ঢাকা , মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মালিতে অতর্কিত হামলায় অন্তত ৫০ সেনা নিহত, অন্তত ২৪ জনকে বন্দি করার দাবি দেশের ১৭ অঞ্চলে দুপুরের মধ্যে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের শঙ্কা, নদীবন্দরে ১ নম্বর সংকেত ২য় প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশ স্কোয়াশে আজিজের বাজিমাৎ: বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটিতে জমকালো সমাপনী কুরআন ও আধুনিক বিজ্ঞানের আলোকে ‘জীবন্ত মাটি’: অণুজীবের অদেখা জগৎ ও প্রকৃতির জীবনচক্র রাজধানীর বেশ কিছু এলাকায় আজ ৮ ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহ বন্ধ ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার আজকের নামাজের সময়সূচি চুয়াডাঙ্গায় শিশু মরিয়ম ধ*র্ষ*ণ ও হ*ত্যা মামলায় আসামির মৃ*ত্যু*দ*ণ্ড মাঠের লড়াই ছাপিয়ে জয়ী মানবিকতা: ২০২৬ বিশ্বকাপের ৭টি সেরা ও হৃদয়স্পর্শী মুহূর্ত ১০ গোল্ড ও ৪ জাতীয় রেকর্ডের বিস্ময়: মুন্সীগঞ্জের কৃতী সাঁতারু মাইশাকে জেলা প্রশাসনের সংবর্ধনা কালিয়াকৈরে বিল থেকে অজ্ঞাত বৃদ্ধের ভাসমান মরদেহ উদ্ধার সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কতার নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর, বিজিবিকে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ মূলমন্ত্রে কাজ করার আহ্বান ‘মেসিকে নিয়ে মাপকাঠি বদলে গেছে’: গোল্ডেন বল না পাওয়ায় ফিফাকে ইব্রাহিমোভিচের ধুয়ে দেওয়া মেসির সাথে যেন ‘প্রতারণা’ করেছে আর্জেন্টিনা: ফাইনালে হারের পর বিবিসির বিষোদ্গার টানা বৃষ্টিতে টাঙ্গনে তাণ্ডব: নদীভাঙনে সর্বস্ব হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে ঠাকুরগাঁওয়ের বহু পরিবার ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার আজকের নামাজের সময়সূচি: ২০ জুলাই ২০২৬

টানা বৃষ্টিতে টাঙ্গনে তাণ্ডব: নদীভাঙনে সর্বস্ব হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে ঠাকুরগাঁওয়ের বহু পরিবার

ঠাকুরগাঁওয়ে টাঙ্গন নদীর ভয়াবহ ভাঙন: ভিটেমাটি হারিয়ে নদীপাড়ে গৃহহীন বহু পরিবার | জনপদের খবর

রহমত আরিফ, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:

টানা বর্ষণ আর উজান থেকে ধেয়ে আসা ঢলে ঠাকুরগাঁওয়ের প্রধান নদী টাঙ্গনের পানি আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় দেখা দিয়েছে ভয়াবহ নদীভাঙন। নদীর তীব্র স্রোত ও গর্জনে মুহূর্তের মধ্যে বিলীন হয়ে যাচ্ছে তীরবর্তী একের পর এক বসতবাড়ি। মাথা গোঁজার শেষ সম্বলটুকু হারিয়ে নিঃস্ব পরিবারগুলো এখন খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। বিকল্প থাকার জায়গা না থাকায় নদীর পাড়েই কোনোমতে পলিথিন ও টিনের তাঁবু খাটিয়ে ঠাঁই নিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।

মুহূর্তেই নদীগর্ভে বিলীন ঘরবাড়ি

স্থানীয় অধিবাসীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুম এলেই এই অঞ্চলের নদীপাড়ের মানুষদের নদীভাঙনের আতঙ্কে সিঁধুরে মেঘ দেখতে হয়। তবে এবারের ভাঙনের তীব্রতা অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। নদীর পানি বাড়ার সাথে সাথে তোড় এতটাই বেড়েছে যে পলক ফেলার আগেই পুরো বসতঘর নদীগর্ভে তলিয়ে যাচ্ছে।

অনেক পরিবার তড়িঘড়ি করে ঘরের হাড়ি-পাতিল ও মালামাল নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলেও আশ্রয়ের তীব্র সংকটে পড়তে হচ্ছে তাদের। আশপাশে কোনো নিরাপদ আশ্রয় কেন্দ্র বা ফাঁকা জায়গা না থাকায় বাধ্য হয়ে অনেকে ভাঙনকবলিত নদীর পারেই খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছেন।

