নেহা আফরিন, সাভার (ঢাকা) প্রতিনিধি:
ঢাকার সাভার মডেল থানাধীন তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের হেমায়েতপুরে একটি ক্রয়কৃত বাড়ি জোরপূর্বক দখলে নিতে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ছেলেকে মিথ্যা হত্যা মামলায় ফাঁসানো এবং স্ত্রীকে পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে একটি দখলদার চক্রের বিরুদ্ধে। গত দেড় বছর ধরে চলা এই চরম নৈরাজ্য ও হয়রানির শিকার পরিবারটি বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। থানায় একাধিকবার অভিযোগ জানিয়েও কোনো আইনি সহায়তা পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
ঘটনার সূত্রপাত ও চাঁদা দাবি
জানা যায়, ভুক্তভোগী আলী হোসেন ২০২১ সালে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও প্রতিবেশীদের অবগত করে তৎকালীন সর্বোচ্চ বাজারমূল্যে একটি বাড়ি ক্রয় করেন। কিন্তু গত দেড় বছর ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র ওই বাড়িটি তাদের নামে লিখে দেওয়ার জন্য আলী হোসেন ও তার পরিবারকে ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করে আসছে। বাড়ি ছেড়ে না দিলে তাদের কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দিতে হবে বলে হুমকি দিচ্ছে চক্রটি।
ভাড়াটিয়াদের হুমকি ও ব্যাপক ভাঙচুর
অভিযোগ রয়েছে, দাবি করা চাঁদা ও বাড়ি না পেয়ে চক্রের অভিযুক্ত সদস্য মামলত খাঁ, রকি খাঁ, সাইফুল খাঁ, জুয়েল খাঁ ও লুৎফর খাঁসহ তাদের সঙ্গীরা বাড়ির ভাড়াটিয়াদের নানাভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হুমকি দিয়ে আসছে। তারা বেশ কয়েকবার বাড়ির পানির পাইপ ও পানির ট্যাংকি কেটে দিয়েছে। এ ছাড়া পানির মোটর চুরি এবং এসি ভাঙচুর করে ব্যাপক আর্থিক ক্ষতি সাধন করেছে। এসব ঘটনায় সাভার মডেল থানায় একাধিকবার অভিযোগ দায়ের করা হলেও এখন পর্যন্ত পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকরী আইনি সহায়তা পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী আলী হোসেনের।
মিথ্যা মামলা ও হত্যার চেষ্টা
বাড়িটি দখল করার হীন উদ্দেশ্যে চক্রটি আলী হোসেনের ছেলে আল আরাফাতকে (২১) উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ২০২৪ সালের একটি ছাত্র হত্যা মামলায় আসামি করেছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। চক্রটির বর্বরতা এখানেই থেমে থাকেনি। এর আগে আলী হোসেনের স্ত্রী লায়লা আলীর গায়ে পেট্রোল ঢেলে তাকে পুড়িয়ে হত্যার ভয়াবহ চেষ্টাও করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এসব ন্যাক্কারজনক ঘটনায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে আলী হোসেনের পরিবার ও বাড়ির ভাড়াটিয়ারা। জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং দখলদার চক্রের হাত থেকে নিজেদের সম্পদ রক্ষায় তারা দ্রুত প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কঠোর হস্তক্ষেপ ও সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।

মোঃ আল আমিন কাজী 



















