মোঃ রাশেদুল ইসলাম, পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি:
পঞ্চগড় সীমান্ত এলাকায় সব ধরনের চোরাচালান ও সীমান্ত অপরাধ নির্মূলে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কার্যক্রমে যুক্ত হলো আরও একটি নতুন ফাঁড়ি। নীলফামারী ব্যাটালিয়ন (৫৬ বিজিবি)-এর আওতাধীন ঘাগড়া ও টোকাপাড়া বিওপির মধ্যবর্তী স্থানে নতুন নির্মিত ‘মাধুপাড়া বিওপি’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট ২০২৬) সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে বিওপিটির উদ্বোধন করেন বিজিবির উত্তর পশ্চিম রিজিয়ন (রংপুর)-এর রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ এস এম নাছের, পিএসসি, জি+।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে ৫৬ বিজিবির নীলফামারী ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক, ১৮ বিজিবির পঞ্চগড় ব্যাটালিয়ন অধিনায়কসহ বিজিবির বিভিন্ন স্তরের উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনী বক্তব্যে রিজিয়ন কমান্ডার বলেন, “বিজিবি সদস্যরা দিন-রাত প্রতিকূল আবহাওয়া ও পরিবেশ মানিয়ে নিয়ে মাতৃভূমির অখণ্ডতা ও সীমান্ত রক্ষার মহান দায়িত্ব পালন করে আসছেন।” দেশের সীমান্ত সুরক্ষার এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সুচারুরূপে পালন করতে সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্য সরবরাহের মাধ্যমে সব মহলকে সহযোগিতার আহ্বান জানান তিনি।
সুশীল সমাজ ও সংবাদকর্মীদের ভূমিকা উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, অতীতের মতো ভবিষ্যতেও স্থানীয় জনগণ, গণমাধ্যমকর্মী ও সুশীল সমাজ বিজিবির পাশে থাকবেন। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় নবগঠিত মাধুপাড়া বিওপির মাধ্যমে সীমান্তে অপরাধ দমন এবং শান্তিময় সহাবস্থান বজায় রাখা সম্ভব হবে।
সীমান্ত পরিস্থিতি ও পুশইন রোধ নিয়ে রিজিয়ন কমান্ডার বলেন, সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে অবৈধ অনুপ্রবেশ বা পুশইনের মতো ঘটনা প্রতিরোধে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ অত্যন্ত সতর্ক ও দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে বিজিবি সীমান্তে কঠোর নজরদারি জোরদার, অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধ, নিয়মিত পতাকা বৈঠক, কূটনৈতিক বার্তা আদান-প্রদান এবং দেশীয় আইনগত প্রক্রিয়া কঠোরভাবে অনুসরণ করে যাচ্ছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিজিবি এখন একটি আধুনিক ত্রিমাত্রিক বাহিনী হিসেবে দেশের সীমান্ত রক্ষার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা এবং বিভিন্ন জনকল্যাণমুখী কাজে অনন্য অবদান রাখছে।
এদিকে সীমান্ত এলাকায় নতুন এই বিওপি চালুর সিদ্ধান্তে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। স্থানীয়দের আশা, মাধুপাড়া বিওপি সক্রিয় হওয়ায় সীমান্তবর্তী অপরাধ, চোরাচালান ও অবৈধ পারাপার উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে এবং এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা জোরদার হবে।

মোঃ আল আমিন কাজী 



















