ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন আইন ২০২৬-এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দিল মন্ত্রিসভা ‘বেদের মেয়ে জোসনা’ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে নির্মিত হচ্ছে নতুন ধারাবাহিক নাটক জনপদের খবর অর্থনৈতিক চাপ সামরিক ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যর্থতার স্বীকারোক্তি: আইআরজিসি ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আজকের নামাজের সময়সূচি (২৪ আগস্ট ২০২৬) আশুলিয়ায় প্রতারক ও অপহরণকারী চক্রের দুই নারীসহ ৫ সদস্য আটক নির্ধারিত দামে সার বিক্রির নির্দেশ বিএফএর: নীতিমালা ভাঙলে ডিলারশিপ বাতিলের হুঁশিয়ারি মেসির গোলে আশা জাগিয়েও হার: টানা এক মাস জয়হীন ইন্টার মায়ামি আজ বঙ্গভবনে উঠছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জাতীয় স্মৃতিসৌধে বীর শহীদদের প্রতি নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের শ্রদ্ধা ঢাকার ৪১৬ বছর পূর্তিতে বুড়িগঙ্গায় জমজমাট নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত ইতিহাস থেকে শিক্ষা না নেওয়ায় শেখ হাসিনার পতন হয়েছে: তথ্যমন্ত্রী দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মৌচাকে ফুট ওভারব্রিজের দাবিতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ, দীর্ঘ যানজট পবিত্র জুমার গুরুত্ব, বিশেষ ফজিলত ও হাদিস অনুযায়ী করণীয় আমল

পবিত্র জুমার গুরুত্ব, বিশেষ ফজিলত ও হাদিস অনুযায়ী করণীয় আমল

পবিত্র জুমার গুরুত্ব, ফজিলত ও হাদিস অনুযায়ী করণীয় আমল | জনপদের খবর

ধর্ম ও জীবন ডেস্ক, জনপদের খবর:

ইসলামের দৃষ্টিতে সপ্তাহজুড়ে দিনগুলোর মধ্যে জুমার দিনকে শ্রেষ্ঠ এবং অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ দিন হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এ দিনের গুরুত্ব ও তাৎপর্য মহান আল্লাহর কাছে এতই বেশি যে, পবিত্র কুরআনে ‘জুমা’ নামে একটি পূর্ণাঙ্গ স্বতন্ত্র সূরা নাজিল করা হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা নির্দেশ দিয়েছেন—“হে মুমিনগণ! জুমার দিন যখন নামাজের আহ্বান জানানো হয়, তখন আল্লাহর স্মরণে এগিয়ে যাও এবং বেচাকেনা ত্যাগ করো। এটিই তোমাদের জন্য কল্যাণকর, যদি তোমরা জানতে।”

হাদিস শরিফে জুমার দিনের বিশেষ পাঁচটি বৈশিষ্ট্য ও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ আমলের বিবরণ পাওয়া যায়:

১. জুমার দিনের ঐতিহাসিক ও আধ্যাত্মিক মর্যাদা:

হজরত আবু লুবাবা বিন আবদুল মুনজির (রা.) বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) জানান, এই দিনে আল্লাহ তায়ালা আদি পিতা আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করেছেন, তাঁকে জমিনে প্রেরণ করেছেন এবং এদিনেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া জুমার দিনে এমন একটি সময় রয়েছে, যখন কোনো বান্দা হারাম কিছু ছাড়া যেকোনো উত্তম বিষয় প্রার্থনা করলে আল্লাহ তা কবুল করেন। সর্বোপরি এই দিনেই কিয়ামত সংঘটিত হবে (ইবনে মাজাহ: ৮৯৫)।

২. জুমার নামাজ ও পাপ মোচন:

