নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা:
খুলনা নগরীর দক্ষিণ টুটপাড়া বড় খালপাড় এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে মো. ইসমাইল (৩২) নামে এক যুবলীগ কর্মী নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাত সোয়া ১২টার দিকে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত ইসমাইল একই এলাকার শাজাহান ওরফে পাগলা শাজাহানের ছেলে।
হত্যাকাণ্ডের পর থেকে ওই এলাকায় চরম উত্তেজনা ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
যেভাবে ঘটে হত্যাকাণ্ড
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাতে ইসমাইল দক্ষিণ টুটপাড়া বড় খালপাড় এলাকায় অবস্থান করছিলেন। এ সময় একদল অজ্ঞাত দুর্বৃত্ত তাকে লক্ষ্য করে অতর্কিত গুলি ছোড়ে। এতে সরাসরি তার মাথায় গুলি লাগে এবং তিনি গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
পরে স্থানীয় লোকজন তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাকে মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে রাতেই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রাথমিক আলামত সংগ্রহ করে তদন্ত শুরু করে।
কী বলছে পুলিশ?
খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দুর্বৃত্তরা প্রথমে ইসমাইলের মাথায় গুলি করে। পরে তার মৃত্যু নিশ্চিত করতে ধারালো অস্ত্র দিয়েও আঘাত করা হয়েছে বলে আলামত পাওয়া গেছে।
ওসি আরও জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে গুরুত্বপূর্ণ আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
একাধিক মামলার আসামি ছিলেন ইসমাইল
স্থানীয়দের দাবি, নিহত ইসমাইল এলাকায় একজন অস্ত্রধারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং তার বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসারও অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে হত্যা ও পুলিশের ওপর হামলাসহ একাধিক মামলা বিচারাধীন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মামলার নথিপত্র যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। একই সঙ্গে এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে পূর্বশত্রুতা, আধিপত্য বিস্তার, মাদক সংক্রান্ত বিরোধ নাকি অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে।

মোঃ আল আমিন কাজী 



















