আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
কেনিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত বিশ্বখ্যাত আমবোসেলি ন্যাশনাল পার্কের সীমান্তবর্তী কৃষিজমিতে বিষাক্ত কীটনাশক স্প্রে করা টমেটো খেয়ে অন্তত ১৫টি হাতির মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এই অকল্পনীয় ঘটনায় দেশটিতে বন্যপ্রাণী রক্ষকদের মাঝে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
কেনিয়া ওয়াইল্ডলাইফ সার্ভিস (কেডব্লিউএস) আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে যে, গত ২৪ জুন থেকে ২৪ জুলাই ২০২৬-এর মধ্যে এক মাসের ব্যবধানে এই ১৫টি হাতির মৃত্যু ঘটেছে। মৃত হাতিগুলোর দেহ থেকে সংগৃহীত নমুনার প্রাথমিক ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় মারাত্মক বিষাক্ত রাসায়নিক ‘সায়ানাইড’-এর উপস্থিতি শনাক্ত করা গেছে।
প্রাথমিক তদন্ত ও মৃত্যুর কারণ
স্থানীয় প্রশাসন ও পার্ক কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, উদ্ধারকৃত হাতিগুলোর মধ্যে ১০টি হাতিকে প্রথমে অবশ বা পক্ষাঘাতগ্রস্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। এর পরবর্তী দুই দিনের মধ্যেই সেগুলো মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। এ ছাড়া বাকি পাঁচটি হাতিকে বনাঞ্চলের বাইরে ইতিমধ্যেই মৃত অবস্থায় উদ্ধার করেন বনকর্মীরা।
মৃত হাতিগুলোর মধ্যে বিভিন্ন বয়স ও লিঙ্গের হাতি রয়েছে, যা ইঙ্গিত দেয় যে এই বিষক্রিয়াটি কেবল নির্দিষ্ট কোনো পরিবারের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। তবে স্থানীয় বন্যপ্রাণী কর্মকর্তারা বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করে জানিয়েছেন, প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে এই ঘটনার পেছনে কোনো পরিকল্পিত অপরাধমূলক বা চোরাশিকারিদের নাশকতামূলক ষড়যন্ত্র নেই। সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করে কর্তৃপক্ষ বলেছে, এই বিষাক্ত উপাদান মানবস্বাস্থ্যের জন্য সরাসরি কোনো তাৎক্ষণিক ঝুঁকি তৈরি করবে না।
আমবোসেলি ইকোসিস্টেম ও মানুষের সংঘাত
তাঞ্জানিয়া সীমান্তের কোলঘেঁষে অবস্থিত বিশাল আমবোসেলি ইকোসিস্টেম বন্যপ্রাণী, বিশেষ করে প্রাকৃতিক পরিবেশে মুক্তভাবে ঘুরে বেড়ানো হাতিদের অন্যতম অভয়ারণ্য হিসেবে বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। ‘আমবোসেলি ট্রাস্ট ফর এলিফ্যান্টস’-এর ২০১৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, এই ইকোসিস্টেমে প্রায় ২,০০০-এর বেশি হাতি বসবাস করে।
বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের মতে, পার্কের আশেপাশের এলাকায় প্রতিনিয়ত কৃষিকাজ ও আবাদি জমির সম্প্রসারণ ঘটায় খাবারের সন্ধানে মাঝেমধ্যেই বনাঞ্চল ছেড়ে লোকালয় ও ফসলি জমিতে চলে আসছে হাতির পাল। কৃষকরা তাদের ফসল বাঁচাতে কীটনাশক ব্যবহার করায় এই দুঃখজনক দুর্ঘটনা ঘটেছে।
গত কয়েক দশকে এই অঞ্চলে চোরাশিকার সফলভাবে নিয়ন্ত্রণ করার পর, একসঙ্গে এত বিপুলসংখ্যক হাতির আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনা এটাই প্রথম। এই ঘটনা বন্যপ্রাণী সুরক্ষার ক্ষেত্রে একটি বড় আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভবিষ্যতে হাতি রক্ষা এবং ফসলি জমিতে অনাকাঙ্ক্ষিত সায়ানাইডযুক্ত কীটনাশকের ব্যবহার রোধে এখন থেকেই জোরদার আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে কেনিয়ার স্থানীয় প্রশাসন।

মোঃ আল আমিন কাজী 



















