ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন আইন ২০২৬-এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দিল মন্ত্রিসভা ‘বেদের মেয়ে জোসনা’ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে নির্মিত হচ্ছে নতুন ধারাবাহিক নাটক জনপদের খবর অর্থনৈতিক চাপ সামরিক ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যর্থতার স্বীকারোক্তি: আইআরজিসি ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আজকের নামাজের সময়সূচি (২৪ আগস্ট ২০২৬) আশুলিয়ায় প্রতারক ও অপহরণকারী চক্রের দুই নারীসহ ৫ সদস্য আটক নির্ধারিত দামে সার বিক্রির নির্দেশ বিএফএর: নীতিমালা ভাঙলে ডিলারশিপ বাতিলের হুঁশিয়ারি মেসির গোলে আশা জাগিয়েও হার: টানা এক মাস জয়হীন ইন্টার মায়ামি আজ বঙ্গভবনে উঠছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জাতীয় স্মৃতিসৌধে বীর শহীদদের প্রতি নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের শ্রদ্ধা ঢাকার ৪১৬ বছর পূর্তিতে বুড়িগঙ্গায় জমজমাট নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত ইতিহাস থেকে শিক্ষা না নেওয়ায় শেখ হাসিনার পতন হয়েছে: তথ্যমন্ত্রী দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মৌচাকে ফুট ওভারব্রিজের দাবিতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ, দীর্ঘ যানজট পবিত্র জুমার গুরুত্ব, বিশেষ ফজিলত ও হাদিস অনুযায়ী করণীয় আমল

আন্তর্জাতিক বাঘ দিবস আজ: সুন্দরবনে বাড়ছে বাঘ, তবে চ্যালেঞ্জ এখনো বাঘের টিকে থাকায়

আন্তর্জাতিক বাঘ দিবস আজ | সুন্দরবনে কতটি বাঘ আছে? | Sundarbans Tiger News

বিশেষ প্রতিনিধি:

বিশ্বজুড়ে নানা আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে আজ বুধবার (২৯ জুলাই) পালিত হচ্ছে ‘আন্তর্জাতিক বাঘ দিবস’। সুন্দরবন ও এর আশপাশের অঞ্চলসহ বাঘের প্রাকৃতিক আবাসস্থল রক্ষা এবং এদের সংরক্ষণে মানুষের মধ্যে ব্যাপক সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রতি বছর এই দিবসটি পালন করা হয়।

বাংলাদেশে দিবসটি উপলক্ষে আজ রাজধানীতে কেন্দ্রীয়ভাবে এবং সুন্দরবনের চারটি রেঞ্জে বন্যপ্রাণী প্রেমী ও স্থানীয়দের অংশগ্রহণে আলোচনা সভা, পথসভা, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতাসহ নানা সচেতনতামূলক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

কেমন আছে সুন্দরবনের রাজা?

একসময় বাংলাদেশের প্রধান বন্যপ্রাণী আবাসস্থল সুন্দরবনে চার শতাধিক রাজকীয় ‘রয়েল বেঙ্গল টাইগার’ স্বাচ্ছন্দে বিচরণ করত। তবে চোরাশিকার, আবাসস্থল সংকোচন এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে এই সংখ্যা অনেক কমে আসে। শুভ খবর হলো, সর্বশেষ ২০২৪ সালের বাঘ জরিপ অনুযায়ী সুন্দরবনে বর্তমানে বাঘের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২৫টিতে।

বন বিভাগের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ২০১৫ সালের শুমারিতে সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা ছিল ১০৬টি, যা ২০১৮ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ১১৪টিতে। ২০২৪ সালের জরিপে সে সংখ্যা আরও ১১টি বেড়ে ১২৫টি হয়েছে। সবচেয়ে আশার কথা হলো, জরিপের ক্যামেরায় উঠে এসেছে ২১টি বাঘশাবকের ছবি, যা সুন্দরবনে বাঘের বংশবৃদ্ধির ইতিবাচক ইঙ্গিত দেয়।

