নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা:
“বিভেদ নয়—ঐক্য, প্রতিশোধ নয়—ক্ষমা ও সংশোধন এবং ক্ষমতার প্রদর্শন নয়—সেবার মনোভাবকে ধারণ করেই পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ব পালন করতে হবে। মানুষের পাশাপাশি মহান আল্লাহর সৃষ্টি প্রতিটি প্রাণীর প্রতি ভালোবাসা ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মাধ্যমেই কেবল একটি সুন্দর ও মানবিক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।”
আজ শনিবার (১ আগস্ট) সকাল ১০টায় খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) পুলিশ লাইন্স ড্রিলশেডে আয়োজিত ‘গ্র্যান্ড কল্যাণ সভা ও বিদায় সংবর্ধনা’ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন বদলিজনিত কারণে বিদায়ী কেএমপি পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান।
বদলিজনিত বিদায় উপলক্ষে কেএমপির পক্ষ থেকে সুশৃঙ্খল, বর্ণিল ও আবেগঘন এই সংবর্ধনা সভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে কেএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের পুলিশ সদস্যরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে বিদায়ী কমিশনারকে কেএমপির পক্ষ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয় এবং দায়িত্বকালীন গৌরবোজ্জ্বল কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতি হিসেবে বিশেষ সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।
‘ভালো পুলিশ হওয়ার আগে ভালো মানুষ হওয়া জরুরি’
সংবর্ধনা সভায় কেএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিদায়ী কমিশনারের কর্মকালীন নানা স্মৃতি ও অনুভূতি তুলে ধরে তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্বের প্রশংসা করেন।
বক্তারা বলেন, খুলনা মহানগরীতে দায়িত্ব পালনের পুরো সময়জুড়ে তিনি সততা, পেশাদারিত্ব ও মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। বিশেষ করে জনবান্ধব পুলিশিং প্রতিষ্ঠা, পুলিশ সদস্যদের নিজস্ব কল্যাণ সাধন এবং সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জনে তাঁর আন্তরিক প্রচেষ্টা দৃষ্টান্তমূলক। তিনি তাঁর কর্মের মাধ্যমে শিখিয়েছেন—একজন দক্ষ পুলিশ কর্মকর্তা হওয়ার পূর্বশর্ত হলো একজন ভালো মানুষ হওয়া।
মানবিক আচরণ ও সেবার মানসিকতায় জোর
বিদায়ী বক্তব্যে জাহিদুল হাসান পুলিশ সদস্যদের কল্যাণ, মানসিক সুস্থতা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রেখে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, “পুলিশের কাজ কেবল আইনশৃঙ্খলা রক্ষা কিংবা অপরাধ দমনেই সীমাবদ্ধ নয়। জনগণের সঙ্গে সৌজন্যমূলক ও মানবিক আচরণ করা, বিপদে তাদের পাশে দাঁড়ানো এবং পুলিশের প্রতি জনগণের আস্থা তৈরি করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।”
কর্মক্ষেত্রের নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও পেশাগত সততা ও মানবিক মূল্যবোধ ধরে রাখার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, একজন পুলিশ সদস্যের মূল শক্তিই হলো তাঁর নৈতিক আচরণ, সততা ও সেবার মানসিকতা।
অনুষ্ঠান শেষে বিদায়ী কমিশনারকে ঘিরে পুলিশ সদস্যদের মাঝে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। কেএমপির সকল স্তরের কর্মকর্তা ও সদস্যরা তাঁর সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের সার্বিক সাফল্য কামনা করে বিদায় জানান।

মোঃ আল আমিন কাজী 


















