ধর্ম ও জীবন ডেস্ক, জনপদের খবর:
পার্থিব জীবনে নানামুখী শত্রুতা, চক্রান্ত কিংবা অনাকাঙ্ক্ষিত বিপদের মুখে মানুষের একমাত্র ভরসাস্থল হলেন মহান প্রতিপালক আল্লাহ তাআলা। মানুষের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের অনিষ্ট, জুলুম বা ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা দেখা দিলে প্রিয়নবী হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা রেখে বিশেষ দোয়ার মাধ্যমে নিরাপত্তা প্রার্থনা করার শিক্ষা দিয়েছেন। তেমনই এক কার্যকর ও সহিহ সনদে বর্ণিত দোয়া হলো—‘আল্লাহুম্মাকফিনিহিম বিমা শি-তা’।
দোয়ার আরবি ও অর্থ:
- আরবি পাঠ: اللَّهُمَّ اكْفِنِيهِمْ بِمَا شِئْتَ
- উচ্চারণ: আল্লাহুম্মাকফিনিহিম বিমা শি-তা।
- বাংলা অর্থ: “হে আল্লাহ! তোমার যেভাবে ইচ্ছা, তুমি আমাকে তাদের (শত্রুদের যাবতীয় অনিষ্ট ও ষড়যন্ত্র) থেকে রক্ষা করো।”
দোয়ার প্রেক্ষাপট ও সহিহ হাদিস:
সহিহ মুসলিম শরিফে আসহাবু উখদুদের (গর্তের অধিবাসীদের) দীর্ঘ ঐতিহাসিক ঘটনায় এই দোয়ার অলৌকিক কার্যকারিতা বর্ণিত হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, পূর্ববর্তী যুগের এক বালক আল্লাহর ওপর পূর্ণ ঈমান আনার কারণে তৎকালীন অত্যাচারী শাসক তাকে হত্যার ষড়যন্ত্র করে। রাজা তাকে যতবারই পাহাড়ে বা গভীর সমুদ্রে ফেলে বিভিন্ন কৌশলে হত্যা করতে চেয়েছিল, প্রতিবারই সেই বালক এই দোয়ার মাধ্যমে মহান আল্লাহর দরবারে আকুল প্রার্থনা জানায়। প্রতিবারই পরম পরাক্রমশালী আল্লাহ তাকে কুদরতিভাবে রক্ষা করেন এবং ষড়যন্ত্রকারীরা ধ্বংস হয়, কিন্তু বালকের কোনো ক্ষতি তারা করতে পারেনি (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৭৪০১ / আন্তর্জাতিক নম্বর: ৩০০৫)।
ফজিলত ও আমলের তাৎপর্য:
ইসলামিক স্কলারদের মতে, যেকোনো প্রতিকূল পরিবেশে এই দোয়ার গুরুত্ব অপরিসীম:
- শত্রুভীতি দূরীকরণ: ব্যক্তি, পরিবার বা কর্মক্ষেত্রে কোনো ক্ষতিকর ব্যক্তি, প্রতিপক্ষ বা শত্রুর চক্রান্তের আশঙ্কা তৈরি হলে দোয়াটি মনের ভীতি দূর করে সাহস জোগায়।
- আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল: এই দোয়ায় বান্দা নিজেই কোনো সমাধান না খুঁজে সবকিছু মহান আল্লাহর প্রজ্ঞার ওপর সঁপে দেয়—‘হে আল্লাহ, তুমি যেভাবে উপযুক্ত মনে করো সেভাবেই আমাকে নিরাপত্তা দাও’।
- নবীজির আমল: রাসুলুল্লাহ (সা.) যখনই কোনো বিরুদ্ধবাদী জাতি বা সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে ক্ষতির আশঙ্কা করতেন, তখনই আল্লাহর কাছে আশ্রয় চেয়ে এ ধরনের আত্মরক্ষামূলক দোয়া পাঠ করতেন।
আলেমদের পরামর্শ, বর্তমান ফিতনা ও সংঘাতময় বাস্তবতায় মুমিন মুসলমানের উচিত যাবতীয় অন্যায় চক্রান্ত, সামাজিক অপপ্রচার ও শত্রুর অনিষ্ট থেকে রক্ষা পেতে প্রিয়নবী (সা.)-এর শেখানো এই শক্তিশালী দোয়াটি নিয়মিত পাঠ করা এবং সর্বদা এক আল্লাহর ওপর পূর্ণ তাওয়াক্কুল বজায় রাখা।





