তবে সংখ্যার এই বৃদ্ধি স্বস্তিদায়ক হলেও আশঙ্কার মেঘ পুরোপুরি কেটে যায়নি। সুন্দরবনের ভেতরে পাঁচটি বড় নদী থাকায় পূর্ব ও পশ্চিম অংশের মধ্যে বাঘের অবাধ চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। পাশাপাশি চোরাশিকারিদের দৌরাত্ম্য, হরিণ শিকারের ফলে তৈরি হওয়া তীব্র খাদ্যসংকট এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আবাসস্থল সংকুচিত হয়ে আসছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভৌগোলিক বিচ্ছিন্নতার কারণে বাঘের মধ্যে জিনগত ও কাঠামোগত পরিবর্তন আসার ঝুঁকি রয়েছে, যা ধীরে ধীরে তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও প্রতিকূল পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার সক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে।

মৃত্যু এবং মানুষ-বাঘ দ্বন্দ্বের খতিয়ান

আইন কঠোর করা সত্ত্বেও গত দুই দশকে বাঘের জন্য সুন্দরবনে টিকে থাকার লড়াই কঠিন থেকে কঠিনতর হয়েছে। গত ২৪ বছরে সুন্দরবনে ৩০টিসহ দেশে মোট ৯১টি বাঘের করুণ মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে পাচারকারী ও চোরাশিকারিদের হাতে নিহত হয়েছে ২৬টি, লোকালয়ে ঢুকে পড়ায় উত্তেজিত গ্রামবাসীর পিটুনিতে প্রাণ হারিয়েছে ১৪টি এবং বনদস্যুদের হাতে মারা পড়েছে ১৮টি। এছাড়া ২১টি বাঘ বার্ধক্যজনিত কারণে স্বাভাবিকভাবে মারা যায় এবং ৩টি মারা যায় বিধ্বংসী প্রাকৃতিক দুর্যোগে।

অন্যদিকে, সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল বনজীবীদের জীবনও কম ঝুঁকিপূর্ণ নয়। এই সময়ে বাঘের আক্রমণে অন্তত ৪২৫ জন বনজীবী প্রাণ হারিয়েছেন। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, ২০২৪ সালের পর থেকে সুন্দরবনে আর কোনো বাঘের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

বাঘ রক্ষায় কঠোর আইন ও বিশেষ পদক্ষেপ

বাঘ সংরক্ষণে স্বাধীনতার পরপরই ১৯৭৩ সালে ‘বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ) আদেশ’ জারির মাধ্যমে বাঘ শিকার আইনগতভাবে নিষিদ্ধ করা হয়। পরবর্তীতে ২০১২ সালে ‘বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন’ সংশোধন করে বাঘ হত্যা, শিকার ও পাচারের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান যুক্ত করা হয়।

আইনি বাধ্যবাধকতার পাশাপাশি বন বিভাগ সুন্দরবনে বেশ কিছু ব্যতিক্রমী সুরক্ষামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে:

  • উঁচু টিলা ও মিষ্টি পানি: প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও জলোচ্ছ্বাসের সময় বাঘ ও বন্যপ্রাণীদের নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ২০টি উঁচু মাটির টিলা (কেল্লা) তৈরি করা হয়েছে এবং সুপেয় পানির ব্যবস্থা করতে খনন করা হয়েছে পুকুর।
  • বেড়া ও নজরদারি: লোকালয়ে বাঘের প্রবেশ ঠেকাতে ৭৫ কিলোমিটার দীর্ঘ নাইলনের বেড়া দেওয়া হয়েছে। এছাড়া শিকারিদের আনাগোনা রয়েছে এমন ২৫টি আশঙ্কাজনক ‘হটস্পট’ চিহ্নিত করে সার্বক্ষণিক ক্যামেরা ট্র্যাপের মাধ্যমে মনিটরিং করা হচ্ছে।
  • প্রজনন মৌসুমে প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা: বাঘের নির্বিঘ্ন প্রজনন নিশ্চিত করতে জুন, জুলাই ও আগস্ট—এই তিন মাস সুন্দরবনে পর্যটক, জেলে ও বাওয়ালিদের প্রবেশ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ রাখা হচ্ছে।

