নিজস্ব প্রতিবেদক, জনপদের খবর:
রাজনীতিতে ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি উল্লেখ করে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, ইতিহাস থেকে শিক্ষা না নেওয়ার কারণেই শেখ হাসিনার পতন হয়েছে এবং তাঁকে দেশ ছেড়ে চলে যেতে হয়েছে। শিক্ষা নিলে তাঁর রাজনৈতিক পথচলা বড়জোর প্রধানমন্ত্রীর আসন থেকে বিরোধীদলীয় নেতার আসনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকত এবং জনগণের সম্মতি ও ম্যান্ডেট নিয়েই রাজনীতি করতে হতো।
শুক্রবার (২১ আগস্ট ২০২৬) বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে সাংবাদিক ও লেখক ইমরুল কায়েস রচিত ‘তারেক রহমান: নিষিদ্ধ সময়ে নিষিদ্ধ প্রচার’ গ্রন্থের প্রকাশনা উৎসবে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রকাশনা সংস্থা ‘মাতৃভাষা প্রকাশ’ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
বাংলাভিশন টেলিভিশনের প্রধান সম্পাদক ড. আবদুল হাই সিদ্দিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, অ্যাডভোকেট এ কে এম সেলিম রেজা হাবিব, তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট নজমুল হক নান্নু, বিএফইউজের মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী এবং মাতৃভাষা প্রকাশের প্রকাশক নেসার উদ্দীন আয়ূব।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, অতীতে শিক্ষা নেওয়া হয়েছে কি না, তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ শেখ হাসিনা। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত তাঁর দেশত্যাগের দৃশ্যই প্রমাণ করে যে তিনি ইতিহাস থেকে কোনো শিক্ষা নেননি।
তারেক রহমানকে নিষিদ্ধ করার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, “তারেক রহমানকে শুধু দেশের বাইরে পাঠিয়েই ক্ষান্ত হয়নি তৎকালীন সরকার, দেশের সাধারণ মানুষ যাতে তাঁর কোনো বক্তব্য, চিন্তা বা সংবাদ জানতে না পারে, সে জন্য সব ধরনের তথ্য ও প্রচারের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। লেখক ইমরুল কায়েস তাঁর বইয়ে সেই অন্ধকার সময় ও অবরুদ্ধ সত্যের দলিলকে অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে তুলে ধরেছেন।”
তথ্যমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, ক্ষমতার মসনদ থেকেই ভিন্নমত দমন, হত্যা কিংবা কণ্ঠরোধ করার মতো ফ্যাসিবাদী মানসিকতার জন্ম হয়। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী চক্রান্তের মাধ্যমে জনগণের সম্মিলিত স্পৃহাকে কিছু সময়ের জন্য দমিয়ে রাখতে পারলেও চিরকালের জন্য সত্যকে আড়াল করা যায় না। বইটি কেবল তারেক রহমানের রাজনৈতিক সংগ্রামের দস্তাবেজ নয়, বরং ফ্যাসিবাদী মনোজগতের বিভিন্ন দিক উন্মোচনে রাজনীতি সচেতন পাঠকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে কাজ করবে।

মোঃ আল আমিন কাজী 



















