
জনপদের খবর অনলাইন সংস্করণ | ঢাকা
তারিখ: মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬ | সময়: সকাল ১০:০০ টা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত নৌপথ ‘হরমুজ প্রণালি’ পুনরায় উন্মুক্ত করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। তবে এবার নতুন কিছু শর্ত ও ট্রানজিট ফি আরোপের মধ্য দিয়ে প্রণালিটি পরিচালনা করা হতে পারে। রাশিয়ায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত কাজেম জালালি এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, প্রণালিটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে ট্রানজিট ফিসহ বিভিন্ন নতুন শর্ত ইরান ও ওমান যৌথভাবে নির্ধারণ করবে।
রুশ সংবাদমাধ্যম ‘ইজভেস্তিয়া’কে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রদূত কাজেম জালালি বলেন, “হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা ও ব্যবহার সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে ইরান ও ওমান একসঙ্গে বসে সিদ্ধান্ত নেবে। এই প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা ও বিভিন্ন সেবা দেওয়ার বিপরীতে মূলত এই ফি বা টোল নির্ধারণ করা হবে।”
বিশ্বজুড়ে সমুদ্রপথে পরিবাহিত মোট জ্বালানি তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ (২০ শতাংশ) এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। তবে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাত শুরু হওয়ার পর এই রুটে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল প্রায় ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ পর্যন্ত স্থবির হয়ে পড়ে। এর ফলে বিশ্ববাজারে প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ ব্যারেল তেলের ঘাটতি তৈরি হয়েছে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে।
আন্তর্জাতিক এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে কোনো ধরনের টোল বা ফি আরোপের বিষয়ে শুরু থেকেই তীব্র আপত্তি জানিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্য রাষ্ট্রগুলো। একই সময়ে ইসরায়েলি বিমান হামলাসহ সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনার কারণে এই অঞ্চলের পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে।
এদিকে, ইরানের বার্তা সংস্থা ‘তাসনিম’কে দেওয়া আরেকটি সাক্ষাৎকারে কাজেম জালালি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার চলমান আলোচনায় ইউরোপের কোনো ভূমিকা নেই। মধ্যপ্রাচ্য সংকট নিরসনে ইরান ও মার্কিন সরকারের মধ্যে যে কূটনৈতিক আলোচনা চলছে, সেখানে ইউরোপ কোনো অংশীদার নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তবে এই ট্রানজিট ফি চালুর বিষয়ে ওমানের অবস্থান কিছুটা ভিন্ন। ব্রিটিশ সংবাদপত্র ‘দ্য গার্ডিয়ান’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ওমানের রাষ্ট্রদূত তালাল বিন সুলাইমান আল-রাহবি সম্প্রতি ওয়াশিংটনকে আশ্বস্ত করে বলেছেন—ওমান হরমুজ প্রণালিতে কোনো ধরনের একক টোল ব্যবস্থা চালুর পক্ষে নয় এবং তারা আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচলের স্বাধীনতার নীতিকে পুরোপুরি সমর্থন করে।
ওমান প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা ইরানের সঙ্গে কেবল এমন একটি ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা কাঠামো নিয়ে আলোচনা করছে, যা আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে। এ বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা (আইএমও)-এর সঙ্গেও পরামর্শ করার পরিকল্পনা রয়েছে ওমানের।
দীর্ঘদিনের মার্কিন মিত্র ওমান ঐতিহ্যগতভাবেই হরমুজ প্রণালির যৌথ তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে কাজ করে আসছে। একই সঙ্গে তারা মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পক্ষের মধ্যে একটি নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারী দেশ হিসেবে পরিচিত। সম্প্রতি ওমান ইসরায়েলের আন্তর্জাতিক আইন অমান্য করার প্রবণতার তীব্র সমালোচনা করেছে, পাশাপাশি বাহরাইন ও কুয়েতে ইরানের হামলার ঘটনাতেও উদ্বেগ ও নিন্দা প্রকাশ করেছে।

মোঃ আল আমিন কাজী 






