জরুরি ত্রাণ ও স্থায়ী বাঁধের আকুল আবেদন

নদীভাঙনে সর্বস্ব হারানো মানুষগুলোর এখন একমাত্র চাওয়া একটু খাবার, মাথার ওপর নিরাপদ ছাদ এবং নদীভাঙন রোধে টেকসই পদক্ষেপ। খোলা আকাশের নিচে থাকা পরিবারগুলো চরম খাদ্য ও পানীয় জলের কষ্টে ভুগছে।

ক্ষতিগ্রস্তদের জোরালো দাবি, দ্রুত নদীভাঙন রোধে বাঁধ নির্মাণসহ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য জরুরি ত্রাণ সরবরাহ ও স্থায়ী পুনর্বাসনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। এলাকাবাসীর মতে, সময়মতো যদি টাঙ্গন নদীর তীরে স্থায়ী প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা না যায়, তবে আগামী দু-এক দিনের মধ্যে আরও বহু ঘরবাড়ি এবং বিস্তীর্ণ আবাদি ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

মালিতে অতর্কিত হামলায় অন্তত ৫০ সেনা নিহত, অন্তত ২৪ জনকে বন্দি করার দাবি

টানা বৃষ্টিতে টাঙ্গনে তাণ্ডব: নদীভাঙনে সর্বস্ব হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে ঠাকুরগাঁওয়ের বহু পরিবার

আপডেট সময় : ২০ ঘন্টা আগে

রহমত আরিফ, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:

টানা বর্ষণ আর উজান থেকে ধেয়ে আসা ঢলে ঠাকুরগাঁওয়ের প্রধান নদী টাঙ্গনের পানি আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় দেখা দিয়েছে ভয়াবহ নদীভাঙন। নদীর তীব্র স্রোত ও গর্জনে মুহূর্তের মধ্যে বিলীন হয়ে যাচ্ছে তীরবর্তী একের পর এক বসতবাড়ি। মাথা গোঁজার শেষ সম্বলটুকু হারিয়ে নিঃস্ব পরিবারগুলো এখন খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। বিকল্প থাকার জায়গা না থাকায় নদীর পাড়েই কোনোমতে পলিথিন ও টিনের তাঁবু খাটিয়ে ঠাঁই নিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।

মুহূর্তেই নদীগর্ভে বিলীন ঘরবাড়ি

স্থানীয় অধিবাসীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুম এলেই এই অঞ্চলের নদীপাড়ের মানুষদের নদীভাঙনের আতঙ্কে সিঁধুরে মেঘ দেখতে হয়। তবে এবারের ভাঙনের তীব্রতা অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। নদীর পানি বাড়ার সাথে সাথে তোড় এতটাই বেড়েছে যে পলক ফেলার আগেই পুরো বসতঘর নদীগর্ভে তলিয়ে যাচ্ছে।

অনেক পরিবার তড়িঘড়ি করে ঘরের হাড়ি-পাতিল ও মালামাল নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলেও আশ্রয়ের তীব্র সংকটে পড়তে হচ্ছে তাদের। আশপাশে কোনো নিরাপদ আশ্রয় কেন্দ্র বা ফাঁকা জায়গা না থাকায় বাধ্য হয়ে অনেকে ভাঙনকবলিত নদীর পারেই খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছেন।

জরুরি ত্রাণ ও স্থায়ী বাঁধের আকুল আবেদন

নদীভাঙনে সর্বস্ব হারানো মানুষগুলোর এখন একমাত্র চাওয়া একটু খাবার, মাথার ওপর নিরাপদ ছাদ এবং নদীভাঙন রোধে টেকসই পদক্ষেপ। খোলা আকাশের নিচে থাকা পরিবারগুলো চরম খাদ্য ও পানীয় জলের কষ্টে ভুগছে।

ক্ষতিগ্রস্তদের জোরালো দাবি, দ্রুত নদীভাঙন রোধে বাঁধ নির্মাণসহ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য জরুরি ত্রাণ সরবরাহ ও স্থায়ী পুনর্বাসনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। এলাকাবাসীর মতে, সময়মতো যদি টাঙ্গন নদীর তীরে স্থায়ী প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা না যায়, তবে আগামী দু-এক দিনের মধ্যে আরও বহু ঘরবাড়ি এবং বিস্তীর্ণ আবাদি ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে।