সচিবালয় ও অর্থনৈতিক প্রতিবেদক, জনপদের খবর:
দেশে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) কোনো ধরনের ঘাটতি বা সংকট নেই বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। একই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, কোনো মহল যদি অসৎ উদ্দেশ্যে এলপিজি অবৈধভাবে মজুত করে বাজারে কৃত্রিম সংকট কিংবা জনঅসন্তোষ সৃষ্টির অপচেষ্টা চালায়, তবে সরকার তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দুপুরে সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের সার্বিক কার্যক্রমের অগ্রগতি তুলে ধরতে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সর্বশেষ পরিসংখ্যান তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জানান, গত আগস্ট মাসে দেশে মোট ১ লাখ ৫৭ হাজার ৭৬০ মেট্রিক টন এলপিজি আমদানি হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় চলতি সেপ্টেম্বর মাসে এ পর্যন্ত আমদানি সম্পন্ন হয়েছে আরও ১ লাখ ১৮ হাজার মেট্রিক টন। সরকারের উচ্চপর্যায়ে উপস্থাপিত সার্বিক তথ্য-উপাত্ত অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে এলপিজির আমদানি, সরবরাহ এবং কৌশলগত মজুত পরিস্থিতি যথেষ্ট সন্তোষজনক ও স্থিতিশীল রয়েছে।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, সম্প্রতি এলপিজির সামগ্রিক আমদানি, মজুত, সরবরাহ পরিস্থিতি এবং বাজারদর পর্যালোচনার লক্ষ্যে অংশীজনদের নিয়ে এক যৌথ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় এলপিজি আমদানিকারক ও প্রধান প্রধান বিপণনকারী অপারেটররা বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীকে আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন যে, দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে এলপিজির কোনো ধরনের ঘাটতি বা সরবরাহের বিঘ্ন নেই।
তবে পর্যাপ্ত মজুত ও সরবরাহ স্বাভাবিক থাকা সত্ত্বেও মাঠপর্যায়ে কোথাও কোথাও এলপিজির দর বাড়ানোর একটি প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “অসৎ উদ্দেশ্যে কেউ যেন কৃত্রিম মজুত গড়ে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি ও অসন্তোষ সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকদের আগেই সতর্ক করে দিয়েছেন।”
আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাব প্রসঙ্গে উপদেষ্টা আরও যোগ করেন, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক পণ্যবাজারে এক ধরনের অনিশ্চয়তা ও জল্পনামূলক প্রবণতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। এর কিছুটা মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব অভ্যন্তরীণ বাজারেও পড়তে পারে। তবে সার্বিক পরিস্থিতি সরকার অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং বাজার স্থিতিশীল রাখতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের তদারকি ও কার্যকর পদক্ষেপ অব্যাহত রাখা হয়েছে।





















