রহমত আরিফ, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:
টানা বর্ষণ আর উজান থেকে ধেয়ে আসা ঢলে ঠাকুরগাঁওয়ের প্রধান নদী টাঙ্গনের পানি আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় দেখা দিয়েছে ভয়াবহ নদীভাঙন। নদীর তীব্র স্রোত ও গর্জনে মুহূর্তের মধ্যে বিলীন হয়ে যাচ্ছে তীরবর্তী একের পর এক বসতবাড়ি। মাথা গোঁজার শেষ সম্বলটুকু হারিয়ে নিঃস্ব পরিবারগুলো এখন খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। বিকল্প থাকার জায়গা না থাকায় নদীর পাড়েই কোনোমতে পলিথিন ও টিনের তাঁবু খাটিয়ে ঠাঁই নিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।
মুহূর্তেই নদীগর্ভে বিলীন ঘরবাড়ি
স্থানীয় অধিবাসীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুম এলেই এই অঞ্চলের নদীপাড়ের মানুষদের নদীভাঙনের আতঙ্কে সিঁধুরে মেঘ দেখতে হয়। তবে এবারের ভাঙনের তীব্রতা অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। নদীর পানি বাড়ার সাথে সাথে তোড় এতটাই বেড়েছে যে পলক ফেলার আগেই পুরো বসতঘর নদীগর্ভে তলিয়ে যাচ্ছে।
অনেক পরিবার তড়িঘড়ি করে ঘরের হাড়ি-পাতিল ও মালামাল নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলেও আশ্রয়ের তীব্র সংকটে পড়তে হচ্ছে তাদের। আশপাশে কোনো নিরাপদ আশ্রয় কেন্দ্র বা ফাঁকা জায়গা না থাকায় বাধ্য হয়ে অনেকে ভাঙনকবলিত নদীর পারেই খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছেন।
জরুরি ত্রাণ ও স্থায়ী বাঁধের আকুল আবেদন
নদীভাঙনে সর্বস্ব হারানো মানুষগুলোর এখন একমাত্র চাওয়া একটু খাবার, মাথার ওপর নিরাপদ ছাদ এবং নদীভাঙন রোধে টেকসই পদক্ষেপ। খোলা আকাশের নিচে থাকা পরিবারগুলো চরম খাদ্য ও পানীয় জলের কষ্টে ভুগছে।
ক্ষতিগ্রস্তদের জোরালো দাবি, দ্রুত নদীভাঙন রোধে বাঁধ নির্মাণসহ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য জরুরি ত্রাণ সরবরাহ ও স্থায়ী পুনর্বাসনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। এলাকাবাসীর মতে, সময়মতো যদি টাঙ্গন নদীর তীরে স্থায়ী প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা না যায়, তবে আগামী দু-এক দিনের মধ্যে আরও বহু ঘরবাড়ি এবং বিস্তীর্ণ আবাদি ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে।

মোঃ আল আমিন কাজী 



















