সংসদীয় প্রতিবেদক, জনপদের খবর:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে মান্ধাতার আমলের পুরোনো যন্ত্রপাতি ও কৌশল থেকে বেরিয়ে এসে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীকে যুগোপযোগী আধুনিক প্রতিরক্ষা সরঞ্জামাদিতে সজ্জিত করার জোর সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি। একই সঙ্গে বাহিনীতে মেধা, দক্ষতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নিরপেক্ষ পদায়ন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬) জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে কমিটির সভাপতি মো. আশরাফ উদ্দিনের (এমপি) সভাপতিত্বে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে অংশ নেন কমিটির সদস্য ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি, হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, এস এম জিলানী, আব্দুস সালাম আজাদ, রেজা আহাম্মেদ, লুৎফুর রহমান এবং মো. আব্দুল বাতেন।
সভার শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করা হয়। এরপর কমিটির সম্মানিত সদস্যদের সঙ্গে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও এর আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার প্রধানদের আনুষ্ঠানিক পরিচিতি পর্ব এবং কার্যক্রমের ওপর প্রাথমিক পর্যালোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
স্বাগত বক্তব্যে কমিটির সভাপতি মো. আশরাফ উদ্দিন মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী বীর শহীদদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। এ ছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রাম ও জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনসহ বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক দায়িত্ব পালনকালে আত্মাহুতি দেওয়া সশস্ত্র বাহিনীর অকুতোভয় সদস্যদের প্রতি সম্মান জানান। একই সঙ্গে ২০২৪ সালের জুলাই গণ-আন্দোলনে শহীদ ছাত্র-জনতাকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ এবং আহতদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা প্রকাশ করেন তিনি।
সভাপতি বলেন, বাংলাদেশের ভৌগোলিক অখণ্ডতা, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা রয়েছে। স্বাধীনতার পর সশস্ত্র বাহিনীর পুনর্গঠন, সামরিক শৃঙ্খলা, সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আধুনিক প্রতিরক্ষা নীতি প্রণয়নে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা তিনি তুলে ধরেন। পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনীর প্রাতিষ্ঠানিক বিস্তার ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন।
পরবর্তীতে তিনি বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গৃহীত নানা উদ্যোগ তুলে ধরে বলেন, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে সুদৃঢ় করতে প্রধানমন্ত্রী সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, পরিসর সম্প্রসারণ এবং বাহিনীকে আন্তর্জাতিক মানের দক্ষ শক্তিতে রূপান্তরের বহুমুখী কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছেন।
বৈঠকে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ২৫টি দপ্তর ও সংস্থার সামগ্রিক কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হয়। এ সময় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর চলমান আধুনিকায়ন কার্যক্রম সংক্ষেপে কমিটির সামনে তুলে ধরা হয়।
পর্যালোচনা শেষে কমিটি সেকেলে প্রযুক্তি পরিহার করে অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের সংযোজন নিশ্চিত করার তাগিদ দেয়। পাশাপাশি সেনাবাহিনী কর্তৃক নির্মাণাধীন অবকাঠামোগুলোতে টেকসই জ্বালানি সাশ্রয়ের (Save Energy) মাধ্যমে সরকারি অর্থ সাশ্রয় (Save Money) নীতি অনুসরণের সুপারিশ করা হয়।
কমিটির সদস্যরা আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী সর্বদা জনগণের স্বার্থের পক্ষে থেকে একটি গণতান্ত্রিক, আত্মনির্ভরশীল ও আধুনিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বৈঠকে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, অতিরিক্ত সচিব, সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।





