জুমার নামাজ আদায়ের মাধ্যমে বান্দার পূর্ববর্তী গুনাহ মাফ হয়। সালমান ফারসি (রা.) বর্ণিত হাদিসে নবীজি (সা.) ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি জুমার দিন যথাযথভাবে গোসল ও পবিত্রতা অর্জন করে, তেল-সুগন্ধি মেখে মসজিদে যায় এবং অন্য মুসল্লিদের টপকে না গিয়ে নির্ধারিত নামাজ শেষে ইমামের খুতবা মনোযোগ দিয়ে শোনে, আল্লাহ তার দুই জুমার মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহ মাফ করে দেন (সহিহ বুখারি: ৮৮৩)। অন্য হাদিসে বলা হয়েছে, কবিরা গুনাহ থেকে বিরত থাকলে এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমার মধ্যবর্তী ছোট গুনাহগুলো ক্ষমা হয়ে যায় (মুসলিম: ২৩৩)।

৩. আগে মসজিদে যাওয়ার অসীম সওয়াব:

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত হাদিস অনুযায়ী, জুমার দিনে সবার আগে মসজিদে প্রবেশকারী ব্যক্তি যেন একটি উট কোরবানি করার সওয়াব পায়। পর্যায়ক্রমে পরবর্তী মুসল্লিরা গরু, ছাগল, মুরগি ও ডিম সদকা করার সমপরিমাণ সওয়াব অর্জন করেন। ইমাম খুতবা দিতে দাঁড়ালে ফেরেশতারাও খাতা বন্ধ করে খুতবা শুনতে বসে যান (সহিহ বুখারি: ৮৪১)। এছাড়া আউস বিন আউস (রা.) বর্ণিত হাদিস মতে, আগে গিয়ে ইমামের কাছে বসে মনোযোগ দিয়ে খুতবা শুনলে প্রতি কদমে এক বছরের নফল নামাজ ও রোজার সওয়াব লাভ হয় (আবু দাউদ: ৩৪৫)।

৪. দোয়া কবুলের বিশেষ মুহূর্ত:

জুমার দিনে দোয়া কবুলের একটি বিশেষ মুহূর্ত রয়েছে। হজরত জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) নির্দেশ দিয়েছেন আসরের শেষ ভাগে এই বিশেষ মুহূর্তটি অনুসন্ধান করতে (আবু দাউদ: ১০৪৮)।

৫. সূরা কাহাফ ও বেশি বেশি দরুদ পাঠ:

আবু সাইদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, জুমার দিন সূরা কাহাফ তিলাওয়াত করলে তা পরবর্তী জুমা পর্যন্ত ব্যক্তির জন্য আলোর দিশারি হয়ে থাকে এবং শেষ ১০ আয়াত তিলাওয়াতকারী দাজ্জালের ফেতনা থেকে সুরক্ষিত থাকে (সহিহ তারগিব: ১৪৭৩)। পাশাপাশি এ দিনে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠের তাগিদ দেওয়া হয়েছে; কারণ এ দিনে পাঠ করা দরুদ সরাসরি তাঁর কাছে পেশ করা হয় (আবু দাউদ)।

জনপ্রিয় সংবাদ

আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন আইন ২০২৬-এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দিল মন্ত্রিসভা

পবিত্র জুমার গুরুত্ব, বিশেষ ফজিলত ও হাদিস অনুযায়ী করণীয় আমল

আপডেট সময় : ০৮:৪৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬

ধর্ম ও জীবন ডেস্ক, জনপদের খবর:

ইসলামের দৃষ্টিতে সপ্তাহজুড়ে দিনগুলোর মধ্যে জুমার দিনকে শ্রেষ্ঠ এবং অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ দিন হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এ দিনের গুরুত্ব ও তাৎপর্য মহান আল্লাহর কাছে এতই বেশি যে, পবিত্র কুরআনে ‘জুমা’ নামে একটি পূর্ণাঙ্গ স্বতন্ত্র সূরা নাজিল করা হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা নির্দেশ দিয়েছেন—“হে মুমিনগণ! জুমার দিন যখন নামাজের আহ্বান জানানো হয়, তখন আল্লাহর স্মরণে এগিয়ে যাও এবং বেচাকেনা ত্যাগ করো। এটিই তোমাদের জন্য কল্যাণকর, যদি তোমরা জানতে।”

