
জনপদের খবর
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬ | সময়: ০৭:০৮ এএম
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
কংগ্রেসের পূর্বানুমোদন ছাড়া প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানে সামরিক হামলা চালানোর ক্ষমতা সীমিত করতে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব পাস করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদ (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস)। রিপাবলিকান দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকা সত্ত্বেও কংগ্রেসে এমন একটি প্রস্তাব পাস হওয়াকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্য বড় ধরনের রাজনৈতিক ধাক্কা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
স্থানীয় সময় বুধবার (৩ জুন) যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে ডেমোক্র্যাটদের উত্থাপিত ‘ওয়ার পাওয়ারস’ (War Powers) নামের এই প্রস্তাবটি ২১৫-২০৮ ভোটে পাস হয়। ভোটাভুটিতে চারজন রিপাবলিকান সদস্যও ডেমোক্র্যাটদের আনা এই প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেন।
পাস হওয়া এই প্রস্তাবটিতে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া চলমান ইরান সংঘাত বন্ধের জোর আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রস্তাবটি চূড়ান্তভাবে আইনে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা বেশ কম। কারণ এটি কার্যকর হতে হলে কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটেও পাস হয়ে আসতে হবে। এরপরও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যদি এতে ভেটো (Veto) প্রয়োগ করেন, তবে তা বাতিল করতে উভয় কক্ষেই দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন প্রয়োজন হবে। তারপরও প্রতিনিধি পরিষদে এটি পাস হওয়া ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য একটি দৃশ্যমান রাজনৈতিক অস্বস্তি। এর আগে প্রতিনিধি পরিষদে এমন তিনটি উদ্যোগ ব্যর্থ হয়েছিল, যদিও প্রতিবারই ভোটের ব্যবধান কমে আসছিল।
জানা যায়, ইরানে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার আগে ট্রাম্প কংগ্রেসের কোনো অনুমোদন নেননি। প্রশাসন এই সংঘাতকে ‘ছোটখাটো সংঘর্ষ’ বা ‘স্বল্পমেয়াদি সামরিক অভিযান’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করেছে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী, আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ ঘোষণা করার একক ক্ষমতা কেবল কংগ্রেসের হাতেই ন্যস্ত। প্রেসিডেন্টের বারবার সামরিক শক্তি প্রয়োগের এই একক সিদ্ধান্তে কংগ্রেসের অনেক আইনপ্রণেতা হতাশ ও ক্ষুব্ধ হয়েছেন।
বুধবারের এই ভোট ছিল চলতি বছরে এ সংক্রান্ত চতুর্থ উদ্যোগ। এর আগে গত ২১ মে কংগ্রেসের মেমোরিয়াল ডে অবকাশ শুরুর আগের দিন ওয়ার পাওয়ারস অ্যাক্টের ওপর ভোট হওয়ার কথা ছিল। তবে প্রস্তাবটি কিছু রিপাবলিকানের সমর্থন নিয়ে পাস হতে পারে—এমন জোরালো ইঙ্গিত থাকায় শেষ মুহূর্তে ভোটটি বাতিল করা হয়। ওই সময় স্পিকার মাইক জনসন নির্ধারিত সময়ের আগেই অধিবেশন মুলতবি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ শুরু করে। আগামী শনিবার এই সংঘাতের ১০০ দিন পূর্ণ হতে যাচ্ছে। গত ৮ এপ্রিল থেকে উভয় পক্ষের মধ্যে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও, এই সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একে অপরের ওপর একাধিকবার সীমিত পরিসরে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

মোঃ আল আমিন কাজী 