বন বিভাগ যা বলছে

সার্বিক নিরাপত্তা বিষয়ে বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় বর্তমানে সুন্দরবনের বাঘ অনেক বেশি নিরাপদে আছে। ২০২৪ সালের পর এখন পর্যন্ত সুন্দরবনে কোনো বাঘের মৃত্যু ঘটেনি।

তিনি আরও বলেন, “বাঘের আবাসস্থল নিরাপদ রাখতে প্রযুক্তিভিত্তিক ‘স্মার্ট পেট্রলিং’, ড্রোন মনিটরিং এবং নিয়মিত হেঁটে টহল পরিচালনা করা হচ্ছে। চোরাশিকারিদের দমনে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সকলের সম্মিলিত সচেতনতাই পারে আমাদের জাতীয় পশু রয়েল বেঙ্গল টাইগারকে চিরতরে টিকিয়ে রাখতে।”

জনপ্রিয় সংবাদ

আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন আইন ২০২৬-এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দিল মন্ত্রিসভা

আন্তর্জাতিক বাঘ দিবস আজ: সুন্দরবনে বাড়ছে বাঘ, তবে চ্যালেঞ্জ এখনো বাঘের টিকে থাকায়

আপডেট সময় : ০৭:৪৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

বিশেষ প্রতিনিধি:

বিশ্বজুড়ে নানা আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে আজ বুধবার (২৯ জুলাই) পালিত হচ্ছে ‘আন্তর্জাতিক বাঘ দিবস’। সুন্দরবন ও এর আশপাশের অঞ্চলসহ বাঘের প্রাকৃতিক আবাসস্থল রক্ষা এবং এদের সংরক্ষণে মানুষের মধ্যে ব্যাপক সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রতি বছর এই দিবসটি পালন করা হয়।

বাংলাদেশে দিবসটি উপলক্ষে আজ রাজধানীতে কেন্দ্রীয়ভাবে এবং সুন্দরবনের চারটি রেঞ্জে বন্যপ্রাণী প্রেমী ও স্থানীয়দের অংশগ্রহণে আলোচনা সভা, পথসভা, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতাসহ নানা সচেতনতামূলক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

কেমন আছে সুন্দরবনের রাজা?

একসময় বাংলাদেশের প্রধান বন্যপ্রাণী আবাসস্থল সুন্দরবনে চার শতাধিক রাজকীয় ‘রয়েল বেঙ্গল টাইগার’ স্বাচ্ছন্দে বিচরণ করত। তবে চোরাশিকার, আবাসস্থল সংকোচন এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে এই সংখ্যা অনেক কমে আসে। শুভ খবর হলো, সর্বশেষ ২০২৪ সালের বাঘ জরিপ অনুযায়ী সুন্দরবনে বর্তমানে বাঘের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২৫টিতে।

বন বিভাগের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ২০১৫ সালের শুমারিতে সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা ছিল ১০৬টি, যা ২০১৮ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ১১৪টিতে। ২০২৪ সালের জরিপে সে সংখ্যা আরও ১১টি বেড়ে ১২৫টি হয়েছে। সবচেয়ে আশার কথা হলো, জরিপের ক্যামেরায় উঠে এসেছে ২১টি বাঘশাবকের ছবি, যা সুন্দরবনে বাঘের বংশবৃদ্ধির ইতিবাচক ইঙ্গিত দেয়।

তবে সংখ্যার এই বৃদ্ধি স্বস্তিদায়ক হলেও আশঙ্কার মেঘ পুরোপুরি কেটে যায়নি। সুন্দরবনের ভেতরে পাঁচটি বড় নদী থাকায় পূর্ব ও পশ্চিম অংশের মধ্যে বাঘের অবাধ চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। পাশাপাশি চোরাশিকারিদের দৌরাত্ম্য, হরিণ শিকারের ফলে তৈরি হওয়া তীব্র খাদ্যসংকট এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আবাসস্থল সংকুচিত হয়ে আসছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভৌগোলিক বিচ্ছিন্নতার কারণে বাঘের মধ্যে জিনগত ও কাঠামোগত পরিবর্তন আসার ঝুঁকি রয়েছে, যা ধীরে ধীরে তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও প্রতিকূল পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার সক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে।

