসুক জনতা ভিড় জমিয়েছিল। সেই ভিড়ের সুযোগে প্রশাসনের অগোচরে কেউ কিছু তেল নিয়ে গিয়ে থাকতে পারে, তবে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।





















