মোঃ আল আমিন কাজী, নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা:
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে (খুবি) আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ও একাডেমিক ভবনগুলোর তালা খুলে দিয়েছেন। এর ফলে আজ রবিবার (২৬ জুলাই) থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের দাপ্তরিক কার্যক্রম স্বাভাবিক হয়েছে। তবে, শিক্ষার্থীদের তিন দফা দাবি পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।
চাবি হারিয়ে তালা ভাঙলেন শিক্ষার্থীরা
গতকাল শনিবার রাতে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন ভবনের তালা খুলে দিলেও মূল প্রশাসনিক ভবনের তালা খুলতে পারেননি। সে সময় তারা জানান, চাবি খুঁজে না পাওয়ায় তালা খোলা সম্ভব হচ্ছে না।
আজ রবিবার সকাল ৯টা থেকে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল প্রশাসনিক ভবনের বাইরে অপেক্ষা করতে দেখা যায়। পরে সকাল ৯টা ৪০ মিনিটের দিকে শিক্ষার্থীরা এসে তালা ভেঙে ভবনটি খুলে দিলে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ভেতরে প্রবেশ করেন এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু হয়।
প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক ও সংহতি প্রকাশ
এর আগে শনিবার বিকালে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। রাতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, সুষ্ঠু তদন্ত ও দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনার স্বার্থেই শিক্ষার্থীরা তালা খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, গত ২২ জুলাই রাতে বিজয় ’২৪ হলের ঘটনার জেরে শিক্ষার্থীদের তিন দফা দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সব ডিসিপ্লিনের প্রধানরা নিজ নিজ বিভাগের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিচারের দাবির প্রতি শিক্ষকেরা একাত্মতা প্রকাশ করেছেন।
এছাড়া শনিবার বিকাল সাড়ে ৪টায় উপাচার্যের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জরুরি সভায় সহ-উপাচার্য, ট্রেজারার, ডিন, ডিসিপ্লিনপ্রধান ও প্রভোস্টরা শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সংহতি জানান। এরপর শিক্ষকদের প্রতিনিধি দল শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বললে তারা ভবনের তালা খুলে দিতে সম্মত হন।
একাডেমিক কার্যক্রম বর্জনের সিদ্ধান্তে অনড়
ভবনের তালা খুললেও ক্লাস-পরীক্ষায় এখনই ফিরছেন না শিক্ষার্থীরা। শনিবার রাত ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীদের পরিচালিত ‘টু টু’ ফেসবুক পেজে ‘সাধারণ শিক্ষার্থীবৃন্দ’-এর প্যাডে একটি বিবৃতি প্রকাশিত হয়। ওই বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়, “সাধারণ শিক্ষার্থীদের তিন দফা দাবি পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত সব ধরনের একাডেমিক কার্যক্রম বর্জন অব্যাহত থাকবে।”
আন্দোলনের প্রেক্ষাপট
উল্লেখ্য, সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে হয়রানি এবং বিজয় ’২৪ হলের এক ক্যানটিনকর্মীর বিরুদ্ধে গোপনে ছাত্রীদের ভিডিও ধারণের অভিযোগ ওঠে। এসব ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে শিক্ষার্থীরা তিন দফা দাবি পেশ করেন এবং অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস-পরীক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বর্জনের ঘোষণা দেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত বৃহস্পতিবার তারা প্রশাসনিক ও একাডেমিক ভবনগুলোয় তালা ঝুলিয়ে দিয়েছিলেন।

মোঃ আল আমিন কাজী 



