মৃত্যু এবং মানুষ-বাঘ দ্বন্দ্বের খতিয়ান

আইন কঠোর করা সত্ত্বেও গত দুই দশকে বাঘের জন্য সুন্দরবনে টিকে থাকার লড়াই কঠিন থেকে কঠিনতর হয়েছে। গত ২৪ বছরে সুন্দরবনে ৩০টিসহ দেশে মোট ৯১টি বাঘের করুণ মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে পাচারকারী ও চোরাশিকারিদের হাতে নিহত হয়েছে ২৬টি, লোকালয়ে ঢুকে পড়ায় উত্তেজিত গ্রামবাসীর পিটুনিতে প্রাণ হারিয়েছে ১৪টি এবং বনদস্যুদের হাতে মারা পড়েছে ১৮টি। এছাড়া ২১টি বাঘ বার্ধক্যজনিত কারণে স্বাভাবিকভাবে মারা যায় এবং ৩টি মারা যায় বিধ্বংসী প্রাকৃতিক দুর্যোগে।

অন্যদিকে, সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল বনজীবীদের জীবনও কম ঝুঁকিপূর্ণ নয়। এই সময়ে বাঘের আক্রমণে অন্তত ৪২৫ জন বনজীবী প্রাণ হারিয়েছেন। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, ২০২৪ সালের পর থেকে সুন্দরবনে আর কোনো বাঘের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

বাঘ রক্ষায় কঠোর আইন ও বিশেষ পদক্ষেপ

বাঘ সংরক্ষণে স্বাধীনতার পরপরই ১৯৭৩ সালে ‘বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ) আদেশ’ জারির মাধ্যমে বাঘ শিকার আইনগতভাবে নিষিদ্ধ করা হয়। পরবর্তীতে ২০১২ সালে ‘বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন’ সংশোধন করে বাঘ হত্যা, শিকার ও পাচারের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান যুক্ত করা হয়।

আইনি বাধ্যবাধকতার পাশাপাশি বন বিভাগ সুন্দরবনে বেশ কিছু ব্যতিক্রমী সুরক্ষামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে:

  • উঁচু টিলা ও মিষ্টি পানি: প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও জলোচ্ছ্বাসের সময় বাঘ ও বন্যপ্রাণীদের নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ২০টি উঁচু মাটির টিলা (কেল্লা) তৈরি করা হয়েছে এবং সুপেয় পানির ব্যবস্থা করতে খনন করা হয়েছে পুকুর।
  • বেড়া ও নজরদারি: লোকালয়ে বাঘের প্রবেশ ঠেকাতে ৭৫ কিলোমিটার দীর্ঘ নাইলনের বেড়া দেওয়া হয়েছে। এছাড়া শিকারিদের আনাগোনা রয়েছে এমন ২৫টি আশঙ্কাজনক ‘হটস্পট’ চিহ্নিত করে সার্বক্ষণিক ক্যামেরা ট্র্যাপের মাধ্যমে মনিটরিং করা হচ্ছে।
  • প্রজনন মৌসুমে প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা: বাঘের নির্বিঘ্ন প্রজনন নিশ্চিত করতে জুন, জুলাই ও আগস্ট—এই তিন মাস সুন্দরবনে পর্যটক, জেলে ও বাওয়ালিদের প্রবেশ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ রাখা হচ্ছে।

বন বিভাগ যা বলছে

সার্বিক নিরাপত্তা বিষয়ে বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় বর্তমানে সুন্দরবনের বাঘ অনেক বেশি নিরাপদে আছে। ২০২৪ সালের পর এখন পর্যন্ত সুন্দরবনে কোনো বাঘের মৃত্যু ঘটেনি।

তিনি আরও বলেন, “বাঘের আবাসস্থল নিরাপদ রাখতে প্রযুক্তিভিত্তিক ‘স্মার্ট পেট্রলিং’, ড্রোন মনিটরিং এবং নিয়মিত হেঁটে টহল পরিচালনা করা হচ্ছে। চোরাশিকারিদের দমনে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সকলের সম্মিলিত সচেতনতাই পারে আমাদের জাতীয় পশু রয়েল বেঙ্গল টাইগারকে চিরতরে টিকিয়ে রাখতে।”