হাদিস শরিফে জুমার দিনের বিশেষ পাঁচটি বৈশিষ্ট্য ও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ আমলের বিবরণ পাওয়া যায়:

১. জুমার দিনের ঐতিহাসিক ও আধ্যাত্মিক মর্যাদা:

হজরত আবু লুবাবা বিন আবদুল মুনজির (রা.) বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) জানান, এই দিনে আল্লাহ তায়ালা আদি পিতা আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করেছেন, তাঁকে জমিনে প্রেরণ করেছেন এবং এদিনেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া জুমার দিনে এমন একটি সময় রয়েছে, যখন কোনো বান্দা হারাম কিছু ছাড়া যেকোনো উত্তম বিষয় প্রার্থনা করলে আল্লাহ তা কবুল করেন। সর্বোপরি এই দিনেই কিয়ামত সংঘটিত হবে (ইবনে মাজাহ: ৮৯৫)।

২. জুমার নামাজ ও পাপ মোচন:

জুমার নামাজ আদায়ের মাধ্যমে বান্দার পূর্ববর্তী গুনাহ মাফ হয়। সালমান ফারসি (রা.) বর্ণিত হাদিসে নবীজি (সা.) ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি জুমার দিন যথাযথভাবে গোসল ও পবিত্রতা অর্জন করে, তেল-সুগন্ধি মেখে মসজিদে যায় এবং অন্য মুসল্লিদের টপকে না গিয়ে নির্ধারিত নামাজ শেষে ইমামের খুতবা মনোযোগ দিয়ে শোনে, আল্লাহ তার দুই জুমার মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহ মাফ করে দেন (সহিহ বুখারি: ৮৮৩)। অন্য হাদিসে বলা হয়েছে, কবিরা গুনাহ থেকে বিরত থাকলে এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমার মধ্যবর্তী ছোট গুনাহগুলো ক্ষমা হয়ে যায় (মুসলিম: ২৩৩)।

৩. আগে মসজিদে যাওয়ার অসীম সওয়াব:

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত হাদিস অনুযায়ী, জুমার দিনে সবার আগে মসজিদে প্রবেশকারী ব্যক্তি যেন একটি উট কোরবানি করার সওয়াব পায়। পর্যায়ক্রমে পরবর্তী মুসল্লিরা গরু, ছাগল, মুরগি ও ডিম সদকা করার সমপরিমাণ সওয়াব অর্জন করেন। ইমাম খুতবা দিতে দাঁড়ালে ফেরেশতারাও খাতা বন্ধ করে খুতবা শুনতে বসে যান (সহিহ বুখারি: ৮৪১)। এছাড়া আউস বিন আউস (রা.) বর্ণিত হাদিস মতে, আগে গিয়ে ইমামের কাছে বসে মনোযোগ দিয়ে খুতবা শুনলে প্রতি কদমে এক বছরের নফল নামাজ ও রোজার সওয়াব লাভ হয় (আবু দাউদ: ৩৪৫)।

৪. দোয়া কবুলের বিশেষ মুহূর্ত:

জুমার দিনে দোয়া কবুলের একটি বিশেষ মুহূর্ত রয়েছে। হজরত জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) নির্দেশ দিয়েছেন আসরের শেষ ভাগে এই বিশেষ মুহূর্তটি অনুসন্ধান করতে (আবু দাউদ: ১০৪৮)।

৫. সূরা কাহাফ ও বেশি বেশি দরুদ পাঠ:

আবু সাইদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, জুমার দিন সূরা কাহাফ তিলাওয়াত করলে তা পরবর্তী জুমা পর্যন্ত ব্যক্তির জন্য আলোর দিশারি হয়ে থাকে এবং শেষ ১০ আয়াত তিলাওয়াতকারী দাজ্জালের ফেতনা থেকে সুরক্ষিত থাকে (সহিহ তারগিব: ১৪৭৩)। পাশাপাশি এ দিনে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠের তাগিদ দেওয়া হয়েছে; কারণ এ দিনে পাঠ করা দরুদ সরাসরি তাঁর কাছে পেশ করা হয় (আবু দাউদ)।